১৪ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরগুনায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত... বরগুনায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জ॥... আমতলীতে সময় মেডিকেয়ার এন্ড হসপিস এর ক্লিনিক্যাল... ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে... সনাতন ধর্মালম্বিদের আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা

পাইকগাছায় পীর জাফর আউলিয়ার মাজারটির স্মৃতি ধ্বংসের পথে

 ইমদাদুল হক,পাইকগাছা সমকালনিউজ২৪

পাইকগাছার কপিলমুনির কেন্দ্রস্থলে পীর জাফর আউলিয়ার মাজার অবস্থিত।এই মাজারে প্রতিদিন শতশত লোকের সমাবেশ হয়। বিভিন্ন ধর্মের লোক এখানে মিলিত হয়। এই মাজারের অন্যনাম ফকির বাসা কারণ জাফর আউলিয়ার আগমনের পরে অনেক শিষ্য সামন্ত প্রবল আকারে জুটে যায়। ওনার এক বিশেষ শিষ্য কপিলমুনির অদুরেই রেজাকপুর গ্রামে বরবাস করতেন।সেখান থেকে তাঁর বংশধররা পরম্পরায় আজও এই ফকিরের চেলা হন এবং তারাই এখানের এই মাজারের উপস্বত্তভোগী। কালের বিবর্তনে এই মাজারের অনেক পরিবর্তন হয়েছে।

উত্তরে সরকারি হাসপাতাল, পশ্চিমে কপিলমুনি বাজার, পূর্বে জাফর আউলিয়া মাদ্রাসা, দক্ষিণ-উত্তর কোণে কপিলেশ্বরী কালীবাড়ি, আর এরই মাঝে অবস্থিত পীর জাফর আউলিয়া (রহঃ) এর মাজার। কয়েক দশক আগেও মাজারটি চারপাশে খোলা জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ সৌন্দয্য রক্ষার পাশাপাশি আগতদের শীতল ছায়া দিয়ে ক্লান্তি দুর করেছে। বর্তমানে মাজারের পুকুরটি মাটি দিয়ে ভরাটে কাজ চলছে। ধীরে চার পাশে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও বসতী স্থাপনের ফলে মাজারটির স্মৃতি ধ্বসের পথে।উপজেলা হতে প্রায় ১৫ কিঃমিঃ দুরে বিখ্যাত বাজার কপিলমুনিতে এটি অবস্থিত।বাস, ভ্যান, ইজিবাইক এবং মোটর সাইকেলযোগে যেতে পারবেন।এ মাজারের পীরকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য কীর্তিগাঁথা। আর রয়েছে অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য।

স্থানীয় একাধিক প্রবীণ ব্যক্তিদের তথ্য মতে, আজ থেকে কয়েকশত বছর আগে সাধক পীরজাফর আউলিয়া (রহঃ) কপিলমুনিতে ধর্ম প্রচারের জন্য আসেন। তখন এ অঞ্চল ছিল বনজঙ্গলে ভরা, সুন্দরবনের একটি অংশ বলাচলে। এই নির্জন স্থানেই সাধনা আশ্রম গড়ে তোলেন পীরজাফর আউলিয়া। তিনি হজরত খাজা খানজাহান আলী (রহঃ)-এর শিষ্য ছিলেন। তবে কোনো সময় তিনি কপিলমুনিতে আসেন এর সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সে সময় বেতবনে ঘেরা কপিলমুনিতে যে সাধনা আশ্রম গড়ে তোলেন তার স্মৃতিচিহ্ন এখনো রয়েছে। তার অসংখ্য শিষ্য ও ভক্ত ছিল। আর সাধনা আশ্রমেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। সেখানে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।প্রথমত তাঁর সমাধিস্থল মারাত্মকভাবে অবহেলিত ছিল। ১৯৬৯ সালের দিকে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার প্রয়াত শেখ রাজ্জাক আলী তৎকালীণ প্রায় ৮ শত টাকা খরচ করে শেখ নেছার আলীর তত্বাবধানে মাজারটি সংস্কার করান। তারপর ৩ দফায় সরকারি ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে তিনি দর্শনীয় একটি মাজারে রূপ দেন।

১৯৫৮ সালে তাঁর নামানুসারে এলাকার কিছু প্রগতিশীল মানুষের প্রচেষ্টায় জাফর আউলিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হয়। সাবেক স্পীকার প্রয়াত শেখ রাজ্জাক আলী নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে মাজার প্রাঙ্গণে জাফর আউলিয়া জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।প্রতিদিন পীরের মাজারে অসংখ্য ভক্ত সমাগত হয়। সাম্প্রদায়িক বিভেদ ভুলে যুগ যুগ ধরে হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ মানত ও শিরনি নিয়ে আসেন করুণা প্রত্যাশার আশায়।

তাছাড়া চৈত্র মাসে কপিলমুনি কপোতাক্ষ নদে বারুনি স্নান উপলক্ষে মাসব্যাপী মাজারের চার পাশে বসতো রকমারি দোকান নিয়ে মেলা। কপিলমুনি-কাঠামারী সড়কটির নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামানুসারে ‘জাফর আউলিয়া সড়ক’। পীরজাফর আউলিয়াকে (রহঃ) ঘিরে রয়েছে অনেক অলৌকিক কাহিনী।

মাজারের এক জন খাদেম জানান, আমরা বংশ পরমপরায় মাজারের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সাবেক স্পীকার শেখ রাজ্জাক আলী মাজারের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রশীদুজ্জামানের উদ্যোগে মাজারের সামনে ভক্তদের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
Uncategorized বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে