২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরিশাল শেবাচিমে ময়লার স্তূপে মিললো ২২ অপরিণত শিশুর... স্বামীর লাশ ওয়ারড্রবে রেখে অফিস করলেন স্ত্রী! ঐক্যফ্রন্টকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবিতে মানববন্ধন বন্য হাতির আক্রমণে নিহত জাসদ নেতা সাইমুন কনক

পাথরঘাটায় ইউএনও’র হস্তক্ষেপে অর্ধশতাধিক শিশু শিক্ষার্থীরা বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেয়ে দেখছে শিক্ষার আলোয় জীবন গড়ার স্বপ্ন।

 মো.জাফর ইকবাল,পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি। সমকাল নিউজ ২৪

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ হুমায়ূন কবির এর হস্তক্ষেপে প্রায় অর্ধশতাধিক বাল্য বিয়ে বন্ধ হয়েছে। বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়া শিশু শিক্ষার্থীরা দেখছে সু-শিক্ষীত হয়ে দেশ ও সুন্দর জীবন গড়ার স্বপ্ন।

জানা গেছে অক্টোবর ২০১৭ সালে মোঃ হুমায়ূন কবির উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে পাথরঘাটায় যোগদান করেন। তিনি পাথরঘাটায় যোগদান করার পূর্বে মাদক,ইভটিজিং ,বাল্য বিয়েসহ শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই নাজুক ছিল । বখাটের ভয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে যেমনি ভয় পেত তেমনি কতিপয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছিল।

অপর দিকে বাল্য বিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধিতে রুপনিয়ে ছিল। যার ফলে ২০১৭ সালে বাল্য বিয়ের কারনে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারেনি। এছাড়া বাল্য বিয়ের কারনে বিবাহ বিচ্ছেদসহ নারীনির্যাতন ও যৌতুক সংক্রন্ত মামলা ভয়াবহ ভাবে রুপনিয়েছিল। নির্বাহী অফিসার মোঃ হুমায়ূন কবির পাথরঘাটায় যোগদান করার পরে বাল্য বিবাহ নিরোধ,মাদক নির্মূল ও ইভটিজিং বন্ধসহ অপরাধ দমনে কঠর হস্থক্ষেপ গ্রহণ করা ছাড়াও শিক্ষা ব্যবস্থার মান-উন্নয়নেও নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তিনি পাথরঘাটায় যোগদান করার পরে উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের তালুকের চরদুয়ানীর মো. জামালের মেয়ে রুমি আক্তার (১৭) কাঠালতলীর মো. মিজানুর রহমানের মেয়ে মোসাঃ খাদিজাতুননেছা (১৪) কাকচিড়া ইউনিয়নের রুপদোন গ্রামের মো. মোস্তফার মেয়ে শারমিন আক্তার (১৭) পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামের মো. আশ্রাব আলীর মেয়ে মোসাঃ কারিমা (১৫) একই ইউনিয়নের বড় টেংরা গ্রামের জাফর মল্লিকের মেয়ে মোসাঃ নফিজা আক্তার (১৫) চরদুয়ানী ইউনিয়নের তাফালবাড়ীয়া গ্রামের আঃ খালেক এর মেয়ে মোসাঃ তামান্না আক্তার (১৫) একই গ্রামের মো. হানিফার মেয়ে আমেনা খাতুন (১৫) পূর্ব কালমেঘা গ্রামের মোঃ খলিল এর মেয়ে মোসাঃ হিরা আক্তার (১৫)সহ প্রায় অর্ধশতাধিক বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন।

এছাড়াও তিনি বাল্য বিয়ে বন্ধের ব্যাপারে বিবাহ রেজিষ্ট্রার (কাজীদের) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অপ্রাপ্ত ছেলে-মেয়েদের বিয়ের রেজিষ্ট্রী করলে তার শাস্তি সম্পর্কে ধারণা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে ধারণা, জনপ্রতিনিধি ও মসজিদের ইমামাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাল্য বিয়ের কুফুল এবং বাল্য বিয়ের আইন সম্পর্কে সচেতনকরা, গণমাধ্যমকর্মীদেরকে সভার মাধ্যমে বাল্য বিয়ের সকল বিষয়ে অবহিত করে ব্যাপক ভাবে প্রচারকরাসহ বহুবিধ কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন। এসকল কর্মসূচী ও যথা-যথ ভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায়ই শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে সমাজের ভয়াবহ ব্যাধি বাল্য বিবাহ।

শিক্ষার মানউন্নয়নেও তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ইহার মধ্যে সরকার ঘোষিত (এসডিজি) এর অন্যতম লক্ষ্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে ২০১৭ উপজেলার এসএসসি পর্যায়ে সকল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মধ্যমে “উপজেলা প্রশাসন গোল্ড মেডেল প্রতিযোগীতা’। উপজেলার প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বাছাই পরীক্ষায় যারা ১ম, ২য় ও ৩য় হয়েছে তাদেরকে নিয়ে প্রথমবারের মত ২০১৭ সনে উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রশ্নপত্রে একটি পরীক্ষা নিয়ে অফিসারদের সমন্বয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা।

জেলা প্রশাসক, বরগুনা এর মাধ্যমে মেধা অন্বেষণ গোল্ড মেডেল প্রতিযোগীতা-২০১৭ এর আয়োজন করে প্রথম স্থান অধিকারীকে গোল্ড মেডেল, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে রৌপ্য মেডেল এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ব্রোঞ্জ মেডেল প্রদান করা। উল্লেখ্য প্রতিযোগীতায় যারা পুরস্কার পেয়েছে তারা সবাই এসএসসি ২০১৭ এ পরীক্ষায় গোল্ডেন এপ্লাস পেয়েছে এবং ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছে। ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে মেধা অন্বেষণ-২০১৮ পরীক্ষা নেয়া হয়েছে এবং উত্তরপত্র মূল্যায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা মহাবিদ্যালয় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মল্লিক, নাচনাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদ হোসেন, বরগুনা জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেন জোমাদ্দার, পাথরঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. ছগির হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন বাল্য বিয়ে পাথরঘাটায় একটি ব্যাধিতে রুপনিয়েছিল, বাল্য বিয়ের কারনে এখানে বিবাহ বিচ্ছেদসহ নারীনির্যাতন ও যৌতুক সংক্রন্ত মামলা বেড়েই চলছিল। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুমায়ূন কবির এর হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহ প্রায়ই বন্ধ হয়েছে। তারা বলেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার হুমায়ূন কবির একজন নীতিবান ও পরিশ্রমী। তিনি উপজেলার কোন স্থানে বাল্য বিবাহসহ কোন অপরাধের কথা শুনলেই স্ব-শরীরে যথা-যথ স্থানে গিয়ে উপস্থিত হন ও অপরাধ দমন করেন। উল্লেখিত ব্যক্তিরা মনে করেন এ ধারা অব্যাহত থাকলে পাথরঘাটায় বাল্য বিবাহসহ সকল অপরাধ নির্মূল হবে।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হুমায়ূন কবির এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিবাহ বিচ্ছেদ,বহুবিবাহ, নারীনির্যাতন ও যৌতুক সংক্রন্ত মামলার মূলেই রয়েছে বাল্য বিবাহ। তাই যেমন করেই হোক সকলের সহযোগীতায় বাল্য বিবাহ বন্ধকরাসহ অন্যান্য অপরাধ দমন এবং শিক্ষাব্যবস্থার মান-উন্নয়ন করে পাথরঘাটা উপজেলাকে অপরাধমুক্ত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে পরিচিত করতে চাই।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
বরগুনা বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে