২৪শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১১ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
তানিয়ার চোখ দিয়ে বের হচ্ছে পাথর, ধান ও পাতা! ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় প্রেমিকের প্রতারণা, ভিডিও কলে জীবন দিল ইডেন ছাত্রী! রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন, মসজিদসহ ৩০ ঘর ভস্মীভূত রাজশাহীর চারঘাটে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে...

পার্বতীপুরে দুই হাতের কব্জি ও ডান পা বিহীন এসএসসি পরীক্ষার্থী সাকিব।

 আব্দুল্লাহ আল মামুন / পার্বতীপুর প্রতিনিধি। সমকাল নিউজ ২৪

দুই হাতের কব্জি নাই। নেই ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশও। জন্ম থেকে এ অবস্থা। কিন্তু অদম্য শক্তি তাঁকে এখন পর্যন্ত আটকে রাখতে পারেনি। প্রতিবন্ধি এ কিশোর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মন্মথপুর কো-অপারেটিভ হাইস্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তার ভেন্যু কেন্দ্র যশাই উচ্চ বিদ্যালয়।

সরজমিনে এ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, অদম্য কিশোর কব্জিবিহীন দুই হাতের মাঝখানে কলম চেপে ধরে প্রশ্নের উত্তর লিখে চলেছে।

এই পরীক্ষার্থীর নাম নাজমুস সাকিব (১৬)। সে মমিনপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর সরদারপাড়া গ্রামে প্রান্তিক চাষী আজিম উদ্দীনের ছেলে। তার মায়ের নাম হোসনে আরা। মা বাবা ও তিন ভাই পাঁচ সদস্যের পরিবারে সাকিব ছোট। বড় ভাই রোকনুজ্জামান হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগের ২য় বর্ষে অধ্যায়ন করছে এবং মেজো ভাই আখেরুজ্জামান দিনাজপুর সরকারী পলিটেকনিক্যাল কলেজে মেকানিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমার শেষ বর্ষের ছাত্র।

নাজমুস সাকিব বলে, জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৪.৪০ পয়েন্ট পেয়ে সে উত্তীর্ণ হয়। এসএসসি তে সে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিলেও আগামীতে মানবিক বিভাগে পড়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। সেই সাথে সাংবাদিকতা বিভাগে সন্মান ও মাস্টার্স করে একজন বড় মাপের সাংবাদিক হতে চায়।

সাকিবের বাবা আজিম উদ্দীন বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমার এ ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ৫ বছর বয়সে সে হাঁটা শেখে। এর পর তাকে দেয়া হয় ব্রাক স্কুলে। সেখান থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করলে মন্মথপুর কো-অপারেটিভ হাইস্কুলে ভর্তি করি। পরবর্তীতে জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এবারে সে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

স্থানীয় বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা সংস্থা কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ) এর আর্থিক সহায়তায় সাকিব লেখাপড়া করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মন্মমথপুর কো-অপারেটিভ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ বলেন, নাজমুস সাকিব তার স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে পড়ে আসছে। জেএসসিতে সে ভালো ফল করেছে। এসএসসিতেও সে ভালো করবে বলে তিনি আশা
করেন।

বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ) এর নির্বাহী পরিচালক মতিউর রহমান জানান, নাজমুস সাকিবসহ আমরা মোট ৮০জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করছি। দাতা সংস্থা পি.আর.আই.ডি.ই (প্রাইড) এসব প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানসহ সার্বিক সহযোগীতা করে আসছেন। এর মধ্যে চলতি বছর ৫জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

কাম-টু-ওয়ার্ক এর ফিজিও থেরাপি শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন জানান, ২০১৪ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যায়নকালে সাকিবকে কাম টু-ওয়ার্ক একটি কৃত্রিম পা দিয়েছিল কিন্তু সেটি এখন আর পায়ে সেট হচ্ছেনা। একারনে সাকিবের চলা ফেরা  খুব কষ্ট হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
দিনাজপুর বিভাগের আলোচিত
ওপরে