১৭ই জুলাই, ২০১৯ ইং ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
প্রধান সাক্ষী ও রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে গ্রেপ্তার... অবশেষে মিন্নি গ্রেপ্তার! (ভিডিও নিউজ) রংপুরের পল্লী নিবাসেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এরশাদ রিফাত শরিফ হত্যা মামলায় প্রধান সাক্ষী পুলিশ হেফাজতে ফরিদগঞ্জের কাঁশারা ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদরাসাটির ভবন না...

পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে ২ জনের ফাঁসির রায়

  সমকাল নিউজ ২৪

বরিশাল প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরে জোড়া খুনের অপরাধে জনৈক গৌতম রায়কে (৩৮) মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ  মোঃ  গোলাম কিবরিয়া। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায়  আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। ২০১১ সালের ২ ফেব্র“য়ারি দন্ডপ্রাপ্ত  গৌতম তার  স্ত্রী ও চাচীকে দা দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে  হত্যা করে।

 

পিরোজপুর থানায় একই দিন দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর সদর উপজেলার দণি বাদুরা গ্রামের হিমাংশু রায়ের পুত্র গৌতম পারিবারিক তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে তার স্ত্রী দুটি নাবালক জমজ কণ্যার মা সীমা (৩০)কে জবাই করে ও চাচী শেফালি (৫০)কে কুপিয়ে হত্যা করে।

 

সীমার বাবা ঝালকাঠী জেলার কাঠালিয়া উপজেলার আমুড়িবুনিয়া গ্রামের িিতশ চন্দ্র ভক্ত (৬৫) পিরোজপুর থানায় দায়ের করা এজাহারে উলেখ করেন যে, ঘটনার দিন তার জামাতা গৌতম রায় বাদুরা বাজার থেকে মাছ কিনে বাড়িতে এসে তা স্ত্রীকে কাটতে বলে। সীমা সাংসারিক কাজে ব্যস্ত থাকায় স্বামীকে বলে যে, হাতের কাজ শেষ করে সে মাছ কাটবে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে গৌতম দৌড়ে ঘরে ঢুকে দা এনে  উঠানে এসে সীমার গলায় কোপ দেয় এবং তার চুলের মুঠি ধরে জবাই করে হত্যা করে। এ ঘটনা দেখে গৌতমের চাচার স্ত্রী শেফালী ও চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী শিউলী পাশের ঘরে বসে চিৎকার করলে গৌতম দৌড়ে গিয়ে তাদেরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। প্রতিবেশিরা শেফালী ও শিউলী কে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শেফালীকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

পিরোজপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা  পরের বছরের ১ মে আদালতে গৌতমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। গ্রেফতার হওয়ার পর গৌতম ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে অপরাধ স্বীকার করে।

 

মোট ১৮ জন স্বাীর সা শেষে জেলা জজ হত্যার অপরাধে গৌতমকে দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় ফাঁসিতে  মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা ও  ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং শেফালীকে হত্যায় একই ধারায় একই ধরনের শাস্তি প্রদান করেন।

অপরদিকে, ঝালকাঠিতে বড় ভাইকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ছোট ভাইকে মৃত্যুদন্ড এবং আরেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি জেলা ও দায়েরা জজ মো. শফিকুল করিম এ রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ছোট ভাই নাজমুল ওরফে আজমুল পলাতক রয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামি রায় ঘোষণাকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এমাদুল নামে এক যুববকে খালাস দেয়া হয়েছে।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে বিরোধের জের ধরে ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার বাঁশবুনিয়া গ্রামের ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক আল-আমিনকে তার ছোটভাই নাজমুল ও তার দুই সহযোগী বেলাল হোসেন ও এমাদুল মিলে জবাই করে হত্যা করে। পরের দিন ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে পার্শবর্তী চেচড়িরামপুর গ্রামে একটি বাড়ির সামনে আল-আমিনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা জিয়াউল হক বাদি হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর কাঠালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাউকে আসামি করা না হলেও কাঠালিয়া থানা পুলিশ সন্দেহবশত আজমুল এবং বেলালকে গ্রেফতার করে। পরে এ দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পুলিশ ২০১২ সালে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে।

১১ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত সোমবার  রায় ঘোষণা করে। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি আব্দুল মন্নান রসূল। আসামি পক্ষে ছিলেন এ্যাড. মমিন উদ্দিন খলিফা ও এ্যাড. মনজুর হোসেন।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
বরিশাল বিভাগ বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে