২৬শে মে, ২০১৯ ইং ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
সদরঘাট জিম্মি ‘খলিফা বাহিনী’র হাতে কৃষকের ঘরে বিয়ের ১১ বছর পর এক সঙ্গে চার সন্তান বাংলাদেশীদের পদচারণায় জমজমাট কলকাতার ঈদ বাজার! স্বামী সন্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের... হঠাৎ কোটিপতি হয়ে যাওয়া এক নেতা

ফসলি জমির মাটি এখন ইট ভাটার খাবার / নওগাঁয় উর্বরতা হারাচ্ছে কৃষি জমি।

 নাজমুল হক নাহিদ, নওগাঁ প্রতিনিধি। সমকাল নিউজ ২৪

নওগাঁয় ফসলি জমির মাটি এখন ইটভাটাগুলোর অন্যতম খাবার। এই মাটিগুলো যাচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। জমির উপরের অংশ অর্থ্যাৎ টপ সয়েল ইট ভাটায় যাওয়ায় জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। এতে করে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগ। দ্রুত ইটভাটার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহন করা না হলে আগামীতে খাদ্য ঘাটতিসহ ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতনরা।

জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা, জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ১৭০টি ইটভাটা আছে। যার অধিকাংশরই পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নাই। ইট তৈরীর প্রধান কাঁচামাল মাটি। ফসলি জমির মাটি ইট তৈরীতে সুবিধা। জমির উপরের অংশ তথা টপ সয়েল ইট ভাটায় যাওয়ায় জমির উর্বরতা ক্ষমতা হারাচ্ছে। ফসলি জমির উপরি ভাগের মাটিতে যে জীপসাম বা দস্তা থাকে তা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া মাটিতে যে জীবানু থাকে এবং অনুজীবের কার্যাবলি আছে তা সীমিত হয়ে যাচ্ছে। এতে করে দিন দিন ফসলি জমিতে উৎপাদন ক্ষমতা কমছে। মাটির জৈব শক্তি কমে গিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়ছে। আর এভাবে ফসলি জমির মাটি ইট ভাটায় যেতে থাকলে আস্তে আস্তে ফসল উৎপাদন কমে যাবে। প্রতি বছর ইট তৈরীর মৌসুমে ফসলি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। আর এসবের বিরুদ্ধে এখনই পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত বলে মনে করেন সচেনতনরা।

সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন, সোহেল রানাসহ অনেকেই বলেন, ইটভাটা থেকে লোকজন এসে কৃষকদের মাটি বিক্রয়ের বিষয়ে খুব করে বোঝায়। এতে করে অনেক কৃষক লোভে পড়েই মাটি বিক্রি করে। মূলত ফসলি জমির উপরের অংশের মাটি ইটভাটায় বিক্রি করা হয়ে থাকে। এতে করে দেড় থেকে দুই বছর ওই জমিতে তেমন ফসল উৎপাদন হয় না। তবে প্রচুর পরিমান জৈব্য সার, খৈল, জিপসাম, ফসফেট ও পটাসসহ বিভিন্ন সার ব্যবহার করা হলে পূর্বের মতোই আবাদ হয়ে থাকে।

বদলগাছী উপজেলার আড়চা গ্রামের কৃষক বিজয় কুমার বলেন, তার জমি একটু উঁচু হওয়ায় সবজির আবাদ ভাল হতো। তবে ধানের আবাদ করার জন্য আড়াইবিঘা জমির মাটি ইটভাটাতে প্রায় ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

নওগাঁ সদর উপজেলার মেসার্স এবিসি বিক্সস এর প্রো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, নদী ও পরিত্যাক্ত স্থানের মাটি ইটভাটায় ব্যবহার করা হয়। তবে নদীর মাটিতে বালুর পরিমান বেশি থাকায় ইট ভাল হয় না। নদীর মাটির সাথে সামান্য পরিমাণ ফসলি জমির মাটি মিশিয়ে ইট তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হয়।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় যাচ্ছে। যা কোন ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফসলি জমির উপরিভাগের মাটিতে (টপ সয়েল) যে জীপসাম বা দস্তা থাকে তা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া মাটিতে যে জীবানু থাকে তা অনুজীবের কার্যাবলী সীমিত হয়ে যায়। মাটির জৈব শক্তি কমে গিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়বে। আর এভাবে ফসলি জমির মাটি ইট ভাটায় যেতে থাকলে আস্তে আস্তে ফসল উৎপাদন ব্যহত হবে। কমপক্ষে ২-৩ বছর ওই জমি থেকে ভাল ফলন আশা করা যায়না। এতে করে আগামীতে খাদ্য ঘাটতির সম্ভবনা রয়েছে।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো: মিজানুর রহমান বলেন, ইটভাটাগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আইনে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। এছাড়া ফসলি জমি থেকে ইটভাটায় মাটি না নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা বাড়ানো হবে। পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতার অভাবে হয়ত মানুষ এটা করছেন। দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতি হচ্ছে কৃষকরা এটা বুঝতে পারছেন না। কৃষকসহ সকল মহলকে নিয়ে সচেতন করার চেষ্টা করছি। একটা সময় হয়ত এ সমস্যা থেকে আমরা পরিত্রাণ পাবো।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
নওগাঁ বিভাগের সর্বশেষ
নওগাঁ বিভাগের আলোচিত
ওপরে