১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
একই কাজ সমানতালে করলেও মজুরী বৈষম্যের শিকার হচ্ছে নারী... রি’ফাত হ’ত্যা : শেষ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান ওপার বাংলার অভিনেতা তাপস পাল আর নেই মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ইবিতে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক... দ. সুনামগঞ্জে কবি আশিন আমরিয়ার মৃ’ত্যুতে শোকসভা

ফেনী ছাগলনাইয়ার বিভিন্ন ইট ভাটায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে শিশুরা নজর নেই প্রশাসনের।

  সমকালনিউজ২৪

ফেনী প্রতিনিধিঃ

আইনকে উপেক্ষে করে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন ইট ভাটা গুলোতে চলছে দিনের পর দিন শিশুশ্রম।আইনের তোয়াক্কা না করে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করাচ্ছে ভাটার মালিকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের রহমান ব্রিকস ম্যানুফেকচার কোঃ,রাধানগর ইউনিয়নের মেসার্স মধুগ্রাম ব্রিকস,মর্ডান ব্রিক ফিল্ড ও শুভপুর ইউনিয়নের মেসার্স কামাল এন্ড সন্স ব্রিকস ম্যানুফেকচারিং নামক ইট ভাটায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে শিশুরা।যেই শিশুটি এখন হাতে বই খাতা কলম নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা সেই শিশুটি এখন ইট ভাটায় ইট গুছাচ্ছে।শুধু তাই নয় ইট ভাটায় যেসকল শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে তাদের কাছে নেই কোন আত্নরক্ষার হাতিয়ার। ইট ভাটা পরিচালনা আইনে ভাটার শ্রমিকদের জন্য আত্নরক্ষার জন্য মাথায় হেলমেট, হাতে গ্লাপস,মুখে মাক্স, পায়ে সু রাখার কথা থাকলেও নেই তাদের কোন কিছুই। বাংলাদেশ শ্রম আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরা হালকা কাজ ছাড়া ভারি বা ঝুঁকিপূর্ন কোন কাজ করতে পারবেনা বা কেউ জোর পূর্বক করাতেও পারবেনা বা কেউ জোর করে কাজ করানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে শিশু শ্রম আইনে শাস্তির বিধান থাকলেও কে শুনে কার কথা? ইট ভাটার মালিকরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খাটুনি খাটিয়ে যাচ্ছে শিশুদের।

সরেজমিনে রাধানগর ইউনিয়নের মেসার্স মধুগ্রাম ব্রিক নামক ইট ভাটায় গিয়ে দেখা মেলে শাকিব(১২) এবং সাড়ে ১২ বছর বয়সের আরেক শিশু সোহাগ ইট ভাটায় কাজ করছে। শাকিবের বাড়ী নোয়াখালী জেলার মাইজদী উপজেলায়।সে ৭নং ওয়ার্ডের মোসলেহ উদ্দীনের ছেলে। আর সোহাগ ও একই জেলার একই উপজেলা একই ইউনিয়নের মাঈনুদ্দীনের ছেলে।তাদের কাছে শিশু বয়সে কষ্টের কথা জানতে চাইলে তারা জানায় গরীবের সংসার হওয়ায় অভাবের তারনার এখানে এসে ইট ভাটায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি।তাদের পারিশ্রমিকের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানায় ৬ মাসে ৩০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করছে তারা।

ইটভাটার মালিক মোঃ জিন্নার কাছে শিশু শ্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে সে শিশুশ্রমের কথা অস্বীকার করে বলেন এগুলো আমাদের শ্রমিক নয় এরা সম্ভবত অাশপাশের বাড়ীর লোকজন ইটভাটা দিয়ে হাটা চলা করছে।

একই ইউনিয়নের মেসার্স মর্ডান ব্রিকস নামক ইট ভাটায় গিয়েও একই চিত্র সেখানেও কাজ করছে ঝুমুর(৯) এবং তার ভাই ইমন (৮)নামের আরেক শিশু।শুভপুর ইউনিয়নের মেসার্স কামাল এন্ড সন্স ব্রিকস ম্যানুফেকচারিং নামের ঐ ইট ভাটায় ও কাজের দেখা মেলে শিপন (১৩) ও রাশেদ(১১) নামের দুই শিশু শ্রমিকের।

 

এব্যাপারে ইট ভাটার মালিক কামাল উদ্দীনের কাছে শিশু দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন যেসব শ্রমিকরা ইট ভাটায় কাজ করে তারা তাদের পরিবার নিয়ে চলে আসছে হয়তো তাদের ছেলে মেয়ে হতে পারে।আমরা তো অগ্রীম টাকা দিয়ে অন্যলোককে ( মাঝি) ইট কাটা ও পোড়ানোর দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছি কাজের দায়িত্ব সম্পূর্ন তাদের কাছে আমরা জানিনা এখনো। যেহেতু জেনেছি বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখব যদি শিশুরা কাজ করে থাকে তাহলে তাদের বাদ দেয়ার ব্যবস্থা করব।এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া তাহেরের কাছে ইট ভাটায় শিশুশ্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি গনমাধ্যমকে বলেন শুধু ইটভাটা নয় কোথাও শিশুশ্রম কাম্য নয় এবং হতে দেয়া যাবেনা। আমি ইটভাটাগুলোতে যাব এবং এই ধরনের কিছু হলে সাথে সাথে ঐ ইট ভাটার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করব।

 

‘বিদ্রঃ সমকালনিউজ২৪.কম একটি স্বাধীন অনলাইন পত্রিকা। সমকালনিউজ২৪.কম এর সাথে দৈনিক সমকাল এর কোন সম্পর্ক নেই।’

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে