২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
মাজার জিয়ারত করলেন এমপি আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন ছেলেকে বাঁচাতে নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ বাবা বাল্য বিয়ে বন্ধ করল থানা পুলিশ ই’য়াবা সহ আটক-১ মহাদেবপুর-ছাতড়া সড়ক খানাখন্দে ভরা; দূর্ভোগ চরমে

ফেসবুকে রিয়াজের কড়া স্ট্যাটাস

  সমকাল নিউজ ২৪
ফেসবুকে রিয়াজের কড়া স্ট্যাটাস

সোমবার রাতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা রিয়াজ। মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা ক্ষোভ ব্যক্ত করেই নিজের অভিব্যক্তিগুলো তুলে ধরেছেন ভক্তদের সামনে।

সমকালনিউজ২৪ ডট কম পাঠকদের জন্য সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

‘১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে শিল্পীরা জাগ্রত করেন মানুষের বিবেককে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে এবং দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণায় শিল্পীরা সাড়ে সাত কোটি মানুষকে উজ্জীবিত করেন স্বাধীনতার চেতনায়, দেশপ্রেমের আগুন সঞ্চার করেন কোটি মানুষের হৃদয়ে, যে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্যে দিয়ে। ইতিহাস সাক্ষী আছে, যুগে যুগে বিশ্বব্যাপী শিল্পীরাই অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে, জালিমের বিরুদ্ধে মানুষের বিবেক জাগ্রত করেছেন।

শুধুমাত্র বিনোদন দেয়া নয়, যুগে যুগে মানুষকে জীবনের যে কোনো যুদ্ধে টিকে থাকার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন শিল্পীসমাজই। একটি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অন্যান্য উন্নয়নের সাথে সাথেই প্রয়োজন হয় সুস্থ ও শক্তিশালী একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশের বিকাশ। আর এই সাংস্কৃতিক পরিবেশের বিকাশ ঘটান শিল্পীরা। সমাজের বিশাল জনসমুদ্রকে সুস্থ ইতিবাচক দিকে ধাবিত করার ক্ষমতা শিক্ষক, রাজনীতিবিদ এবং শিল্পীরা ব্যতীত আর কারো আছে কি?

শিল্পীরা অভিনয়, গান, চিত্রকর্ম, পরিচালনা জগতে নিজেদের অবদান রেখে সবসময়ই জনসেবা করেন। শিল্পীর জন্মই হয় মানুষের সেবা করবার জন্য। সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে একজন শিল্পী আমৃত্যু মানুষের সেবা করেন। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই হয়তো সঠিক অনুপ্রেরণার অভাবে জনসম্মুখে এসে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়ানো হয় না। কারণ এই অনুপ্রেরণার জন্য প্রয়োজন হয় এক বলিষ্ঠ নেতৃত্বের, একজন এমন মানুষের যিনি তার ভালোবাসায় সিক্ত করে শিল্পীদের সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াবার সুযোগ করে দেন। এই পাশে দাঁড়ানোটি খুবই দরকার ছিল ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে। অন্ধকার থেকে আলোর পথের যাত্রাকে অব্যাহত রাখার জন্য।

মানুষের বিবেক জাগ্রত করেন শিল্পীরা, আর একজন শিল্পীর বিবেক যখন জাগ্রত হয় তখন কোন পরাশক্তি তাকে দাবায় রাখতে পারে না। আর এই শিল্পী বিবেককে তার ভালোবাসার যাদুর কাঠির ছোঁয়ায় জাগ্রত করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশের প্রায় সকল শিল্পীরা এখন অনুপ্রাণিত।

যেটা কিছু কিছু মানুষের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে। তাদের পরিচয় আজ সর্বজন বিদিত। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে তারা আজ স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি আর ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে অধিক পরিচিত। তাদের হীন মতাদর্শের দু’একজন ‘মৌসুমি শিল্পী’ যখন কোন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে জার্সি বদলের খেলা খেলতে চান, তা হাস্যকর অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই না। সেই গুটিকয়েক মানুষের জন্য যখন কেউ ঢালাওভাবে সবার চরিত্র হননের চেষ্টায় লিপ্ত হয়, তার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়েও সংশয় তৈরি হয়।

আমার মাঝে কোন রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনো পর্যন্ত আসেনি। আর সবার মতো আমিও চাই ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসবাদ মুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত আধুনিক এবং অর্থনৈতিকরূপে সুসমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই। সেই বাংলাদেশ যাকে সারাবিশ্ব ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা’ বলে ডাকতে গর্ববোধ করবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমি আমার স্থান থেকে মানুষের জন্য কাজ করে যাবো। দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য। জননেত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণায় ও নেতৃত্বে।

জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন বলেন তিনি বাংলাদেশের মানুষের ভোটের মর্যাদা রক্ষা করে তাদের জীবনমান উন্নত করার জন্য প্রয়োজনে ‘বুকের রক্ত দিতে প্রস্তুত রয়েছেন’ তখন আমার মতো একজন ক্ষুদ্র শিল্পীও প্রস্তুত বাংলাদেশের মানুষের জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে