১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
রি’ফাত হ’ত্যা মা’মলার প্রধান আ’সামির জা’মিন... স্পেনে টাইগার মাদ্রিদের নতুন জার্সি উন্মোচন ও... দ্বিতীয় বারের মত শুভসন্ধ্যা সৈকতে হতে যাচ্ছে জোছনা উৎসব বরগুনা সরকারি কলেজে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সমাপ্ত ঝালকাঠিতে খাদ্য অধিকার আইনের দাবিতে সমাবেশ

বরগুনায় ‘পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই’ নির্মিত হচ্ছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

  সমকালনিউজ২৪

মোঃআসাদুজ্জামান,বরগুনা ::

রিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বরগুনার তালতলীতে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে বলে অ’ভিযোগ উঠেছে আইএসও টেক ইলেকট্রিফিকেশন কোম্পানির বি’রুদ্ধে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নির্মাণ করা হলে ধ্বংস হবে বন, নষ্ট হবে ইলিশের প্রজননস্থান। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে ইতোমধ্যে আন্দোলন শুরু করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। আর স্থানীয় প্রশাসন বলছে, কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ছাড়পত্র দেখায়নি কোম্পানিটি।

পায়রা নদীর শেষাংশ, বুরিশ্বর নামে সমুদ্রে মিশেছে যেখানে। প্রজনন মৌসুমে সমুদ্রের লবণ পানি থেকে উঠে এসে মা ইলিশ ডিম ছারে এখানে। নদীপারের খোট্টার চরে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হলে এই নদীতে আসবে কয়লা ভর্তি জাহাজ। আর নদীপাড়ে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকালে নদীর পানি শুধু উত্তপ্তই হবে না দুষিতও হবে। যার বড় প্রভাব পরবে ইলিশের ওপর।

এদিকে, খোট্টার চরের আশেপাশে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু বনাঞ্চল। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন নামে পরিচিত টেংরাগিরি বনও রয়েছে মাত্র ১ থেকে ২ কিলোমিটারের মধ্যে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাড়িয়ে তুলবে অত্র এলাকার তাপমাত্রা। পানি আর মাটি দূষণের ফলে মরতে শুরু করবে বনাঞ্চল, বাসস্থান হারাবে বন্য প্রাণী।

বরগুনা সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সৈয়দ শাহ-আলম বলেন, ‘এতে মাটির গুণাগুণ পরিবর্তন হয়ে যাবে। দূষিত মাটিতে উদ্ভিদ ভালো হওয়ার কথা নয়।’

এসব কারণে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধে আন্দোলন শুরু করেছেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)।

সনাক’র সভাপতি আব্দুর রব ফকির বলেন, এই প্রকল্পের ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তাদের নিয়ে আমরা মানববন্ধন করব।

এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে আসতে রাজি না আইএসও টেক কোম্পানির পরিচালক। তিনি জানান, কাগজপত্র ও ক্যামেরায় বক্তব্য দিবে ঢাকা অফিস। তবে ঢাকা অফিসের ঠিকানা জানাননি।

এদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই জেলা প্রশাসনকে শুধু অবগত করেছে আই এসও টেক ইলেক্ট্রিফিকেশন কোম্পানিটি। তবে ছাড়পত্র না দিলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক

তিনি বলেন, পরিবেশ ছাড়পত্রসহ অন্যান্য কাজগপত্র তারা আমাদের কাছে উপস্থাপন করবে। যদি কাগজপত্র ঠিক না থাকে তবে আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা চিন্তা করে জার্মানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেখানে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরে আসছে। সেখানে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে একের পর এক নির্মাণ হচ্ছে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। অথচ সমুদ্রপারের প্রবাহমান বাতাসকে কাজে লাগিয়ে বায়ু বিদ্যুৎ, পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে পানি বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণ করা হলে ধ্বংস হবে না পরিবেশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে বাংলাদেশ।

 

 

‘বিদ্রঃ সমকালনিউজ২৪.কম একটি স্বাধীন অনলাইন পত্রিকা। সমকালনিউজ২৪.কম এর সাথে দৈনিক সমকাল এর কোন সম্পর্ক নেই।’

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
বরগুনা বিভাগের সর্বশেষ
বরগুনা বিভাগের আলোচিত
ওপরে