২১শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ৮ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
আমি চাইলে নিশ্চয় দোষের হবে না বিমানের টয়লেটে মিলল ১৪ কেজি সোনা পিরোজপুরের নাজিরপুরে শেখ হাসিনা সেতুর উদ্বোধন করলেন... রাজাপুর ভিজিডি কার্ড বিতরণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ স্কুলছাত্রী নিপাকে কৃত্রিম পা লাগাতে নেয়া হবে বিদেশে

বরগুনায়, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতায় উৎকোচ !

 ইফতেখার শাহীন,বরগুনা জেলা প্রতিনিধি সমকাল নিউজ ২৪

মেম্বার আগে থেকেই বলেছে আমরা যে টাকাটা নেবো তা কারো কাছে বলবেন না। এখন আপনারা যখন কিরা কান্ড দিয়ে বলছেন ভাগ্যে যা আছে তাই হবে। প্রথমে নাম দেয়ায় ২ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার ৩’শ টাকা ভাতা পেয়েছি তার থেকে ৪ হাজার ২’শ টাকা নাসির মেম্বার নিয়েছে, কথাগুলো বললেন বরগুনা সদর উপজেলার বালীয়াতলী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের আমলকীতলার উপকারভোগী মানষিক প্রতিবন্ধী মীর আবদুল আজিজ এর স্ত্রী পিয়ারা বেগম। সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের ১৭/১৮ অর্থ বছরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ২৫ জন বিধবা, ৬৪ জন বয়স্ক এবং ১৩ জন প্রতিবন্ধীর অধিকাংশ উপকারভোগীর কাছ থেকে ৩-৪ হাজার টাকা অফিসারদের দিতে হবে বলে আদায় করেছেন ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের জন প্রতিনিধিরা। প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও বিধবা ভাতায় নাম অন্তর্ভ‚ক্ত করতে এ সকল উপকারভোগীর কাছ থেকে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা ওয়ার্ড মেম্বাররা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দুই ভাইকে বিধি বহির্ভুত বয়স না হলেও তাদেরকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হয়েছে।

ইউনিয়নের আমলকীতলার বয়স্ক ভাতাপ্রাপ্ত হানিফ বিশ্বাস বলেন, আমি ব্যাংক থেকে ৭ হাজার ৩’শ টাকা পেয়েছি সেখান থেকে ৩ হাজার এবং ভাতায় নাম লেখাতে আমার স্ত্রীর সোনা বন্ধক রেখে ২ হাজার ৫’শ টাকা এই মোট সাড়ে ৫ হাজার টাকা নাসির মেম্বারকে দিয়েছি। আমার ৭ হাজার ৫’শ টাকা থেকে মাত্র ১ হাজার ৫’শ টাকা পেয়েছি। ৫ নং ওয়ার্ডের লাকুরতলা গ্রামের প্রতিবন্ধী জাকারিয়ার মা নুর নেহার বলেন, প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে নাম দিতে প্রথমে দিয়েছি ৩ হাজার ৫’শ এবং ভাতা পেয়েছি ১০ হাজার ৩’শ টাকা সেখান থেকে নান্না চৌকিদার আমার কাছ থেকে নিয়েছে ২ হাজার ৩’শ টাকা। ৮ নং ওয়ার্ডের তালতলী গ্রামের আমিন উদ্দিন হাওলাদার বয়স্ক ভাতা পেয়েছেন ৭ হাজার ৩’শ টাকা। অফিসারদের দিতে হবে বলে তার কাছ থেকে ওয়ার্ড মেম্বার মাহমুদ পটোয়ারী ৩ হাজার টাকা নিয়েছেন। ৬ নং ওয়ার্ডের বিধবা সুইটি বেগম জানান, তিনি বিধবা ভাতা পেয়েছেন ৭ হাজার ৩’শ টাকা, সেখান থেকে ওয়ার্ড মেম্বার এছাহাক তার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা আদায় করেছেন। এ সকল অভিযোগ মেম্বাররা অস্বীকার করেন। সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বয়স্ক ভাতা পেতে হলে পুরুষ ৬৫ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৬২ বছর বয়স হতে হবে (সরকারী পরিপত্রানুযায়ী)। এক্ষেত্রে বালিয়াতলী ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ সেলিমের দুই ভাই আবদুল মালেক ও আবদুল বারেক তাদের ভোটার আইডির তথ্য গোপন করে বয়স না হলেও তারা বয়স্ক ভাতা পেয়েছেন। ভোটার আইডি অনুযায়ী মালেকের জম্ম তারিখ ৬ ফের্রুয়ারী ১৯৫৮। অপর ভাই বারেক এর জম্ম তারিখ ৩ জানুয়ারী ১৯৬৩। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বালীয়াতলী ইউপি চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ সেলিম বলেন, আমার ভাইদের বয়স হয়েছে তাই তারা বয়স্ক ভাতা পেয়েছেন। জন প্রতিনিধিরা উপকারভোগীদের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়েছে কিনা এ ব্যপারে তিনি কোন অভিযোগ পাননি বলে জানান।

বরগুনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, এ সকল ভাতা উত্তোলনের জন্য উপকারভোগীর ব্যাংকে নিজস্ব একাউন্ট রয়েছে। তারা নিজেরাই টাকা উত্তোলন করবেন। জনপ্রতিনিধিরা অবৈধ ভাবে অর্থ আদায় করেছেন, এমন অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
বরগুনা বিভাগের আলোচিত
ওপরে