২৬শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ১১ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
না’গঞ্জে গোল্ডেন চেস আন্তজার্তিক রেটিং দাবায় হানিফ... আমতলীতে চো’রাই গরু উ’দ্ধার শার্শা উপজেলার সকল কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় করলেন... মতলবে ফলদ বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন- এমপি নুরুল আমিন দু “বছর পূর্তিতে দাবী নিয়ে রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশ

বরেন্দ্র অঞ্চলে আলুর জমি পরিচর্যা অন্যদিকে বোরো রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

  সমকালনিউজ২৪

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী জেলা বরেন্দ্র অঞ্চল নামে পরিচিত। যেখানে কৃষি চাষাবাদই প্রধান আয়ের উৎস। রাজশাহী জেলাজুড়ে একদিকে যেমন চলছে আলুর জমির পরিচর্যার কাজ তেমনি ভাবে বিলের জমিতে কঠিন ঠাণ্ডা অপেক্ষা করে চলছে বোরো রোপণসহ জমি তৈরির কাজ। অবৈধভাবে পুকুর খনন করায় বিলের পানি নামতে সময় লাগায় বীজতলা তৈরি ও চারা প্রস্তুতে কিছুটা সময় লাগার পরেও এখন পুরো দমে বোরো ধান রোপণ কাজে ব্যাস্ততা বেড়েছে কৃষকদের। কৃষক এবং শ্রমিকদের কোন ভাবেই দম ফেলার সময় নেই। সারাদিন মাঠের বিলের জমিতে কাজ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকেরা। সকালের কঠিন শীত উপেক্ষা করে চাষিরা নেমে পড়ছেন চাষ করতে অন্যদিকে মাঠের পর মাঠে আলুর জমি পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আবার আলুর সবুজ জমির ফাকে রোপণ করা হয়েছে সরিষা। যার ফুলগুলো হলুদ আকার ধারন করছে। অনেক মাঠ সবুজ পাতা আর হলুদ ফুলে যেন সেজেশে। বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, জেলা বিভিন্ন উপজেলার রোপা আমন ধানী জমির মাঠে শোভা পাচ্ছে আলুর সবুজ পাতা। প্রায় প্রতিটি মাঠে হয়েছে আলু চাষ। যদিও আগে কৃষকরা তাদের নিজের জমিতে আলু চাষ করলেও এবার কিছুটা হলেও ব্যতিক্রমী। গত মৌসুমে প্রায় আলু চাষি লাভের মুখ দেখেছেন। ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা খুবই কম ছিলো। আবার অনেক তরুণ চাষি আছেন তাঁরা ব্যাপক ভাবে আলু চাষ করেন।তরুণ চাষি এমদাদ জানান চাষাবাদই আমাদের মুল ভরসা।গত বারে ৬ বিঘা আলু চাষ করে জমি থেকে বিক্রি করে ভালোই লাভ পেয়েছিলা।তাই এবারো ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছে। এবারো আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারনে ফলন লাভের আশা দেখছেন চাষিরা। এদিকে,সিন্ডিকেট করে থাকে গভীর নলকূপের অপারেটররা।মৌসুমি আলু চাষিরা শতশত বিঘা জমি লীজ নিয়ে আলুর প্রজেক্ট করে থাকেন। তাঁরা গভীর নলকূপের অপারেটরদের সাথে চুত্তিতে কৃষকের জমি লীজ নিয়ে দিয়ে মালিককে পুরো টাকা দেন না বলে রয়েছে প্রচুর অভিযোগ।একাধিক কৃষকদের অভিযোগ আমাদের নিজের জমি হলেও আমরা সরাসরি লীজ দিতে পারিনা। অপারেটরেরা আমাদের জমি বেশি টাকায় লীজ দিয়ে আমাদেরকে কম পরিমাণ টাকা দিয়ে থাকে। আবার প্রতীবাদ করলেও কোন লাভ হয়না। কারন পরের চাষাবাদে পানি দিতে চাইনা। এজন্য কৃষকরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হন তারা। আলু চাষি হিন্দুপাড়া গ্রামের উত্তম জানান গত বছরে দশ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে জমি থেকেই বিক্রি করে দিয়ে ছিলাম। যার কারনে খুব একটা বেশি লাভ হয়নি। তবে লোকসানও হয়নি। এবার তিনি দেবিপুর সংলগ্ন মাঠে লাভের আসায় দশ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। গাছ ভালো গজিয়েছে বলে জানান তিনি।পাচন্দর ইউপির চিমনা গ্রামের হাবিবুর ও লুৎফর রহমান এবার আলু রোপণ করেছেন ৫০ বিঘা জমিতে। তাঁরা জানান গত বছর আলুতে লাভ ভালো পেয়েছি। এজন্য এবারো সমপরিমাণ জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আলুর গাছে ভরে উঠেছে। আসা করছি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে ফলন ভালো হবে এবং লাভও গুনতে পারব। একই এলাকার গোলাম রাব্বানীও গত বার আলুতে ভালো লাভ করে ৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন । দুবইল এলাকার রবিউল ৫বিঘা সেলিম ৫বিঘা জমিতে আলু রোপন করে গাছের অবস্থা দেখে লাভের আসা করছেন। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা জানান, চার-পাঁচ বছর থেকে জেলাতে বোরো ধানের আবাদ ক্রমশই বেড়ে চলেছে। এর অন্যতম কারণ অন্যান্য বছরের চেয়ে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা পতিথ্য জমিতে চাষাবাদ শুরু করে দিয়েছেন। এছাড়া মৌসুমের ফসলের তুলনায় এই ধানে অধিক পরিমাণে সেচ দিতে হয়। আর সেচ দেয়ার জন্য গভীর নলকূপের উপর ভরসা করতে হয়। সপ্তাহ দুই আগে থেকে ধানের বীজ রোপণের কাজ শুরু হয়েছে, চলবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। এ বছরও আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।#

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে