২১শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বগুড়ায় বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস পালিত চাঁদপুরে মাদ্রাসা ছাত্র হ’ত্যার ঘটনায় আটক-১; মাথা... ফেনীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক বঙ্গবন্ধু’র ৪৪তম... আত্রাইয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির বাড়ি ঘর বরগুনায় স্বেচ্ছাসেবকদলের ৩৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী...

বাংলাদেশের নির্বাচনকে যেভাবে দেখছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

 অনলাইন ডেস্কঃ সমকাল নিউজ ২৪

দশ বছর পর বাংলাদেশে এই প্রথম একটি নির্বাচন হচ্ছে যাতে অংশ নিচ্ছে দেশটির সব প্রধান রাজনৈতিক দল। কিন্তু এই নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কৌতূহল যেন এবার তুলনামূলকভাবে কম। বিভিন্ন দেশের নামকরা সংবাদপত্র বা সাময়িকীগুলোতে এবারের এই নির্বাচন নিয়ে খুব কমই প্রতিবেদন বেরিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা অন্যান্য প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশগুলোকে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে অতীতে যেরকম তৎপর ভূমিকায় দেখা গেছে, এবারে সেখানে দৃশ্যমান তৎপরতা বলতে গেলে অনেক কম। বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে কীভাবে দেখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়? বিভিন্ন প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিক্রিয়া সংকলন করেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন:

 

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, ব্রিটেন

কয়েকদিন আগে ব্রিটেনের ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকায় বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এশিয়া এডিটর এডাম উইথনালের লেখা এই প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হচ্ছে বিরোধী দলের কর্মীদের জন্য এক ধরনের ভয়ের পরিবেশের মধ্যে বাংলাদেশের এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

 

এতে বলা হয়েছে, গত এক দশক ধরে আওয়ামী লীগ ক্রমশ কর্তৃত্বপরায়ণ শাসনের দিকে ঝুঁকেছে এবং কঠোরভাবে বিরোধীদের দমন করেছে, আবার অন্যদিকে বাংলাদেশ তার অসাধারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য পুরো অঞ্চলে সাফল্যের এক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। চ্যাথাম হাউজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড: গারেথ প্রাইসকে উদ্ধৃত করে ইন্ডিপেনডেন্ট লিখছে, যেহেতু বাংলাদেশে কোন নির্ভরযোগ্য জরিপ হয়নি নির্বাচনের আগে, তাই বলা মুশকিল ভোটাররা যখন ভোট দিতে যাবে, তখন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নাকি তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, কোনটিকে তারা বেশি গুরুত্ব দেবে ।

 

ড: গারেথ প্রাইস বলেছেন, “এখানে প্রশ্নটা হচ্ছে একজন গড়পড়তা বাংলাদেশি কী ভাবছে। তারা এটা মনে করছেন কিনা যে বর্তমান সরকার দশ বছর সময় পেয়েছে, এখন পরিবর্তন দরকার, নাকি তারা মনে করছেন দলটি বেশ ভালোই চালাচ্ছে।”

 

তিনি মনে করেন, যদি শেখ হাসিনা ভোটে জেতেন, যেটি প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তাহলে নিশ্চিতভাবেই সেখানে কিছু বিক্ষোভ হবে এবং সেগুলো দমন করা হবে।

 

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ভারত

ভারতীয় সাংবাদিক মানস ঘোষ ‘ব্যাটল ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামে লেখায় বলেছেন, এই নির্বাচন গত এক দশক ধরে শেখ হাসিনা যেসব নীতি এবং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছেন, সেগুলোর জন্য এক লিটমাস টেস্ট। তাঁর মতে, “শেখ হাসিনার এসব কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাবই পড়া উচিৎ নির্বাচনে, কিন্তু ‘এন্টি ইনকামবেন্সি’, অর্থাৎ ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ, বিশেষ করে তার দলের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি তার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হচ্ছে, দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসের বেলায় তার বিরোধী পক্ষ বিএনপির ভাবমূর্তি আরও বেশি খারাপ।”

 

মানস ঘোষ আরও লিখেছেন, “বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে সাংগঠনিকভাবে তারা একেবারেই ছত্রভঙ্গ। একটি নির্বাচনমুখী দল হয়েও বিএনপি যে ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করেছিল, সেটি ছিল তাদের জন্য ‘আত্মহত্যার সামিল।’ তাদের সংগঠন যে কেবল শীতনিদ্রায় চলে গিয়েছে তাই নয়, অনেকেই দল ছেড়েছে এবং সংগঠন অকার্যকর হয়ে পড়েছে।”

 

নিকেই এশিয়ান রিভিউ, জাপান

নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি কভারেজ দিয়েছে জাপানের একটি সাময়িকী ”নিকেই এশিয়ান রিভিউ।” তাদের গত সপ্তাহের প্রচ্ছদ কাহিনিই ছিল বাংলাদেশকে নিয়ে, যার শিরোনাম “দ্যা রাইজ এন্ড রাইজ অব বাংলাদেশ।” এতে বলা হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির দ্রুত বিকাশ ঘটছে, কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “শেখ হাসিনা কি এর কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন?”

 

প্রতিবেদনে অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সবধরণের প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে বাংলাদেশের বিশ্বের অন্যতম এক সাফল্য কাহিনিতে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এক দশক ধরে ছয় শতাংশের ওপরে, দেশটির গার্মেন্টস শিল্প চীনের পরেই দ্বিতীয় স্থানে, আর মাথাপিছু আয় ২০০৯ সালের পর থেকে তিন গুনে বেড়ে এখন এক হাজার ৭৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চরম দারিদ্র নেমে এসেছে নয় শতাংশের নিচে।

 

“এরকম উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে যে সরকারের অধীনে, স্বাভাবিক অবস্থায়, তাদের ব্যাপক সমর্থন থাকার কথা। কিন্তু বাংলাদেশের ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে গণ বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়ছে। শেখ হাসিনার বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, যেভাবে কঠোর হাতে তিনি ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছেন, তা নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে দেবে না। প্রতিদিন বিরোধী সমর্থকদের যেভাবে ধরপাকড় করা হচ্ছে এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে তাতে মনে হয় সরকারি দল তার রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করছে।”

 

“(আওয়ামী লীগ) অতীতের কিছু নির্বাচনে জোরালো সমর্থন পেয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলীয় কর্মীরা এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো নির্বাচনে সম্ভাব্য কারচুপি এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন। পর পর পাঁচ বছরের দুটি মেয়াদের পর এখন কিছু ভোটারের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু আবার অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, অনেকেই একমত হবেন যে ক্ষমতাসীন দলের বিজয় (বাংলাদেশের) অধিকতর উন্নয়নের পক্ষে যাবে।”

 

দ্য মিন্ট, ভারত

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন কারাবন্দী। তাই এবার ভোটের প্রচারে অংশ নিতে পারছেন না।
লন্ডন ভিত্তিক লেখক সলিল ত্রিপাঠির একটি বিশ্লেষণ ছেপেছে ভারতের বিজনেস ওয়েবসাইট দ্য মিন্ট।

 

এতে সলিল ত্রিপাঠি লিখেছেন, “একমাত্র জ্যোতিষী আর জরিপকারীরাই নির্বাচনের ফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে এবং প্রায়শই তারা ভুল প্রমাণিত হয়। বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে বসে ৩০শে ডিসেম্বরের ভোট নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা আমার কাজ নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় ফিরে না আসে, সেটা বেশ অবাক করা ব্যাপার হবে।”

 

তিনি আরও লিখেছেন, বাংলাদেশি গল্পগাঁথায় শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ নাকি আলোর পথের শক্তি, তারা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দল আর তাদের বিরোধীরা নাকি অন্ধকারের শক্তি। কিন্তু বাস্তবে আজকের আওয়ামী লীগের সঙ্গে স্বাধীনতাপূর্ব কালের আওয়ামী লীগের মিল খুব সামান্য এবং আওয়ামী লীগ এখন কার্যত দেখতে অনেকটা ১৯৭৫ সালের শুরুর দিকের বাকশালের চেহারা নিয়েছে। যখন কিনা একদলীয় রাষ্ট্র কায়েমের মাধ্যমে সংবাদপত্র বন্ধ করা হয়েছিল, অন্যান্য দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং আওয়ামী লীগ হয়ে উঠেছিল উচ্ছৃঙ্খল তরুণদের পেশিশক্তি নির্ভর একটি দল।”

সূত্র : বিবিসি

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
আন্তর্জাতিক বিভাগের আলোচিত
ওপরে