২১শে মে, ২০১৯ ইং ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
গাড়ি থেকে নেমে কৃষকের ধান কাটতে মাঠে নেমে গেলেন... রাজারহাটে নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমশ বিলীন... আইসিসির দেওয়া ‘বিশেষ সুযোগ’ নিচ্ছে না বাংলাদেশ! হানিমুন থেকে ফিরেই শ্রাবন্তীর স্বামীর মাথায় হাত ! বহিষ্কার হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা সেই ছাত্রলীগ নেত্রীর

বাগমারায় অনিল কুমারকে বিজয়ী করতে ইউনিয়ন আ’লীগের প্রস্তুতি সভা

  সমকাল নিউজ ২৪

বাগমারা প্রতিনিধি

আগামী ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বাগমারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। উক্ত নির্বাচনে বাংলাদেশ আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি, জেলা আ’লীগের সহ সভাপতি অনিল কুমার সরকার।

অনিল কুমার সরকারকে বিজয়ী করতে মঙ্গলবার বিকেলে মচমইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন আ’লীগের উদ্যোগে নির্বাচনী প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়।

শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম প্রামানিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী অনিল কুমার সরকার।

ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আজাহার আলীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আ’লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক অধ্যাপক মালেক মেহমুদ, উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি রিয়াজ উদ্দীন আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম সারওয়ার আবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দীন সুরুজ, সহ-দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, মাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকান, উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি মরিয়ম বেগম, মচমইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন খাঁন, সহকারী প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সভাপতি আলী হাসান, আ’লীগ নেতা আব্দুল মজিদ শেখ, বয়েন উদ্দীন, মজিবুর রহমান, মমাাস্টার মোজাম্মেল হক, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফসারুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, ছাত্রলীগ নেতা আশিকুর রহমান সজল, সাদ্দাম হোসেন, ইসমাইল হোসেন সান্টু, আব্দুল হান্নান, এনামুল হক, আতিকুর রহমান, সুলতান মাহমুদ সহ ইউনিয়ন আ’লীগ ও অংগ সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের সকল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তুতি সভায় বক্তরা বলেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আ’লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। উন্নত উপজেলা গড়তে হলে উপজেলা নির্বাচনেও নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

বাগমারায় বাদিকে ফাঁসাতে

নিজ ঘরে আগুন !

বাগমারা প্রতিনিধি

রাজশাহীর বাগমারায় জমির বিরোধে এক নারীকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষরা। গুরুত্বর আহত মমতাজ বেগম রেখা (৫৩) নামে এক নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হলে দুইজন গ্রেপ্তার হয়। তিন আসামী রয়েছে পালাতক। মামলা করার পর থেকে পালাতক আসামীরা বাদিকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল।

এরই মধ্যে বাদিকে ফাঁসাতে সোমবার গভীর রাতে নিজেদের রান্না ঘরে আগুন দেয় এক পালাতক আসামী। আগুন দেখে লোকজন বের হয়ে আসলে পালতক আসামী রফিকুল পালিয়ে যায়। পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন তাকে দেখে ফেলে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার জানিপুর মহল্লার সাইদের সাথে প্রতিবেশী মৃত জাফর আলীর সন্তানদের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকে সাইদ জমির প্রকৃত অধিকারী না বলে প্রমানিত হয়। কিন্তু সালিশ-বৈঠকের আদেশ অমান্য করে গত শনিবার সাইদুর রহমান ও তার ভাই রফিকুল ইসলাম জোর পুর্বক জমি দখল করে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করে। এসময় জাফর আলীর মেয়ে মমতাজ বেগম প্রাচীর নির্মাণ কাজে বাধা দেয়। এ সময় কিছু বুঝার আগে সাইদুর রহমান, রফিকুল ও ছেলে মানিক এলোপাতারি ভাবে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে মমতাজ বেগমকে জখম করে। পরে স্থানীয়রা মমতাজকে উদ্ধার করে প্রথমে ভবানীগঞ্জ একটি ক্লিনিকে ও পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এর পর থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসুয়ার আঘাতে মমতাজের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত হয় এবং মাথায় ১১টি সেলাই লাগে। এই ঘটনায় মমতাজ বাদি হয়ে বাগমারা থানায় সাাইদুর, রফিকুল ইসলাম, রহমান, রবিউল ইসলাম, সেলিনাসহ ৫ জনকে আসামী করে মামলা করে। পুলিশ সাইদুর রহমান ও সেলিনাকে গত রোববার নিজ বাসা হতে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়।

এদিকে, মামলা করার পর থেকে আসামী সাইদুর রহমানের ভাই রফিকুল ইসলাম মামলার বাদি ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। এরই মধ্যে সোমবার গভীর রাতে পলাতক আসামী বাড়ি গিয়ে তার নিজের রান্ন ঘরে আগুন দেয়। এতে রান্না ঘরে কিছু আসবাবপত্র পুড়ে যায়। লোকজন বের হয়ে পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে লোকজন বের হলে রফিকুল ইসলাম পালিয়ে যায়। পালানোর সময় লোকজন তাকে দেখে ফেলে।

আহত মমতাজ বেগম রেখার বোন বিলকিস বেগম জানান, ঘটনার পর থেকে বোনকে নিয়ে তিনি হাসপাতালে রয়েছেন। বাড়িতে শুধু তার বৃদ্ধা মা ও মানুষিক ভারসাম্যহীন ভাই ও ভাবি ছিল। আমাদের ফাঁসানোর জন্য রফিকুল ইসলাম নিজে তার রান্না ঘরে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় লোকজন তাকে দেখেছে।

বাগমারা থানার ওসি নাছিম আহমেদ জানান, মমতাজ বেগমকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় থানায় মামলা হবার পর দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর তিন আসামীকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। আসামীর রান্না ঘরে আগুন দেয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর একজন আসামীকে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে স্থানীয় লোকজন দেখেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

বাগমারায় ভ্রাম্যমান আদালতে পুকুর খননকারীদের জেল, ইটভাটা মালিকের জরিমানা আদায়।

বাগমারা প্রতিনিধি

বাগমারায় অবৈধ ফসলি জমিতে পুকুর খনন করার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে পুকুর খননকারীদের ১০ দিনের জেল ও অপরিকল্পিত যত্রতত্র ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে ভাটার দুই মালিকের ৫০ হাজার করে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাগমারা উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ভাবে ফসলী জমিতে পুকুর খনন অব্যাহত রখেছে একটি দুষ্টমহল। এই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদ ভিত্তিতে এ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম গত সোমবার ও মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে তিনজনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদ্বন্ড ও দুই অবৈধ ইটভাটা মালিকের ৫০ হাজার টাকা করে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার গোবিন্দপাড়ার হাবিবুর রহমানের ইট ভাটায় অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। এছাড়া সোমবার বিকেলে উপজেলার দ্বীপনগন গ্রামে অভিযান চালিয়ে আবাদী জমিতে পুকুর খনন কালে পাবনার ছাইদ খন্দকার(২৪) একই এলাকার সুমন শেখ(১৯) ও বাগামারার কালিকাপুর গ্রামের বাবলুর রহমান(৪৫) কে গ্রেফতার করেন। পরে তাদের সন্ধ্যার পরে তাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এনে পুকুর খনন নিরোধ ১৮৬০ সালের আইনের ১৮৮ ধারা অনুয়ায়ী তিন জনের প্রত্যেককে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদ্বন্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া একই দিন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলার বাইগাছ্ াএলাকায় অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স বিহীন, ড্রাম চিমনী ও কাঠ পোড়ানোর অভিযোগে ভাটা মালিক বাইগাছা গ্রামের শফিউল হকের পুত্র রেজাইল হককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। ভ্রাম্যমান আদালতের দায়িত্ব পালন করেন বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকিউল ইসলাম।

এদিকে অবৈধ পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে কারাদ্বন্ড দেওয়ার পর গতকাল একই এলাকার পুটু প্রাং ও তার স্ত্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে অভিযোগ করে বলেন, তাদরে একই এলাকায় এর আগে রফিকুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার ও জাফর আলী বেশ কয়েকজন একই ষ্টাইলে পুকুর খনন অব্যাহত রেখেছে। তারা ওই সমস্ত পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধেও আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলাম বলেন, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কোন পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই ভ্রাম্যামান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামীতে এই অভিযান চলামান থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
রাজশাহী বিভাগ বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে