২৭শে জুন, ২০১৯ ইং ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
মনোহরগঞ্জে বসত বাড়িতে সশস্ত্র হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট বরগুনায় নয়ন বন্ডের দায়ের কোপে রিফাতের মৃত্যু! বগুড়ায় ছিনতাই আক্রমনে আহত ৪ দা দিয়ে কুপিয়ে যাচ্ছিল দুই সন্ত্রাসী, যার ভিডিও... বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউপির উন্মুক্ত বাজেট...

বাগমারায় কারেন্ট জালে মৎস শূন্য হয়ে পড়ছে নদীনালা

  সমকাল নিউজ ২৪

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বৃহতম বারনই,রানী,ও ফকিন্নী নদীসহ বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ ভাবে কারেন্ট ও স্রৌতী জালের মাধ্যমে মাছ শিকার হচ্ছে। নদীতে অবৈধ জালের কারনে বড় মাছের পাশা পাশি ছোট পোনা মাছও শিকার করা হচ্ছে ফলে মাছের বংশ অনেকটাই ধ্বংশ হতে চলেছে নদিনালাতে। এলাকা সুত্রে জানাগেছে বাগমারা উপজেলা এক কালে মাছের অঞ্চল হিসেবে খ্যাত ছিলো।এখন প্রায় মৎস শূন্য হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় বর্তমানে যে সামান্য মাছ বাজারজাত হয় তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এখন বামারায় মাছের দাম স্বর্ণের দামের সঙ্গে তুলনীয়। স্থানীয় মৎস্য বিভাগ থেকে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির চমকপ্রদ ফিরিস্তি পাওয়া গেলেও তা সংশি¬ষ্ট বিভাগের ফাইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং বছরে এক বার জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে র‌্যালী এবং সরকারী কোন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করণ ও একটি সেমিনার করেই দায় সারছেন এখানকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে বাস্তবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি না পাওয়ায় মাছের জোগান প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় হ্রাস পাচ্ছে। একদিকে দেশের অন্যান্য স্থান থেকে মাছের আমদানি না হলে মৎস্য ব্যবসায়ীদের ব্যবসা অচল হয়ে পড়ে। অথচ বিভিন্ন খাল-বিলে কারেন্ট জালের মহোৎসব চললেও সংশ্লিষ্ট মৎস্য বিভাগ রয়েছে উদাসিন।বর্তমানে যে পরিমান জলাশয় বা মৎস্য ভান্ডার রয়েছে এর মধ্যে এক শ্রেনীর অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছের প্রজননের বাধা গ্রস্থ করছে এবং দেশীয় ছোট ছোট বিভিন্ন প্রজাতীয় মাছ ও ডিম ওয়ালা মাছ বিলুপ্ত করছে। উপজেলার তাহেরপুর, কামারখালি,ভবানীগঞ্জ,বাংগালপাড়া,মোহনগঞ্জ,একডালা,ও খাজাপাড়া এলাকার নদীতে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বর্তমানে যে পরিমান জলাশয় বা মৎস্য ভান্ডার রয়েছে এর মধ্যে এক শ্রেনীর অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছের প্রজননের বাধা গ্রস্থ করছে এবং দেশীয় ছোট ছোট বিভিন্ন প্রজাতীয় মাছ ও ডিম ওয়ালা মাছ বিলুপ্ত করছে। স্রৌতী ও বেড় জাল পেতে মাছ শিকার করছে এলাকার এক শ্রেনীর কথিপয় ব্যাক্তি এবং জেলেরা। বিষয়টি প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে। প্রতিদিন এসব জাল থেকে প্রায় পনের থেকে বিশ মন বিভিন্ন প্রকারের মাছ বাজারের আড়ৎগুলোতে উঠছে।কিন্তু আড়ৎগুলো আড়ৎদারেরা তাদের বেশী মোনার লোভে বাহির থেকে মাছ ব্যবসায়ীদের ধরে এনে ট্রাক ভরে বিভিন্ন জেলা শহরে সরবরাহ করায় এভাবে মাছ শিকারের ফলে দিন দিন নদ-নদী খালবিলেতে মাছ শূন্য হয়ে পড়ছে। এতে করে একদিকে যেমন মাছের বংশ হচ্ছে ধ্বংশ। অন্যদিকে নদী হচ্ছে মাছ শূন্য। এদিকে, বর্ষা মৌসুমে মা মাছগুলো ডিম ছাড়ে। কিন্তু ওই সময় এক শ্রেণির মৎস্য শিকারি এগুলো ধরায় ব্যস্ত থাকেন। এতে মাছের প্রজনন সীমিত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া অতি মুনাফার লোভে কতিপয় মৎস্য চাষি জলাশয় ইজারা নিয়ে কীটনাশক ব্যবহার করে মাছের বংশবিস্তার ধ্বংস করে ফেলছেন। এতেও হারিয়ে গেছে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।অপরদিকে,নদ-নদীর নাব্যতা ধবংস,জলাশয় বেদখল,অপরিকল্পিত বসতি নির্মাণ, কৃষি কাজে ব্যবহার করা কীটনাশক এর জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এবিষয়ে আর কোনো ধরনের মাছ নিধন না করার জন্য উর্ধতন প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা চেয়েছেন এলাকার সুধী সমাজ মহল।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে