১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বগুড়ায় বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত মাদ্রিদে বাংলাদেশী মালিকানাধীন ভূঁইয়া মনি... এক নজরে বরগুনা পৌরসভা ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কর্মসূচী মোগলগাঁও ইউনিয়নে... বরগুনায় ইলিশ উৎসব আগামী দুই অক্টোবর

বাগমারায় জেলা প্রশাসকের দূর্নীতি মুক্ত ঘোষনা বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে শঙ্কা

 মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা থেকে: সমকালনিউজ২৪

রাজশাহী জেলার বৃহতম ১৬টি ইউনিয়ন ও টি পৌরসভা নিয়ে বাগমারা উপজেলা গঠিত। এই উপজেলা বিগত এক বছর আগে তৎকালীন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের বাগমারায় এসে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করে সরকারি বিভিন্ন অফিস আদালতসহ বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানকে দূর্নীতি মুক্ত করার ঘোষনা দিয়ে ছিলেন। তার সেই ঘোষনা ঘোষনাই থেকে গিয়েছিল তা আর আলোর মুখ দেখেনি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলে বলেন।

সে সময় জেলা প্রশাসক দূর্নীতির প্রত্যক্ষ অভিযোগে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভুমি সহকারিকে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগটি হাতে নাতে প্রমানিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিলেও পরবর্তীতে রহস্যজনক কারনে তা তিনি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন। এর পর দিন মাস ঘড়িয়ে যায়। অন্যত্র বদলী হয়ে যান এসএম আব্দুল কাদের। সম্প্রতি তাঁর স্থালাভিষিক্ত হয়েছেন রাজশাহীর নবাগত জেলা প্রশাসক আব্দুল হামিদ। তিনি গত ২০ আগষ্ট বাগমারায় অনুরুপ এক মতবিনিময় সভায় এসে পূর্বের জেলা প্রশাসক এসএম আব্দল কাদেরের একই সুরে ঘোষনা দিলেন দূর্নীতি মুক্ত বাগমারা গড়ার। তার এই ঘোষান নিয়ে বিভিন্ন শ্রেনি পেশার জনমনে নানান ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার সুষ্টি হয়। অনেকেই জেলা প্রশাসকের এই মতবিনিময় সভাটিকে গতানুগতিক বলে মন্তব্য করেন। তারা বলেন এতে বাগমারার চলমান সমস্যার সমাধান তথা বাগমারাবাসীর প্রত্যাশার উল্লেখগোগ্য প্রতিফলন ঘটেনি বলে অনেকেই দাবী করেছেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, আজো বাগমারার কয়েকটি পুলিশ তদন্ত কেন্ত্র সহ খোদ থানা পুলিশ, পল্লী বিদ্যুত, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভুমি অফিস, পিআইও, পৌরসভা, মহুরীবার, সাবরেজিষ্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্র, খাদ্যগুদাম, বৃহৎ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন দপ্তর ঘুষ দূর্নীতিতে জর্জরিত। এসব স্থানে জনগন তাদের কাঙ্খিত সেবা পায় না । কেবলই তাদের হয়রানী করা হয়। তাদের মতে উপজেলা হেডকোয়ার্টার ভবানীগঞ্জ বাজারের রাস্তাঘাটের চরম বহাল অবস্থা। এখানে অল্পতে মারাত্বক জ্যাম পড়ে যায়। এবং বাজারের রাস্তা ঘাট গুলো ভীষন ভাবে নানান খানাখন্দকে ভরা। সামান্য বুৃষ্টিতে হাঁটু পরিমান পানি জমে যায়। এখানে দুই দফায় ১০/১২ কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণ করা হলেও তা কোনই কাজে আসছে না পৌরবাসীর। পৌরবাসীর অভিযোগ এখানে ড্রেন নির্মানের নামে কেবলই কোটি কোটি হরিলুট করা হয়েছে। এসব নিয়ে আপামর বাগমাররাবাসীর মনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগি শত শত লোকজনের দাবী বিগত আওয়ামলীলীগ সরকারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও নানান অবৈধ ্ইনকামে যারা রাতারাতি কোটি পতি বনে গিয়েছেন কেবল তারাই ভালোর জয়গান গায়ছেন। আর এখানকার পঁচানব্বই ভাগ মানুষের ক্ষোভ চাপাই থেকে যাচ্ছে। এসব লোকজনেরা তাদের কষ্ট বেদনার কথা জেলা প্রশাসককে নিরবে নির্ভিতে জানাতে চান। তাদের প্রত্যাশ জেলা প্রশাসক এমন একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে অবহেলিত নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের এসব দুঃখ দূর্দশার কথা শুনে কিছুটা হয়ত তাদের পরিত্রান দিতে পারবেন।

পূর্ববাগমারার নরদাশ গ্রামের সাবেক দুজন ইউপি সদস্য ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০/১২ জন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম তাদের বিলের জলবদ্ধ সৃষ্টিকারি বিভিন্ন খাল বিলের মুখ খুলে দেওযার জন্য অভিযানে নেমে রহস্যজনক কারণে তা ইউএনও তা বন্ধ করে চলে যান। এতে খাল বিলের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষ করতে অবৈধ দখলদারীরা আরো উৎসাহিত হয়ে পড়ে। আভিযোগ রয়েছে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিলে মাছ চাষের জন্য তথাকথিত দখলদারদের নিয়ে নাটকীয় ভাবে বিল কমিটি গঠন করে দিচ্ছেন। নরদাশের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, তার ইউনিয়নে অন্তত ১৫/২০ জায়গায় অবৈধ দখলদারীরা ব্রীজ কালভাটের মুখ বন্ধ করে বিলে মাছ চাষ করছে। এত হাজার কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিল সংলগ্ন রাস্তাগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি এসব ঘটনা উপজেলা মিটিংএ তুলেছেন এবং মন্ত্র্রনালয় পর্যন্ত লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। তার মতে এখানে সরকার দলীয় নেতা জড়িত থাকা এবং লাভবান হওয়ায় তারাই কৌশলে ফাইলগুলো আটকে রেখেছে।

এই ইউপি চেয়ারম্যান সহ কয়েকজন ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, এখানে আইন শুধু দূর্বলের জন্যই প্রয়োগ করা হচ্ছে। ক্ষমতাশীন দলের হলে সব অপরাধেই তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন। এর আগে এখানে জাতীয় মৎস সপ্তাহের সময় উপজেলার ভাই ভাই মৎস ফিডের দোকান সহ আরো একটি দোকানে লাইসেন্স না থাকায় তাদেরকে অর্ধলক্ষ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়। অথচ এর আগে চলতি মাসের ১০ আগষ্ট উপজলার গনিপুর ইউনিয়নে ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মজনুর রহমান, সাবদুল হোসেন সহ চেয়ারম্যান এ্যাড. মনিরুজ্জামান এর এক সহযোগি মিলে ওই ইউপি’র প্রায় দুইশ জন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগির কাছে থেকে জন প্রতি এক হাজার টাকা করে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কর্তন করে সটকে পড়েন। এর সাথে মোহনগঞ্জ জনতা ব্যাংক শাখার কিছু যোগসাজসে এই দূর্নীতি করতে সহযোগিতা করে। সে সময় এই বিষয়টি ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আইন মন্ত্রনালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারি বিচারিক হাকিম হুমায়ন কবির জানতে পেযে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি বাগমারা উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসককে অবহিত করলে । বাগমারার ইউএনও জাকিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুৃটে গিয়ে কছিু টাকা উদ্ধার করেন। পরে ইউএনও অফিসে এই বিষয়টি নিয়ে বসে ওই ইউপি’র চেয়ারম্যান মেম্বারদের সাথে সামান্য মুচলেখার মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা করে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল দাবী করে বলেন, এখানে গুরু পাপের লগু দন্ড দেওয়া হয়েছে। এতে বড় বড় অন্যায়কারীরা আরো বড় বড় অন্যায় করার প্রশয় পেয়ে যাবে।

ভবানীগঞ্জ বাজার বনিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্জ জাহাঙ্গীর আলম হেলাল অভিযোগ করে বলেন, ভবানীগঞ্জ পৌরসভা নামেই তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নিত হয়েছে। এখানে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রাস্তাঘাট উন্নয়নের নামে শুধুই টাকা পয়সার অবচয় করা হয়েছে। নিয়ম বা বিধি না থাকা সত্বেও এখানকার গোড়াউন মোড়, ব্র্যাক মোড়, কলেজ মোড়, দেওলা বাসট্রান্ড সহ বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবৈধভাবে পৌরসভার নামে ইচ্ছা মত টোল বা চাঁদা আদায় করা হয়। এই টাকায় পৌরসভার কোন উন্নয়ন কাজে ব্যয় না হয়ে কথিপয় নেতার পকেট ভারি হয় বলে অনেকের অভিযোগ।

প্রায় একই অভিযোগ করে উডপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি সুসাশন ও হাঙ্গার প্রজেক্টের উপদেষ্টা আবু তালেব বলেন, ভোটার বিহীন নির্বাচিত মেয়রের স্বেচ্ছাচারীতায় পৌরবাসী আজ অতিষ্ঠ। তিনি পৌরবাসীর সুযোগ সুবিধা ও সুখ দুঃখের কথা না ভেবে নিজের সুখ ভোগ বিলাস নিয়ে মত্ত রয়েছে। শুনেছি তিনি তার বৃদ্ধা বয়সী স্ত্রীকে তালাক দিয়ে নাতনী বয়সী স্কুল পড়ুয়া মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে নিয়েই বসবাস করছেন। তার পৌবাসীদের নিয়ে ভাবনার সময় কোথায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভবানীগঞ্জ পৌর মেয়র আব্দুল মালেক বলেন, জনগন যাদের যাদের পছন্দ করে না এবং চাই না তারাই আমার সমালোচনা করেছে শুধু তাদের স্বার্থে। যে যাই বলুক, আমি পৌরসভার উন্নয় নে কাজ করে যাচ্ছি । ইতিমদ্যে এই পৌরসভার রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য চার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে আরো পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অপর দিকে নানান অভিযোগ ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম বলেন, অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উপজেলার বন্ধ খাল বিলের মুখ দেওয়ার কাজটি চলমান রয়েছে। লোকবল সংকটের কারণে সাময়িক তা বন্ধ ছিল। গতকাল বৃস্পতিবারও উপজেলার গোলায়কান্দি এলাকার দুটি বন্ধ ব্রীজ কালভাটের মুখ খুলে দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর বাদী মতে একজন সৎ সহসী ও যোগ্য সহকারি কমিশনার (ভুমি) আবুল হায়াত কে মাত্র দুই মাসের মাথায় কী কারনে এবং কাদের স্বার্থে বদলী করে দেওয়া হল এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, এটা প্রশাসনের ব্যাপার। এখানে আমার কোন করনীয় নেই। এছাড়া তিনি আরো অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, এখানে(বাগমারায়) সম্প্রতি জেলা প্রশাসক মহোদয় যে ভাবে দূর্নীতি মুক্ত প্রশাসন জনসেবা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। এখানে কে দলীয় কে ক্ষমতাবান কে আপন কে পর সেসব বিষয় প্রাধান্য না দিয়ে নিরপেক্ষ ভাবে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। দূর্নিতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। অভিযোগ ও প্রমান পেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
রাজশাহী বিভাগ বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে