২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
ই’য়াবা সহ আটক-১ মহাদেবপুর-ছাতড়া সড়ক খানাখন্দে ভরা; দূর্ভোগ চরমে বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবকদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন সাংবাদিক ইকবাল হোসেনের শ্বশুরের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ দুর্গাপুরে মা সমাবেশ

বাগমারায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দূর্নীতির বলি রিয়াজী ও বিরেন

 মাহফুজুর রহমান প্রিন্স,বাগমারা থেকে: সমকাল নিউজ ২৪

রাজশাহীর বাগমারার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের রিয়াজ ও বিরেন কুমার চন্দ্র নামের অসহায় দুজন ব্যক্তি। এরা অতি অভাবের তাড়নায় পেটের দায়ে কাজ নিয়েছিল স্থানীয় পল্লী বিদ্যুত অফিসে। আর এই পল্লী বিদ্যুতে কাজ নেওয়া তাদের জীবনে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এরা দুইজনই অকালে প্রাণ হারিয়েছেন বৈদ্যুতিক পোল থেকে বাসা বাড়িতে বিদ্যুত সংযোগ দেওয়ার সময়। আজ নিঃস্ব তাদের পরিবার। তাদের এই অকাল মৃত্যুর দায় পল্লী বিদ্যুত নেয়নি। তাদেরকে সম্পর্নরুপে অস্বীকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিঃস্ব ওই পরিবারের সদস্যদের দাবী তারা পল্লী বিদ্যুতের সীমাহীন দূর্নীতির বলি হয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের অবহেলা উদাসীনতায় এমন মৃত্যুর ঘটনা আর কতকাল ঘটতে থাকবে।
এলাকায় খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহে উপজেলার হটাৎপাড়া গ্রামে নতুন বিদ্যুত সংযোগ দিতে গিয়ে তারে জড়িয়ে রিয়াজ উদ্দিন নামে এক বিদ্যুত কর্মীর মৃত্যু হয়। এবং বছর দেড়েক আগে একই ভাবে উপজেলার দেওলা গ্রামের একটি বাড়িতে বিদ্যুত সংযোগ দিতে গিয়ে একই ভাবে প্রান হারান আরেক বিদ্যুত কর্মী বিরেন চন্দ্র। এই মৃত্যুর পর স্থানীয় পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের ওপর স্থানীয় জনগনে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। গত সপ্তাহে নিহত রিয়াজ উদ্দিনের মৃত্যুর তিন দিন পর নাটোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১ এর বাগামারা জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম মো: রেজাউল করিম স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে প্রতিবাদ পাঠিয়ে দাবি করেন যে নিহত রিয়াজ উদ্দিন তাদের কোন কর্মী ছিল না। অথচ এর আগে দূর্ঘটনার দিন তিনি বলেছিলেন যে রিয়াজ উদ্দিন ছিলেন তাদের নিয়মিত কর্মী। একই ভাবে বিরেন চন্দ্র দূর্ঘটনায় মৃত্যুর সময় বার বার ভোল পাল্টিয়ে নিজের মত পরিবর্তন করেছিলেন এই ডিজিএম। সে সময় বিরেনের পরিবারের কাউকে পল্লী বিদ্যুতে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন ও তাদেরকে আর্থিক ক্ষতি পূরন দেওয়ার প্রলোভনে বিরেন পরিবার পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে মামলা না করায় বিরেনের লাশটি ময়না তদন্ত ছাড়াই সৎকার করা হয়। একই ভাবে রিয়াজের পরিবারকে অনুরুপ প্রলোভন দিয়ে তাদেরকেও মামলা থেকে বিরত রাখা হয়। তবে পল্লী বিদ্যুত অনুষ্ঠানিক ভাবে দাবী করে বলেছে রিয়াজ উদ্দিন তাদের কর্মী ছিলনা। এবং গত মঙ্গলবার নাটোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১ বাগমারা জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম রেজাউল করিম স্থানীয় সাংবাদিকের কাছে এ্ দাবী করে একটি প্রতিবাদ পাঠান। বিষয়েটি পত্রিকায় ছাপানোর জন্য সাংবাদিকেদের অনুরোধ জানান। এর আগে তিনি রিরাজ উদ্দিনে কে তাদের নিয়মিত কর্মী বলে দাবী করেছিলেন। কিন্তু ঘটনার তিন দিনের মাথায় এভাবে কেন সুর পরিবর্তন করলেন কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। এদিকে,

নিহত বিদ্যুত কর্মী রিয়াজ উদ্দিনের স্বজনরা দাবী করে বলেন, রিয়াজ উদ্দিন বিগত ২০/২২ বছর ধরে নাটোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১ এর বাগামারা জোনাল কার্যালয়ে কাজ করছেন। প্রথমে মিটার রিডার হিসাবে কাজ করলেও পরে নিয়মিত কর্মী হিসাবে কাজ করেন। স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের প্রায় সকল কর্মী ও স্থানীয় ৩০/৩২ জন লোক একই তথ্য দিয়েছেন। ওই দিন হটাৎপাড়া গ্রামে বিদ্যুত সংযোগ দেওয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার নিহত রিয়াজ উদ্দিন পল্লী বিদ্যুত অফিস থেকে তিনটি মিটার নিয়ে এসে তিনটি বাড়িতে স্থপান করেন।এবং পরের দিন সেখানে বিদ্যুত সংযোগ দিতে গিয়ে তিনি মারা যান। হাটৎপাড়া গ্রামের বিদ্যুত গ্রাহক রেখা খাতুন ও রেজাউল করিম জানান, ওই দিন রিয়াজ উদ্দিন সংযোগ দেওয়ার আগে নিয়ন্ত্রন কক্ষে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েই খুঁটিতে ওঠেন। তাদের মতে সেখানে সংযোগ বন্ধ না করেই ভুল বার্তা দেওয়ার কারনেই তার মৃত্যু হয়। তবে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম রেজাউল করিমসহ পল্লী বিদ্যুতের দুজন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন এই ঘূর্ঘটানর পর পল্লী বিদ্যুতের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষে ব্যাপক ভাবে তদন্ত শুরু করেছে। সুত্র মতে ওই তদন্তে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের অনেকেই ফেঁসে যেতে পারেন এমন আশাংকাতেই তারা এখন রিয়াজ উদ্দিনকে অস্বীকার করতে চাইছেন। তবে তাদের এই অপচেষ্টা ব্যর্থ হতে চলেছে। কারণ তদন্তকারী দল মোবাইলের ওই কললিষ্ট এবং সেই কতপোকথন উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অপর দিকে পল্লী বিদ্যুত বাগমারা জোনাল কার্যলয়ের ডিজিএম রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট চক্র ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহের জন্য ওঠে পড়ে লেগেছে। তারা নিহত রিয়াজ উদ্দিনেক অস্বীকার করেই ক্ষান্ত হয়নি। তারা এখন রিয়াজ উদ্দিনকে মিটার চোর বানানোর পাঁয়তারা করছে।

নিহত রিয়াজ উদ্দিনের ছোট ভাই এরাশাদ আলী বলেন, তার ভাইয়ের সাথে পল্লী বিদ্রুতের ডিজিএম রেজাউল করিম প্রতারনা করেছে। তিনি নিজে চাকুরী বাঁচাতে তার ভাইকে এখন পুরো আস্বীকার করে এখন চোর সাজানোর চক্রান্ত শুরু করেছে। তিনি সহ ওই গ্রামের আরো ৫/৬ জন জানান এখানে মাত্র তিনটি মিটার বরাদ্দ ও সংযোগ নিতে প্রায় ষাট হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।

এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাউল করিম মুঠোফোনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,রিয়াজ উদ্দিন শেখ এক বছর ধরে পল্লী বিদ্যুতের সঙ্গে কাজ করেননি। তিনি অসুস্থ ছিলেন। হটাৎপাড়া গ্রামের তিন বাড়িতে কীভাবে রিয়াজ উদ্দিন মিটার স্থাপন করলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এসব নিয়ে তদন্ত চলছে বলে এরিয়ে যান তিনি।#

 

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে