২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
আক্কেলপুরে গৃহবধূর চুল কেটে নির্যাতন: আটক ৩ শীতে কোভিড -১৯ এর, কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন সভা বগুড়ায় সাবেক মেম্বার খু’ন উজিরপুরের সাতলা ইউপির উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী লিটন... বরগুনার তালতলীতে ইউপি উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নূর...

বামনা ডৌয়াতলা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

  সমকালনিউজ২৪

বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের নির্দেশে হলতা ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবীকৃত জমিতে দোকান ঘর তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানাগেছে, হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কের পাশে সরকারী জমিতে দোকান ঘর তুলে পরিবহন ব্যাবসা চালায় কতিপয় প্রভাবশালী। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সেখান থেকে ওই দোকান ঘর গুলে উচ্ছেদ করে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে কলেজের দক্ষিন পাশে খোলা জায়গায় ওই উচ্ছেদ করা দোকান ঘরগুলো তিন মাসের জন্য রাখার অনুমোতি দেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রভাবশালী দোকান মালিকরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছের লোক হওয়ায় তারা ওই জমি থেকে পরবর্তীতে ঘরগুলো অপসারণ না করে উল্টো আরো কয়েকজন প্রভাবশালীরা সেখানে ঘর উত্তোলন করেন।

বর্তমানে ওই জমিতে ৬টি দোকান ঘর উত্তোলন করা হয়েছে। ঘর গুলোর মালিকরা হলেন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সাদিকুর রহমান, মো. জাকির হোসেন, মো. আবুল কালাম, মো. দুলাল সরদার ও মো. শাহ-আলম। এরা সবাই ইউপি চেয়ারম্যানের নির্বাচনী কর্মী।

তবে দোকান ঘর মালিকরা দাবী করেন চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তাদের ওই জমিতে ঘর তোলার অনুমোতি দিয়েছে। ওই জমির প্রকৃত মালিক ইউনিয়ন পরিষদ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, দখল হওয়া ওই জমির মালিকানা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ দাবী করেন। যদি ওই জমির মালিক ইউনিয়ন পরিষদ হয় তাহলেও এভাবে দখল করা ঠিক নয়। ইউনিয়ন পরিষদ ওই জমিতে কাউকে ঘরতুলতে অনুমোতি দেওয়ার পূর্বে সভায় সকলের সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোতি নেওয়ার প্রয়োজন ছিলো। চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে কোন ভাবেই তার জমি কাউকে দখল দিতে পারেন না।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান হলতা ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রি কলেজের দক্ষিন পাশে ইউনিয়ন পরিষদের ও কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবীকৃত জমি তার নির্বাচনী কর্মীদের অবৈধ সুবিধা দিতে সেখানে ঘর তুলতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এছারাও দুই পক্ষের দাবীকৃত বিরোধীয় জমির মালিকানা নিষ্পত্তির জন্য সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনের উপস্থিতিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রধান করা হয় বামনা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদারকে। তিনি একাধিকবার ওই জমির পরিমাপ করেন।

ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার জানান, তিনি কয়েক দফায় কলেজ ও ইউনিয়ন পরিষদের দাবীকৃত জমি পরিমাপ করেছেন। চেয়ারম্যানের নির্দ্দেশে ঘর তোলা ওই জমি মুলত ইউনিয়ন পরিষদের তবে পরিষদ কোনভাবেই কোন ব্যাক্তিকে ওই জায়গায় ঘর তোলার অনুমোতি দিতে পারেন না। এটা চেয়ারম্যানের খামখেয়ালী ছারা কিছুই নয়।

বিরোধীয় জমিতে দোকান ঘর উত্তোলনকারী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানের অনুমোতি নিয়ে তারা সেখানে ঘর তুলছেন।

ডৌয়াতলা ইউনয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি আমার পরিষদের জমিতে তাদেরকে ঘর তোলার অনুমোতি দিয়েছি।

হলতা ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম (টুকু) বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান যে জমিতে তার লোকদের ঘর তুলতে অনুমোতি দিয়েছে ওই জমি আমাদের কলেজের। এটির মালিকানা নিয়ে মামলা চলমান। কোর্ট এখানে কোন প্রকার স্থাপনা নির্মানের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তার পরেও সেখানে ঘর উত্তোলন শুরু করলে কলেজ থেকে বামনা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও সেখানে ঘর উত্তোলনে বাঁধা দেয়নি। বরং পুলিশের লোজন আমাদের জানিয়েছেন এখানে অনেক বড় বড় লোকের হাত রয়েছে আমাদের ঘর উত্তোলনে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা নেই।

বামনা থানার অফিসার ইন চার্জ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, কলেজ থেকে আমাদের কাছে ঘর উত্তোলনের খবর জানানোর পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

হলতা ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রি কলেজ সভাপতি কথা সাহিত্যিক ড. সেলিনা হোসেন বলেন, ডৌয়াতলা কলেজ যে জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেটি হলো ১৩০ খতিয়ানের ৫১ নম্বর দাগের। আর ওই বিরোধীয় জমির একই দাগের। জমিটি ইউনিয়ন পরিষদ দাবী করেন। এ ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। জমিটি মালিকানা নিয়ে এখনো কোন প্রকার সিদ্ধান্ত না হলেও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তার লোকদের কিভাবে ওই জমিতে ঘর তোলার অনুমোতি দেয় তা আমার বোধগম্য নয়।

বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা বলেন, ওই জমি খাস খতিয়ানের নয় তাই এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত আমি দিতে পারি না। জমির মালিক পরিষদ বা কলেজ যারাই হোক এভাবে কোন ব্যাক্তিকে ঘর উত্তোলনের অনুমোতি দিতে পারে না।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
অপরাধ বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে