৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
গুরুদাসপুর শিশুকে গলা কেটে হ’ত্যা, রক্তমাখা ছু’রি সহ... বরগুনায় এলজিইডির প্রকৌশলীকে মারধর প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য জারুল ফুল যশোরের বেনাপোলে ভারতীয় গাঁ’জাসহ আটক ১ জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে পৌরসভার পক্ষ থেকে ঈদ উৎসব ভাতা...

বাসাইল থানায় অভিযোগ রেকর্ড না করায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে কোর্টে মা’মলা।

  সমকালনিউজ২৪

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, টাঙ্গাইলঃ

টাঙ্গাইলের বাসাইল থানায় আওয়ামী লীগের নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, প্রাণ নাশের হুমকি ও মারধরের অভিযোগ রেকর্ড না করায় ও সুষ্ঠ বিচার না পওয়ায় হাবলা দক্ষিনপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের মেয়ে কানিজ ফাতেমা ন্যায় চিারের স্বার্থে বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে সি আর মা’মলা নং ৬৬/২০২১ দায়ের করেন ।

মা’মলার বিবরন থেকে জানা যায়, হাবলা ইউনিয়নের হাবলা দক্ষিনপাড়া গ্রামের মৃত ছাদেক মিয়ার ছেলে অভিযুক্ত রাকিব হোসেন একই গ্রামের আবুল কালাম আজাদের মেয়ে বাদী কানিজ ফাতেমাকে একাধিকবার ধ’র্ষন করে। পরে ঘটনাটি লোক সমাজে জানাজানি হলে আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল রাকিব হেসেনের সাথে মোছা: কানিজ ফাতেমার ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ৪,০০০০০ (চার লক্ষ) টাকা দেনমোহর ধার্য্যে রেজিস্ট্রি কাবিন মূলে বিবাহ হয়। বিবাহের পর হইতে রাকিব তার শশুর বাড়িতে ফাতেমাকে নিয়ে স্বত্ব দাম্পত্ব জীবন পালন করে। বিবাহের কিছুদিন যেতে না যেতেই রাকিব যৌতুকের টাকার জন্য ফাতেমাকে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক ভাবে অত্যাচার শুরু করে।

এ ঘটনার পর রাকিবের তিন ভাই জাকির, মনিরুজ্জমান ও ইমরুজ্জামান ফাতেমাকে হ’ত্যা করার জন্য রাকিবকে পরামর্শ দেয়। সেই পরামর্শ অনুযায়ী ফাতেমাকে হাত পা বেধেঁ রেল লাইনে নিয়ে হ’ত্যার চেষ্ঠা করে।

পরে ফাতেমার বাবা রাকিবকে ১,০০০০০/-( এক লক্ষ টাকা) দেয়। এর কিছুদিন পর আবারও ৫,০০০০০/- (লক্ষ টাকা) যৌতুক দাবী করলে টাকা না দেওয়ায় ফাতেমাকে আবারও মারধর করে। ফাতেমা তার জীবন রক্ষার জন্য স্বামীর কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। স্বামী রাকিব পাশের বাড়িতে গিয়ে ফাতেমাকে উড়না দিয়ে গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হ’ত্যার চেষ্ঠা করে। পরে এলাকার লোকজন গিয়ে ফাতেমাকে উদ্ধার করে।

পরে রাকিব ও তার ভাইয়েরা ফাতেমাকে স্বেচ্ছায় তালাক দেওয়ার কথা বলে। সে যদি স্বেচ্ছায় তালাক না দেয় তাহলে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

ফাতেমার মা মোছা: রুবি বেগম বলেন, আমার মেয়ের উপর অন্যায়ভাবে শারীরিক ও মানসিক ভাবে অত্যাচার করে আসছিলো তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন। পরে আমার মেয়ে বাসাইল থানায় গত ৩১ জানুয়ারি একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত করে চলে যাওয়ার পর রাকিব ও তার ভাইয়েরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। সেই সাথে আরো বলে যদি অভিযোগ না তুলে নেই তাহলে মা-মেয়েকে প্রানে মেরে ফেলবে। কেউ কিছু করতে পারবে না। তোদের লা’শও কেউ পাবে না।

এরপরও গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে আমার বাড়িতে প্রবেশ করে আমার মেয়েকে হ’ত্যা করার জন্য চেষ্ঠা করে। পরে আমাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের মানুষ এসে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে অচেতন অবস্থায় মির্জাপুর উপজেলার জার্মুকী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ফাতেমার মা আরও বলেন, আমার স্বামী বিদেশ থাকায় ফাতেমা (১৭) সহ আরও দুই মেয়ে নিয়ে বাড়িতে থাকি। রাকিব , মনিরুজ্জমান, ইমরুজ্জামান, বাসাইল উপজেলার বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. জাকির হোসেনদের অন্যায় অত্যাচারে আমরা বাড়িতে থাকতে পারতেছিনা। বাড়িতে থাকলেই রাতে দরজা, জানালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে আমাদের উপর অত্যাচার শুরু করে। আমাদের জীবন রক্ষার্থে ও ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে বাসাইল থানার এস আই মো. বিল্লাল বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি বাসাইল থানায় একটি অভিযোগ করে ফাতেমা। পরে আমি মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে কথা বলেছি। এটা তাদের পারিবারিক বিষয়। এলাকার চেয়ারম্যান আছে তারা দায়িত্ব নিয়ে মিমাংসা করে দিবে।

হাবলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ বিষয় নিয়ে আমরা একটি মজলিশে বসি এবং উভয় পক্ষের জবানবন্দী শুনি এবং কানিজ ফাতেমার শরীরের কাটা ছেড়ার বিষয়টি একটি মেয়ে দিয়ে তদন্ত করালে তার সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ছেলে মেয়ে উভয়কে সংসার করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করিলে মেয়ে বলে আমি সংসার করব ছেলে বলে আমি ওকে নিয়ে সংসার করব না।

এ বিষয়ে ফাতেমার স্বামী রাকিব তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করে।

বাসাইল উপজেলার বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. জাকির হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এরা গোপনে বিয়ে করেছে আমরা জানিনা। আমার ভাইয়ের সাথে কথা বলেছি। সে ওকে নিয়ে সংসার করবেনা। আমার ভাইয়ের মতে আমরা একমত।

বাদী ফাতেমা বলেন, আমার সাথে যে ধরনের অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে আমি তার বিচার চাই। এমনও আরো অনেক ঘটনা আছে যা আমি বলতে পারবো না। আমি অন্যায়কারীদের বিচার চাই। সে আরও বলে আমরা স্বামী-স্ত্রী থাকা অবস্থায় অনেক আপত্তিকর ছবি তুলেছি। তোকে তালাক দেওয়ার পর তোর এই বিবস্ত্র ছবি সামাজিক গনমাধ্যমে ছড়িয়ে দিব। তোর যাতে কোন জায়গায় বিয়ে না হয় সে ব্যবস্থা করব।

এ বিষয়ে মা’মলার তদন্তকারী ডিবির এস আই মো. বদিউজ্জমান বলেন, মা’মলার তদন্ত করেছি এবং মা’মলার বিবরন অনুযায়ী মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের জন্য মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রিকোজিশন এবং মেয়েকে মেডিক্যাল টেস্ট করানোর জন্য পাঠানো হয়েছে । রিপোর্ট আসলেই কোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করব।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
টাঙ্গাইল বিভাগের সর্বশেষ
টাঙ্গাইল বিভাগের আলোচিত
ওপরে