২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বগুড়ায় বিশ্ব নদী রক্ষা দিবস পালিত চাঁদপুরে ইলিশের আমদানী বাড়লেও দাম না কমায় হতাশ ক্রেতারা আত্রাইয়ে পানিতে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃ’ত্যু; ১৯... পাইকগাছায় ভুয়া ঠিকানা দিয়ে বিয়ে করে দুই লক্ষ টাকা... বাল্যবিবাহ-ই’ভটিজিং-স’ন্ত্রাস ও মা’দক প্রতিরোধে...

বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের এক মাসেই ফাটল

 মোঃ ইলিয়াস আলী,ঠাকুরগাঁও, সমকালনিউজ২৪

চলতি বছরের মে মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখনো ক্লাস শুরু হয়নি। শিক্ষার্থীরা উঠতে পারেনি নতুন ভবনে। ৬৫ লাখ টাকা খরচে নির্মিত ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বুঝে নেওয়ার আগেই প্রতিটি কক্ষে দেখা দিয়েছে ফাটল। নির্মাণের এক মাসেই ফাটল ধরা ভবন স্কুল কর্তৃপক্ষ বুঝে নিবেন না লিখিতভাবে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে।

ঠিকাদারে নিম্নমানের কাজ ও স্থানীয় প্রকৌশলীর উদাসীনতার কারণে এমনটাই ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১৩ নম্বর মধুপুর-৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে। এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গত ২৫ জুন লিখিতভাবে ভবনের দৃশ্যমান ফাটল সম্পর্কে উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছেন।

১৩ নম্বর মধুপুর-৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আখতারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৩৬ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হবার পর চার কক্ষের একটি জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বিদ্যালয়টি কর্তৃপক্ষ। গত ১০ বছর ধরে ক্লাস চলাকালীন বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের বই ভিজে নষ্ট, ছাদের প্লাস্টার খসে শিক্ষার্থীদের উপর পড়াসহ নানা দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব বাধার মোকাবিলা করেও ১৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ওই জরাজীর্ণ ভবনেই পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ভবনের ফাটলের বিষয়টি লিখিতভাবে স্থানীয় প্রকৌশলী ও শিক্ষা অফিসে অবগত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির জিল্লুর রহমান দৈনিক অধিকারকে জানান, দায়িত্ব পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার অবগত করলে ২০১৮ সালে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনের নির্মাণের বরাদ্দ পান। শুরু হয় নির্মাণ কাজ। দিনাজপুর এলাকার এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজটি পেলেও সেই কাজটি স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী ঠিকাদার চুক্তিতে নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের জন্য ক্রয় করে নেন। নির্মাণের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, সঠিকভাবে সিমেন্টের প্রয়োগসহ নানা অনিয়ম করছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। আমি বহুবার বাধা প্রদান করেও কোনো ফল পায়নি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রকৌশলী তদারকি জন্য কাজ চলাকালীন কোনো লোক এখানে ছিল না। এমন ফাটল ধরা ভবন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের নিকট হতে বুঝে নিবেন না বলেও জানান তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে পানিতে ভিজে গেছে পুরাতন ভবনের মেঝে, অন্য একটি কক্ষে খসে পড়ছে ছাদের প্লাস্টার। এমন ভবনেই ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। তবে অনেক ভয় কাজ করছে তাদের মনে। এমনটাই জানালেন শিক্ষার্থীরা।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃষ্টি আক্তার জানায়, আমরা এ বছর বিদ্যালয় থেকে বিদায়। অনেক স্বপ্ন ছিল শেষের বছরের কয়েকদিন বড় একটি ভবনে ক্লাস করব। বিদ্যালয়ে ফাটল ধরায় আমাদের সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলে।

উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি দপ্তরে জানিয়েছে। আমি বিদ্যালয় পরিদর্শনে যাব। পরিদর্শন শেষে বলা যাবে ফাটলের কারণ।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার সামশুল হক জানান, ভবন নির্মাণের বিষয়টি স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের। তাকে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই বিষয়টির সমাধান হবে।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ঠাকুরগাঁও বিভাগের সর্বশেষ
ঠাকুরগাঁও বিভাগের আলোচিত
ওপরে