২৬শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ১১ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
কলাপাড়া হাসপাতালে ডাক্তার সংকট অথচ বদলির হিড়িক না’গঞ্জে গোল্ডেন চেস আন্তজার্তিক রেটিং দাবায় হানিফ... আমতলীতে চো’রাই গরু উ’দ্ধার শার্শা উপজেলার সকল কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় করলেন... মতলবে ফলদ বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন- এমপি নুরুল আমিন

বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে ১২ বিয়ে, অতঃপর…!

 অনলাইন ডেস্ক। সমকালনিউজ২৪

শাহনুর রহমান সিক্ত। অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন তিনি। বড় হয়েছেন বিপিএটিসির কোয়ার্টারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তার হাতের নাগালে। ওই ক্যাম্পাসের আলো বাতাস তার সবই পরিচিত। সিক্ত নামের ওই মেয়েটি নিজেকে পরিচয় দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। তিনি নাকি ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার।

আর ওই পরিচয় দিয়ে তিনি ইতিমধ্যে একডজন বিয়ে করেছেন। প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। অথচ অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলে যাওয়া কথিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীর পড়াশোনা মাত্র ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত। তার নামের সঙ্গে শাহনুর আকতার নামে একজন বিসিএস ক্যাডারের নামের মিল থাকায় তার পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছেন সিক্ত নামের এই নারী। আদতে তিনি একজন ভয়ংকর প্রতারক।

গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও সিক্তর কথিত স্বামীর দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব প্রতারণার গল্প।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, সিক্তর মা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাভারের বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) ট্রেনিং ডিরেক্টর। তার ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বিপিএটিসির ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর। বড় বোন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক। দুলা ভাই প্রকৌশলী, একমাত্র চাচা সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং মামা একজন মন্ত্রী। এমনকি তিনি নিজেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের সাবেক ছাত্রী ও ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার বলে দাবি করে আসছিলেন।

পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায়, প্রকৃতপক্ষে সিক্তর বাবা বিপিএটিসির একজন গাড়িচালক ছিলেন। বাবার অকাল মৃত্যুর পর মা বিপিএটিসিতে আয়ার চাকরি পান। সিক্ত তার মায়ের সঙ্গে বিপিএটিসির কর্মচারী কোয়ার্টারে বড় হন। সেখানেই বিসিএস ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। এই সুযোগে প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরির পদ, পদমর্যাদাসহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা পান তিনি।

বাসার কাছেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হওয়ায় মাত্র পঞ্চম শ্রেণী পাস সিক্ত সেখানকার শিক্ষার্থীদের আচার-আচরণের ভিত্তিতে নিজেকে গড়ে তোলেন নিজেকে। এমনকি ভালোভাবে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতাও অর্জন করে ফেলেন তিনি। ক্যাম্পাসের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরদের সম্পর্কেও অনেক তথ্যও সংগ্রহ করেন তিনি। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার বন্ধু গড়ে তোলেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যাচের রি-ইউনিয়নে অংশগ্রহণ শুরু করেন তিনি।

শাহনুর রহমান সিক্ত ছাড়াও ওই নারী সিক্ত খন্দকার, তাহামিনা আক্তার পলি ও তামিমা আক্তার পলি বলে নিজের পরিচয় দিতো। ৩৬তম বিসিএস ক্যাডার শাহনুর আক্তারের নামের সঙ্গে প্রতারক সিক্তর নামের মিল রয়েছে। এ কারণে সিক্ত বিসিএস ক্যাডার শাহনুরের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিচ্ছিলেন। এভাবে সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীকে সে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রথমে বিয়ে করে। পরে স্বামীর আত্মীয় স্বজনদের চাকরি দেয়ার নাম করে সাত লাখ টাকা ও ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়। এক স্বজনকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির নাম করে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের অর্থ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকেও প্রেমের ফাদে ফেলে প্রথমে সে বিয়ে করে। পরে তার সবর্স্ব হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়ে।

জানা গেছে, ১০/১২ বছর ধরে একই ধরণের প্রতারণা করছে সিক্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থী ছাড়াও আরও অন্তত ১০ জনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে স্বর্বস্ব হাতিয়ে নিয়েছে। ১০/১২ বছর ধরে সে এই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত। তার পরিবারের সদস্যরা প্রতারণার কাজে তাকে সহায়তা করতো। একটি প্রতারণার মামলায় সিক্তর দুলাভাই আফতাব উদ্দিনকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি নাবিদ কামাল শৈবাল জানিয়েছেন, একটি প্রতারণার মামলায় সিক্ত নামের ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে তিনি একজন প্রতারক। মামলার তদন্ত এখনো চলছে। তার সম্পর্কে এরই মধ্যে অনেক তথ্য জানা গেছে। বিয়ের ফাঁদে ফেলে অন্তত ১২ জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এই নারী।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ. স. ম. ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, এই নারীর মতো কোনো জালিয়াতি চক্রের হাতে কেউ যাতে না পড়ে সেজন্য সবার সতর্ক থাকা উচিত। এমন জালিয়াতির কোনো তথ্য যদি কারও কাছে থাকে, সবার কাছে অনুরোধ তারা যেন দ্রুত আমাদের বিষয়টি জানায়। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
অপরাধ বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে