১৮ই জুন, ২০১৯ ইং ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
সংবাদ প্রকাশের পর ডিসির সহযোগিতার ভাতা কার্ড পেল ১৩ জন... নওগাঁয় পাটক্ষেত থেকে দুই কিশোরসহ মোট ৩জনের লাশ উদ্ধার ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরল বাংলাদেশি ৬ নারী চয়ন কে মামলা থেকে বাঁচাতেই প্রতিবন্ধী শরিফুলের... রাজাপুরে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

বৈষম্যহীন একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নের দাবি

  সমকাল নিউজ ২৪

Misil-01

অনলাইন প্রতিবেদকঃ  দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার সব মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ‘একমুখী শিক্ষা’ তথা একই পাঠ্যসূচি নিশ্চিত করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে নাগরিক সমাজের একটি অংশ। বৃহস্পতিবার বিকালে ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’র ব্যানারে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত এই স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এর আগে এই সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসির স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে গণজমায়েতে মিলিত হন এবং পরে শোভাযাত্রাসহ শাহবাগ পর্যন্ত যান। এরপর সামাজিক আন্দোলন আহ্বায়ক প্রবীণ রাজনীতিক অজয় রায়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে যায়।

শিক্ষাব্যবস্থার অসঙ্গতি দূরীকরণের জন্য সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হল : সংবিধানের সাথে সঙ্গতি রেখে অবিলম্বে বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর এবং সমপর্যায়ের অভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পাঠসূচি নিশ্চিতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সব স্তরে কর্মমুখী শিক্ষা চালু করা। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করার জন্য কর্ম দিবসের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাওয়া এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা এবং আইন অমান্যকারীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সর্বশেষ দাবি সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি তৎপরতা কঠোর হস্তে দমন এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণাপূর্বক তাদের সম্পদ জাতীয়করণ করা।

টিএসসির গণজমায়েতে স্মারকলিপি পড়ে শোনান সংগঠনের সভাপতিশণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন ভূঁইয়া।

দেশের প্রচলিত সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষা, ‘উচ্চবিত্তদের’ ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা এবং ‘মধ্যযুগীয় ধ্যান-ধারণার’ মাদ্রাসা শিক্ষার কথা তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়, এই তিনধারার শিক্ষা গ্রহণকারীদের ধ্যান-ধারণা ও আচার-আচরণ স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন। ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-কৃষ্টির ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন থাকে।

মাদ্রাসা বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাগুলোর অধিকাংশশে সচেতনভাবেই মধ্যযুগীয় ধ্যান-ধারণা শিক্ষা দান করা হয়, যা প্রকারান্তরে আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে।

দেশে তিনধারার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু থাকায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তিন ধরনের নাগরিক তৈরি হচ্ছে মন্তব্য করে এতে বলা হয়, এটি জাতীয় ঐক্য এবং সংহতি গড়ে তোলার চেতনায় শুধু বাধাই নয়- আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং প্রজাতন্ত্রের সংবিধানের মৌলিক ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার সব মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত একই পাঠ্যসূচি প্রণয়নের দাবিতে এই স্মারকলিপি। এতে একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার দাবির পাশাপাশি সব স্তরে কর্মমুখী শিক্ষা, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করা এবং সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি তৎপরতা কঠোর হস্তে দমন ও উগ্রসাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তাদের সব সম্পদ জাতীয়করণ করার দাবিও জানানো হয়।

গণজমায়েতের বক্তব্যে ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ষাটের দশকের শুরুতে বাঙালির মানসচেতনা বিরোধী শিক্ষানীতি চালুর চেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল। শরীফ শিক্ষা কমিশন ও হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানী সামরিক শাসক আইয়ুবের পতন হয়েছিল।

কিন্তু আমাদের সংবিধানের স্পষ্ট করে এক নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালুর কথা বলা হলেও গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবিদার সরকারের করার শিক্ষানীতিতে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।

বর্তমান শিক্ষানীতিতে ‘বিজ্ঞানমনস্কতা’ বাদ দিয়ে দেশের একটি বিশাল গোষ্ঠীকে অন্ধকারে থাকার ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ধর্মকে বর্ম বানানো, কুসংস্কার জিইয়ে রাখা এবং সাম্প্রদায়িক চেতনা তৈরিকারী শিক্ষাব্যবস্থা চলতে দেওয়া যায় না।

একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালুর সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সামাজিক আন্দোলন আহ্বায়ক অজয় রায় বলেন, সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে এ দাবি আদায় করা সম্ভব হবে না।

এ লক্ষ্যে এই আন্দোলনকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে সামাজিক আন্দোলনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদার, আবু মোনায়েম নেহেরু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে