২৩শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১০ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
সেফুদার বিরুদ্ধে ভিয়েনার আদালতে মামলা শ্রীলঙ্কা হামলার ‘মাস্টার মাইন্ড’ মাওলানা জাহরান... বগুড়ায় মদসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বগুড়ায় ছিনতাইচক্রের মূল হোতা আটক প্রেম বাড়াতে আসছে ‘ইনজেকশন’

ব্রেক্সিট ইস্যুতে উত্তাল লন্ডন

 আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সমকাল নিউজ ২৪
ব্রেক্সিট ইস্যুতে উত্তাল লন্ডন

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের পার্ক লেইন থেকে শুরু করে পার্লামেন্ট স্কয়ার পর্যন্ত রাস্তায় নেমে ব্রেক্সিট ইস্যুতে গণভোটের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ।

রবিবার (২৪ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদন থেকে এ খবর জানা গেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে উদ্ভূত অচলাবস্থা নিরসনে এ বিক্ষোভ করেছেন তারা। তাদের দাবি, দ্বিতীয় গণভোট এবং প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র পদত্যাগ।

বিবিসি’র প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, শনিবার (২৩ মার্চ) যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের পার্ক লেইন থেকে শুরু করে পার্লামেন্ট স্কয়ার পর্যন্ত গণভোটের দাবিতে মিছিল করে মানুষ। পরে সেখানে এক সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময়ে যুদ্ধবিরোধী সমাবেশে ১০ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তারপরে লন্ডনে এত বড় জমায়েত এই প্রথম।

‘পুট ইট টু দ্য পিপল’ (জনগণের হাতে ছেড়ে দাও) নামে আয়োজিত এ সমাবেশে দশ লাখেরও বেশি মানুষ সমবেত হয় বলে দাবি করেছে আয়োজকরা। ব্রেক্সিট বাতিলের দাবিতে অনেক প্রতিবাদকারী হাতে ইইউ পতাকা নিয়ে সমাবেশে হাজির হন।

ব্রেক্সিটের পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমা এরই মধ্যে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দিতে সম্মত হয়েছে ইইউ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে গণভোটের দাবি তুলেছে বিরোধী পক্ষরা।

সমাবেশে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা ভিন্স কেবল, লেবার পার্টির আরেক নেতা টম ওয়াটসন, স্কটল্যান্ডের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিকোলা স্টারজেন, লন্ডনের মেয়র সাদিক খান প্রমুখ।

টম ওয়াটসন বলেন, প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মের ব্রেক্সিট চুক্তি একটি যেনতেন রকমের চুক্তি। তাঁর কথা হলো- হয় ‘হ্যাঁ’ বলো, নয় ‘না’। আমি কেবলমাত্র তখনই ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে ভোট দিতে পারি, যদি আপনি তার আগে জনগণকে সে ব্যাপারে ভোট দিতে দেন। আপনি এই ইস্যুতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন। দেশে একটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। এবারে জনগণকে এর নিয়ন্ত্রণ নিতে দিন।

মেয়র সাদিক খান বলেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। এখন ব্রেক্সিটের বিষয়ে গণভোট আয়োজন ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই। ব্রেক্সিটের সময় শেষ হয়ে গেছে, নতুন করে চুক্তির বিষয়ে দেন-দরবার করার জন্য আর সময় অবশিষ্ট নেই। প্রধানমন্ত্রী বিভ্রান্তিকর তৎপরতার মাধ্যমে আমাদের ইউরোপীয় বন্ধুদের আস্থা নষ্ট করেছেন। সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা হয় এমন একটি চুক্তির বিষয়ে যারা সহায়তা করতে চেয়েছিলেন, তারাই এখন ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার ইতি চান।

এদিকে ব্রেক্সিট বাতিল করে ইইউতে থেকে যাওয়ার পক্ষে এরই মাঝে ব্রিটিশ সরকারের কাছে অনলাইন পিটিশন করেছে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর কাছে ৯০ দিন সময় চেয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। কিন্তু জবাবে তাকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছে ইইউ। এর মধ্যে তৃতীয় ও শেষবারের মতো তার চুক্তি পার্লামেন্টে পেশ করতে হবে মে-কে। ওই চুক্তি যদি পাস হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ব্রিটেনকে ২২ মে পর্যন্ত সময় দেয়া হবে। কিন্তু চুক্তি পাস না হলে, ১২ এপ্রিলের মধ্যে ইইউ-কে জানাতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
আন্তর্জাতিক বিভাগের আলোচিত
ওপরে