২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরগুনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে... নিজ দায়িত্বে শহর ও গ্রামকে পরিষ্কার না রাখলে মোবাইল... কোটচাঁদপুরে হেলমেট ছাড়া মিলবে না বাইকের তেল উজিরপুরের নারী নি’র্যাতনকারী সেই ওসি ও কনস্টেবলের... বালিয়াডাঙ্গীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ০৭ দফা দাবিতে...

ভিজিএফ ও ভিজিডির চাল চুরির অভিযোগে চেয়ারম্যান আটক, মামলা করতে পুলিশের গড়িমসি

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সমকালনিউজ২৪

গরিব ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ ও ভিজিডির চাল চুরির অভিযোগে পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ চারজনকে আটক করা হলেও পুলিশ এ পর্যন্ত মামলা দায়ের করেনি।

সদর উপজেলা প্রশাসন বলছে, আতাইকুলা থানার সদিচ্ছা থাকলে তারা মামলা দায়ের করতে পারত। তবে পুলিশ বলছে, দুদক ১৯ আগস্ট মামলা দায়ের করবে। এছাড়া আটক চেয়ারম্যান যেন ছাড়া না পায় সে ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন সজাগ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে আটক ও ২২ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। আটককৃতদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।

আটককৃতরা হলেন- পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খন্দকার আতিয়ার হোসেন, চেয়ারম্যানের গাড়ি চালক উজ্জ্বল হোসেন, চৌকিদার আব্দুল কাদের ও মিলন হোসেন।

এদিকে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনিরুজ্জামান জানান, বর্তমানে আইন সংশোধন হওয়ার কারণে দুর্নীতির মামলা করার এখতিয়ার তাদের নেই। তাই রোববার (১৯ আগস্ট) দুদক মামলা দায়ের করবে। দুদক মামলা না করা পর্যন্ত আসামিদের আটক রাখার জন্য আমরা আদালতে আবেদন জানিয়েছি।

স্থানীয় কয়েকজন ইউপি সদস্য জানান, চেয়ারম্যান আতিয়ার দুস্থদের জন্য ঈদের আগে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ ও ভিজিডি চালের মধ্যে ২২ বস্তা চাল বিক্রির উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পরিষদে গুদামজাত করেন। বৃহস্পতিবার সকালে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন তা বিক্রির প্রস্তুতি নেন। বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে আতাইকুলা থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে চাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে থানায় নিয়ে যায়। পরে উপজেলা প্রশাসন থানায় গিয়ে পুলিশকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।

স্থানীয়রা আরো জানায়, পুলিশ চেয়ারম্যানকে ছেড়ে দিতে চাইলে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে তাদেরকে আটক করে পুলিশ।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঈদের আগের দিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল গুদামজাত করে রাখার অভিযোগ আসে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে চাল বিতরণ না হওয়ার কারণ জানতে চাই। চেয়ারম্যান সঠিকভাবে জবাব দিতে না পারায় ওই দিন আমরা ২২০ বস্তা চাল পরিষদের একটি ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় সিলগালা করে রেখে আসি। এরপর বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান আতিয়ার তার হেফাজতে রাখা আরো ২২ বস্তা ভিজিএফের চাল অবৈধভাবে বিক্রির সময় জনতার হাতে ধরা পড়েন। পরে পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে চালসহ তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

তিনি আরো জানান, আতাইকুলা ইউনিয়নের ট্যাগ কর্মকর্তা ফরহাদ লতিফ বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তবে ওই অভিযোগ থানা পুলিশ এজাহার হিসেবে গণ্য না করে বিষয়টি দুদক পাবনাকে অবহিত করেন। দুদুকের পাবনা অফিস এ বিষয়ে রোববার একটি মামলা দায়ের করবেন বলে আতাইকুলা থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
অপরাধ বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে