১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
রি’ফাত হ’ত্যা মা’মলার প্রধান আ’সামির জা’মিন... স্পেনে টাইগার মাদ্রিদের নতুন জার্সি উন্মোচন ও... দ্বিতীয় বারের মত শুভসন্ধ্যা সৈকতে হতে যাচ্ছে জোছনা উৎসব বরগুনা সরকারি কলেজে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সমাপ্ত ঝালকাঠিতে খাদ্য অধিকার আইনের দাবিতে সমাবেশ

ভূমি খেকো নূরুল আলম জ্বালিয়াত নম্বর কত ?

  সমকালনিউজ২৪

আবদুল্লাহ রিয়েল,ফেনী ::
ফেনীর এস.এস.কে রোডের ভূমি খেকো নুরুল আলম কত রংঙ্গের আর কত কিছিমের জ্বালিয়াতি জানে, এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন। সে জমি কিনতে করে জ্বালিয়াতি, দলিল লিখতে করে জ্বালিয়াতি, অঙ্গীকারনামা সম্পাদনে করে জ্বালিয়াতি, জমির দখল নিতে করে জ্বালিয়াতি এবং এমন কি ভবন নির্মাণ করতেও করে জ্বালিয়াতি। এভাবে তার ব্যক্তিগত জীবনের খবর নিয়ে জানা গেছে, তার জীবনের সকল কর্মকান্ডে ও ব্যবসা বানিজ্য সহ সকল কাজ কারবারে প্রচুর দুই নম্বরির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

১৭ সেপ্টেম্বর তারিখে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (সদর সার্কেল, ফেনী) অফিসে তার সাথে আবুল বশরের ভূমি বিরোধের শালিসে বেরিয়ে এসেছে তার বেশ কিছু জ্বালিয়াতির অভিনব তথ্য। শালিসদারগণ তার মূল ৪টি ভায়া দলিল পর্য্যালোচনা করে এ জমির বিক্রেতা নূরুন্নাহারের ৪.০৭ শতাংশ ভূমির মালিকানার সত্যতা পেয়েছে। কিন্তু এ ৪টি ভায়া দলিলের অস্তিত্ব খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, তার এ ৪টি ভায়া দলিলের মধ্যে ২টি দলিলের রেকর্ড রুমের বালামে কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সে ২টি ভায়া দলিল ভুয়া সৃজন করেছে মর্মে প্রমান মিলেছে। এতে তার অপর ২টি ভায়া দলিলের মালিকানায় মাত্র ৩.২৪ শতাংশ মালিকানার প্রমান মিলেছে। কিন্তু সে ৩.২৪ শতাংশ প্রকৃত মালিকানার বিপরীতে জবর দখল নিয়ে ৪.৬০ শতাংশ ভূমিতে বেআইনী ভাবে ৬ তলা ভবন নির্মাণ করেছে। এতে তার মূল ভিটি আত্মসাতের পরিমান (৪.৬০-৩.২৪)= ১.৩৬ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া আবুল বশরের ০.১২ শতাংশ পথ জবর দখল সহ সর্বমোট আত্মসাতের পরিমান দাঁড়িয়েছে (১.৩৬+০.১২)= ১.৪৮ শতাংশ। এতে ভূমি খেকো নুরুল আলম আবুল বশরের সম্পত্তি ভিটি ও পথ মিলে মোট (০.২৫+০.১২)=০.৩৭ শতাংশ ভূমি আত্মসাৎ করেছে। বাকী (১.৪৮-০.৩৭)= ১.১১ শতাংশ ভূমি আশ পাশের প্রতিবেশীদের আত্মসাতের প্রমান মিলেছে।

এ বিষয়ে খন্দকার গলির লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ তর্কিত ভূমিটি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় এটি ছিল কচুরী পানায় ভরা এবং আশপাশের প্রতিবেশীদের ভূমিও ছিল একইভাবে নালা-নর্দমা সহ কুচরী পানায় ভরা। এ প্রতিবেশীরা এখনও পর্যন্ত এ জলাভূমিতে কোন উন্নয়ন কর্মকান্ড করেনি। এসুযোগে ভূমি খেকো নুরুল আলম তাদের ভূমি আত্মসাত করে ৪.৬০ শতাংশে ভবন নির্মাণ করেছে। এদিকে আবুল বশরের সাথে নুর নাহার খোন্দকারের সম্পাদিত তর্কিত অঙ্গীকার নামা ও সার্ভে আমিন দিয়ে বদর করে হাত নকশার মাধ্যমে প্লট বুঝিয়ে দেয়ার ঘটনার খোঁজ নিতে গিয়ে বেরিয়ে এলো ভূমি খেকো নুরুল আলমের জ্বালিয়াতির আরেক নতুন ভয়াবহ তথ্য।

এ বিষয়ে ওই তর্কিত অঙ্গীকার নামার আমিন সার্ভেয়ার (বদর আমিন) মোঃ ফজলুল হক ওসমানীর সাথে সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলে জানা গেছে, অঙ্গীকার নামায় দেয়া স্বাক্ষর তার নয় ও তার সীল মোহরও জ্বালিয়াতি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভূক্তভোগী আবুল বশরের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ধূর্ত জ্বালিয়াত নূরুল আলম তাকে ধর্মের ভাই ডেকে হাতে পায়ে ধরে অতি অনুনয় বিনয় করে এ বদর ও অঙ্গীকার নামা করিয়ে নেয়। আবুল বশর তার অনুরোধের প্রেক্ষাপটে সরল মনে রাজী হলে শেষের দিকে ধূর্ত নূরুল আলম নিজে অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর না করে নুর নাহারের স্বাক্ষর সংগ্রহকরে আনে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতারক নূরুল আলম তার নিজের ভূমিকার কথা বেমালুম অস্বীকার করে বসে আছে।

তাছাড়া নানা জ্বালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা এ সম্পত্তি ভূমি অফিসের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে যোগসাজস করে নূরুল আলম অনৈতিক উপায়ে খতিয়ান ও খাজনা খারিজ হাসিল করে নিয়েছে। এছাড়াও এ জ্বাল জ্বালিয়াতির সম্পত্তিকে বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ৬০ লক্ষ টাকার ঋন নিয়েছে ভূমি খেকো নূরুল আলম। এমনকি এ জ্বাল জ্বালিয়াতির সম্পত্তির উপর ৬ তলা ভবন নির্মানের পৌরসভার অনুমতি লাভ ও পরিকল্পনা অনুমোদন হাছিল করে নিয়েছে ভূমি খেকো নুরুল আলম। অবশেষে ৬ তলা ভবনের ৩টি ফ্লাট প্রতারনার আশ্রয়ে সাধারণ লোকের কাছে বিক্রী করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জ্বালিয়াত নূরুল আলম। ভূমি খেকো নূরুল আলমের প্রতারনা-জ্বালিয়াতির সীমানা কতদূর, এনিয়ে জনমনে প্রশ্ন। ঘুষের বিনিময়ে ভূমি অফিস, পৌরসভা, ব্যাংক সবই ম্যানেজ করে নিয়েছে ধূর্ত নূরুল আলম। এ অফিস গুলোর কেহই তার এসব জ্বালিয়াতির কিছুই যাছাই করে দেখেনি। সবই ম্যানেজ করে নিয়েছে জ্বালিয়াত নূরুল আলম।

এদিকে জানাগেছে, ভূমি খেকো নূরুল আলম দালাল কিছিমের এক প্রভাবশালী আইনজীবীকে দিয়ে থানা পুলিশ সর্বত্রই আইনী মারপ্যাঁছের ফুল ঝুড়ি ও প্রভাব খাটিয়ে ম্যানেজ করে নিয়েছে। ফেনী মডেল থানার সাবেক ওসি আবুল কালাম আজাদকে এ আইনজীবী নানাভাবে ভুল বুঝিয়ে ও জ্বালিয়াতির বিষয় গুলো পর্দার আড়ালে রেখে প্রভাবিত করেছে। এতে ওসি আবুল কালাম আজাদ তার কথায় ভুল বুঝে ভূক্তভোগী বশরের প্রতি দূর্ব্যবহার ও অন্যায় আচরন করেছে বলে জানা গেছে। ওসি আবুল কালাম আজাদ নূরুল আলমের এমন গভীর ষড়যন্ত্র ও জ্বালিয়াতির বিষয় বুঝতে পারেননি।

 

‘বিদ্রঃ সমকালনিউজ২৪.কম একটি স্বাধীন অনলাইন পত্রিকা। সমকালনিউজ২৪.কম এর সাথে দৈনিক সমকাল এর কোন সম্পর্ক নেই।’

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ফেনী বিভাগের সর্বশেষ
ফেনী বিভাগের আলোচিত
ওপরে