১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
স্বামীর লাশ ওয়ারড্রবে রেখে অফিস করলেন স্ত্রী! ঐক্যফ্রন্টকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবিতে মানববন্ধন বন্য হাতির আক্রমণে নিহত জাসদ নেতা সাইমুন কনক গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ইয়াবা কারবারিদের বাড়িঘর

মনোজ কুমার সেন: কে তিনি, কি বা তার পরিচয় ?

 আব্দুল হাই আল-হাদী: সমকাল নিউজ ২৪

মনোজ কুমার সেন! সংবাদপত্রের মাধ্যমে নামটি ইতিমধ্যে অনেকেই শুনেছেন। বিশেষ করে যারা নির্বাচনের সদর-অন্দরের খবর রাখেন, তাদের কাছে নামটি অতি পরিচিত। এবারের নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনে কোদাল প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচন করছেন। সিলেট বিভাগে বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির একমাত্র প্রার্থী অধ্যাপক মনোজ সেন।

কিন্তু তিনি কে, কি বা তাঁর পরিচয়? সাংবাদিক, পর্যবেক্ষকসহ আগ্রহী অনেকেই তার সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। পারিবারিক পরিচয়ের সূত্র ধরে খানিকটা বলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য কাউকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং একইসাথে অন্যদের অনুসন্ধিৎসু মনের ক্ষুধা মেটানোর তাগিদেই মনোজ কুমার সেন সম্পর্কে আলোকপাতের চেষ্টা করা হল।
অধ্যাপক মনোজ কুমার সেন সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাটে ১৯৫৫ সালের ১ জুলাই এক সম্ভান্ত্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মদন মোহন সেন এবং মাতা হচ্ছেন প্রভাবতী সেন। তার দাদা/পিতামহ মনীন্দ্র নাথ সেন ছিলেন অবিভক্ত ভারতে শিলংয়ের ডন বক্র স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক। তার পূর্বপুরুষরা স্বাধীন জৈন্তারাজ্যের রাজপরিবারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ৫ ভাই এবং ৩ বোনের সবাই উচ্চশিক্ষিত ও স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। বিশেষ করে, তার বড় ভাই ব্রিগেডিয়ার (অব.) জয়ন্ত সেন সবার কাছে সুপরিচিত। মহান মুক্তিযুদ্ধে যিনি মুক্তাপুর ৪ নং সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে বীরত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিলেট শহর পাক বাহিনীর হাত থেকে চুড়ান্ত বিজয়েও তিনি অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন। তার ছোট ভাই মৃন্ময় সেন মনু সারিঘাট হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৮ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ৩ য়।

অধ্যাপক মনোজ কুমার সেন ১৯৭২ সালে এএইচ চৌধুরী হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৪ সালে এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগ থেকে তিনি অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করেন। ঢাকার নটরডেম কলেজে-এ ইংরেজীর প্রভাষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকার সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ও ইংরেজী বিভাগের প্রধান হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি আইনের উপরও ¯œাতক ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তার স্ত্রী ডা: চঞ্চলা রাণী সাহা পেশায় একজন চিকিৎসক।
ছাত্রজীবনে তিনি বাসদ ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। লেখালেখির সাথে তিনি তখন থেকে জড়িত। সে সময় তিনি দৈনিক সংবাদ, সাপ্তাহিক বিচিত্রাসহ নানা পত্রিকায় কলাম লিখতেন। ১৯৭৮ সালে ঢাকার আদলে তার নেতৃত্বে জৈন্তাপুরে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় শহীদ দিবস পালিত হয়। সে বছর ’সম্মুখ একুশ’ নামক একটি ম্যাগাজীনও তার সম্পাদনায় বের হয়।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবারের নির্বাচনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এই দলের নির্বাচনী প্রতীক কোদাল। দলটি ইতিমধ্যে ২৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ইশতেহারের ২৬ দফার শুরুতে রয়েছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল, রাষ্ট্রের আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা, সাংবিধানিক কমিশনের মাধ্যমে সাংবিধানিক পদে নিয়োগ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অগণতান্ত্রিক ও নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও সব রাজনৈতিক হত্যার বিচার করা, ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্য দূর করা, গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ, কালোটাকা ও পেশিশক্তিনির্ভর নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা ইত্যাদি।

অধ্যাপক মনোজ কুমার সেন ইতিমধ্যে এলাকায় এসে গণসংযোগ শুরু করেছেন। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলের আদর্শকে তিনি নির্বাচিত হয়ে কাজে লাগাতে চান।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে