২১শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ৮ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
আমি চাইলে নিশ্চয় দোষের হবে না বিমানের টয়লেটে মিলল ১৪ কেজি সোনা পিরোজপুরের নাজিরপুরে শেখ হাসিনা সেতুর উদ্বোধন করলেন... রাজাপুর ভিজিডি কার্ড বিতরণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ স্কুলছাত্রী নিপাকে কৃত্রিম পা লাগাতে নেয়া হবে বিদেশে

মমতাজ উদ্দিন মুজিব আদর্শের একজন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত–মাহবুবুল আলম হানিফ

 জিএম মিজান সমকাল নিউজ ২৪

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জননেতা মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। আর আওয়ামী লীগের নেতারা হলেন গণমানুষের নেতা। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালির জন্য পাগল।

তিনি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, আমার সবচেয়ে বড় গুণ আমি বাংলার মানুষকে ভালোবাসি। আর আমার সবচেয়ে বড় দোষ হলো আমি বাংলার মানুষকে বেশি ভালোবাসি। বঙ্গবন্ধুর সেই কথা আজও ইতিহাসবিদরা বারবার উদ্ধৃতি দেন।

তিনি বলেছিলেন, বাংলার মানুষ আমাকে হত্যা করতে পারে না। এই ছিল তার বিশ্বাস। বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান কারাগারে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ফাঁসির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাকে হত্যা কর আমি তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইব না। বাঙ্গালী জাতিকে খাটো করে যাব না। তোমাদের প্রতি আমার অনুরোধ আমার লাশটা আমার বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ো। এই হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। আর এই আদর্শের অগ্রপথিক ছিলেন বগুড়ায় স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মমতাজ উদ্দিন। যাকে সামরিক শাসকরা বহু প্রলোভন দিয়েও আওয়ামী লীগ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। মমতাজ উদ্দিন মানেই ছিল বগুড়ার আওয়ামী লীগ। জননেত্রী শেখ হাসিনা বগুড়ায় আওয়ামী লীগ হিসেবে মমতাজ উদ্দিনকেই মনে করতেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মমতাজ ভাইয়ের প্রস্তাবিত সমস্ত উন্নয়নের দাবির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। ধীরে ধীরে সকল দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মমতাজ উদ্দিন হামলা-মামলাকে কোন সময় ভয় পেতেন না। তিনি কখনও বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের কোন সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করেননি। তিনি সবসময় বগুড়ার মানুষের কথা ভাবতেন এবং বারবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ধর্ণা দিতেন। এই মানুষটিকে হারিয়ে বগুড়াবাসী একজন অভিভাবক হারালো। বগুড়ার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী একজন পিতাকে হারালো। তিনি ছিলেন মুজিব আদর্শের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এই আদর্শ ধরে রাখতে হলে তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাহলেই মমতাজ উদ্দিনের বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে।

বুধবার বিকেল ৪টায় বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বগুড়া জিলা স্কুল মাঠে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত মমতাজ উদ্দিনের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলি বলেন। স্মরণ সভায় মরহুমের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জননেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জননেতা আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জননেতা আব্দুল মান্নান এমপি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক জননেতা খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, বগুড়া-৫ আসনের মাননীয় সাংসদ জননেতা হাবিবর রহমান, জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা সোলায়মান আলী, গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা আব্দুস সাত্তার, মরহুম মমতাজ উদ্দিনের কণিষ্ঠ পুত্র জনাব মাসুদুর রহমান মিলন প্রমুখ।

স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জননেতা ডা. মকবুল হোসেন। সভা পরিচালনা করেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা মজিবর রহমান মজনু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সভার শুরুতে মমতাজ উদ্দিন স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে