২১শে মার্চ, ২০১৯ ইং ৭ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
আজ বিশ্ব বন দিবস আত্মবিশ্বাসকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে- চতুর্থ বরগুনা... পদ্মা সেতুর নবম স্প্যান আজ বসছে হযরত পীর খানজাহান আলী(রহ.)র মাজারে তিন দিনব্যাপী মেলা... ৩৭তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশ, নিয়োগ পেলেন ১২২১ ক্যাডার

মসজিদে হামলাকারীর রাইফেলে যা লেখা ছিল

 আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সমকাল নিউজ ২৪
মসজিদে হামলাকারীর রাইফেলে যা লেখা ছিল

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায় এক বন্দুকধারী। এ সময় বন্দুকধারীর ব্রাশ ফায়ারে নিহত হয়েছেন দুই বাংলাদেশিসহ ৪০ জন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে নারীসহ ৪ জনকে।

হামলাকারী সন্ত্রাসীর ব্যবহৃত রাইফেলে বেশ কিছু লেখা চোখে পড়েছে। তার রাইফেলের উপরে লেখাটার অর্থ দাঁড়ায়.. “To take revenge for Ebba Akerlund”

২০১৭ সালের ৭ই এপ্রিল উজবেকিস্তানের এক জঙ্গি সুইডেনের স্টকহোম শহরে লড়ি চালিয়ে পিষে মেরে ফেলেছিলো ৮জনকে৷ নিহতদের মধ্যে ছিলো ১১বছর বয়সী ‘Ebba Akerlund’ নামের এক শ্রবণপ্রতিবন্ধী মেয়ে। স্কুল থেকে ফেরার পথে মায়ের সাথে তাকেও লরির নিচে পিষে মরতে হয়েছিলো। গতকাল ছিলো মেয়েটির জন্মদিন। সেই হত্যার রিভেঞ্জ নিতেই ‘Ebba Akerlund’র জন্মদিনকেই বেছে নেয়া হয়।

অন্যদিকে আজকের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদের হামলায় নিহতদের মধ্যে দুটি বাচ্চা ছেলেও ছিলো। হয়ত কোন একদিন এই দুই বাচ্চার হত্যার রিভেঞ্জ নিতেও কেউ লরি কিংবা রাইফেল নিয়ে ছুটে আসবে। নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে উল্লাসে মাতবে!

নিউজিল্যান্ড ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্টাফ এক প্রতিবেদনে হামলার পরবর্তী মুহূর্তের একাধিক ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানকার একটি ছবিতে দুই মুসলিম ব্যক্তিকে রক্তমাখা পোশাকে নামাজ পড়তে দেখে গেছে।

এদিকে হামলাকারীর কাছে একটি বড় বন্দুক ও কয়েকশ রাউন্ড গুলি ছিলো। তিনি গায়ে মিলিটারিদের মতো পোশাক পরে ছিলেন বলে জানিয়েছেন হামলার সময় আটকে পড়া এক ব্যক্তি। প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘তিনি (বন্দুকধারী) ভিতরে ঢুকলেন এবং মসজিদের সবাইকে শ্যুট করা শুরু করলেন। তিনি আরও জানান, কমপক্ষে ৫০ বার গুলি ছুঁড়েছেন তিনি। তার সঙ্গে একাধিক ম্যাগজিন ছিলো। কয়েকশ রাউন্ড হতে পারে।

তিনি আরও জানান, হামলাকারী মাথায় হেলমেট থাকায় তার সম্পূর্ণ চেহারা দেখতে পারেননি তিনি।

হাতের রক্ত কাপড় দিয়ে আটকে তিনি আরও জানান, হামলার সময় মসজিদের একটি গ্লাস হাত দিয়ে ভেঙ্গে তিনি পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। এ সময় গ্লাসের সঙ্গে লেগে তার হাত কেটে যায়।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও বলেন, ‘আমার জানালা ও দরজার গ্লাস ভেঙ্গে সবাইকে বের করতে হয়েছিলো। আমরা চেষ্টা করছিলাম, যেভাবেই হোক সবাইকে এই এলাকা থেকে দৌড়ে দূরে পাঠানোর। কিন্তু আমরা সবার জন্য দরজা খুলতে পারিনি।’

নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় শুক্রবার দেড়টার দিকে মসজিদে হামলার ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভও করেন অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ২৮ বছর বয়সী ওই শ্বেতাঙ্গ হামলাকারী। ক্রাইস্টচার্চে ভিডিওটি অনলাইনে না ছড়াতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে পুলিশ।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
আন্তর্জাতিক বিভাগের আলোচিত
ওপরে