২৫শে মে, ২০১৯ ইং ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
মার্ক ওয়াহর চোখে বিশ্বকাপের সেরা তিন ব্যাটসম্যান মধ্যপ্রাচ্যে আরো সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় কবি কাজী নজরুলের জন্মজয়ন্তী আজ চারঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের দোয়া ও ইফতার মাহফিল বামনায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বির্তকিত অনেকেই প্রার্থী হতে পাখা মেলেছে।

 নিজস্ব প্রতিবেদক। সমকাল নিউজ ২৪

সারাদেশের মতো আগামী মাসে মহেশখালীতে ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূলে আগ্রহের কোন কমতি নেই। কিন্তু অভিযোগ ওঠেছে তৃণমূলের চাওয়াকে জলাঞ্জলী দিয়ে একটি অংশ মনোনয়ন বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকেছে। তবে তার আদ্যোপান্ত কতটুকু সত্য তা জানা যাবে সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী নীতি নির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় একক কিংবা তিনজনের নাম কেন্দ্রে পাঠাবে। একইসঙ্গে মাঠ পর্যায়ে নিজস্ব জরিপও অব্যাহত রেখে সামনে এগুচ্ছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। তবে ত্যাগী সৎ ও ক্লিন ইমেজের সাবেক ছাত্রনেতা কিংবা দলের কঠিন সময়ে হাল ধরা নেতাকর্মীদের বাদ দিলে মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তার প্রভাব ও মাশুল গুনতে হবে বলে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছে তৃণমূল।

তথ্যমতে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক’কে তিন জন করে জনপ্রিয় প্রার্থীর নাম পাঠানোর নির্দেশনা দেয় । তাদের পাঠানো তালিকার নামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নিজস্ব জরিপে উঠে আসা রিপোর্টের মিল থাকতে হবে বলে জানান দেয়। সে কারণে এখনো দ্বিধাদ্বন্ধে জেলা কমিটি ও মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নেতাদের একটি প্রভাবশালী মহল তাদের পছন্দসই প্রার্থীর নাম দেয়ার চেষ্টা করছে। অথচ উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের পছন্দনীয় ও গ্রহনযোগ্য প্রার্থী বাচাইয়ে স্থানীয় সংসদ ও জেলা কমিটি কি মহেশখালী উপজেলার ক্ষেত্রে সেই নিদের্শনা মানছে!

এমনকি কাউন্সিলরদের মতামতকে তোয়াক্কা না করে এমপিরা একক সিদ্ধান্তে প্রার্থীর তালিকা কেন্দ্রে পাঠালে তার ফল যে সুখবর হবেনা সেটা এখনই বুঝা যাচ্ছে। তৃণমূলের দাবী ত্যাগী নেতারা যেনো বাদ না পড়েন, সুসময়ের কোকিল, মাদক ব্যবসায়ী ও সম্পদশালীরা যেনো গুরুত্বপ‚র্ণ এই নির্বাচনে সুবিধা না পায়!

৫ ধাপে সারা দেশের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে ১০ মার্চ প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল দিয়েছে ইসি।

জেলা-উপজেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অথবা আহবায়ক-যুগ্ম আহবায়কের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাচনের প্রতিটি পদে একক অথবা তিনজন প্রার্থীর নামের সুপারিশ-সংবলিত একটি প্যানেল তৈরি করতে হবে। দলের উপজেলা শাখা প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বর্ধিত সভা করে এ প্যানেল তৈরি করে দলের জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠাবে।

এরপর জেলা আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সব উপজেলার প্রার্থী তালিকা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌঁছে দেবে। এই প্রার্থী তালিকা জেলা ও উপজেলা শাখার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক অথবা আহবায়ক ও যুগ্ম-আহবায়কদের যৌথ স্বাক্ষরসহ পাঠাতে হবে।

কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের এ নির্দেশনা কি মানছেন কক্সবাজার জেলা ও মহেশখালী উপজেলার নেতারা। কিছু জায়গায় বর্ধিত সভা পর্যন্ত করা হয়নি। কোথাও আবার বর্ধিত সভা করে তৃণমূলের ভোট নিলেও তালিকায় তার প্রতিফলন ঘটবে কিনা স্বয়ং নেতারাও সন্দেহ করছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রার্থী বাচাইয়ে স্থানীয় এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের ব্যক্তিগত চাওয়াকে প্রাধান্য দেয়া হবে এটাই ধারণা করছে। এতে অজনপ্রিয়, মাদক ব্যবসায়ী বা সুসময়ের দলে ভেড়া লোকেরা প্রাধান্য পাবে কিংবা সেই লক্ষ্যে যাচ্ছে এমন ইংগিত পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলার অবৈধ মাদক চোরাকারবারী পাচারকারী, এদের পৃষ্ঠপোষক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। সে জন্য কঠোর নজরধারী প্রশাসনের ও।

এর মধ্যে মহেশখালীতে কিছু অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী চোরাকারবারিদের পৃষ্ঠপোষক আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী ব্যক্তি, যারা প্রধানমন্ত্রীর মেগা প্রকল্পে দূর্নীতি করেছেন এবং মাতারবাড়ি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম ও দূর্নীতিতে এসেছিলো তাঁরাও মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পাখা মেলছে বলে জানা যায়।

তবে কিছুদিন আগে এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বয়ং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূলের মনোনয়নে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে