২৩শে মার্চ, ২০১৯ ইং ৯ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
আমতলীর মরাজান খালের ব্রীজটি এখন মরণ ফাঁদ প্রধানমন্ত্রীকে ডাকসু ভিপি নূরের প্রথম উপহার ১২ বছরের ছাত্রকে দিয়ে চাহিদা মেটাতেন শিক্ষিকা জাপার নতুন যুগ্ম-মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় ওবায়দুল কাদের এখন শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ

মাদ্রাসা পালানোর অপরাধে শিকলে বেধে নির্যাতন;শিক্ষক গ্রেফতার।

 হায়াতুজ্জামান,আমতলী-বরগুনা। সমকাল নিউজ ২৪

মাদ্রাসা পালানোর অপরাধে শিকলে বেঁধে ইব্রাহিম (১০) নামের এক ছাত্রকে আরবি শিক্ষক হাফেজ মোঃ ফোরকান মিয়া নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইব্রাহিম তালতলী উপজেলার বড় অংকুজানপাড়া কারিমিয়া হাবিবিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের হেফজো বিভাগের ছাত্র। পুলিশ ওই শিক্ষককে রবিবার রাতে মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনা ঘটেছে রবিবার রাত ৮ টার দিকে। আমতলী সিনিয়ির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ সাকিব হোসেন শিক্ষক ফোরকান মিয়াকে সোমবার জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

জানাগেছে, ২০১৭ সালে উপজেলার বড় অংকুজান পাড়া গ্রামের আবদুল রহমানের পুত্র ইব্রাহিমকে কারিমিয়া হাবিবিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। ওই সময় থেকেই ছাত্রকে শিক্ষক ফোরকান মিয়া বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে আসছিল। শিক্ষকের নির্যাতন সইতে না পেরে ছাত্র ইব্রাহিম কয়েকবার মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। মাদ্রাসা থেকে পালানোর অপরাধে ওই শিক্ষক ছাত্রকে গত এক বছর ধরে মাদ্রাসার হোস্টেলে শিকলে বেঁধে তালা দিয়ে রাখে। প্রয়োজন ছাড়া ওই ছাত্রের শরীর থেকে শিকল খুলে দেন না তিনি। শিক্ষকের অসহনীয় নির্যাতন সইতে না পেয়ে রবিবার সন্ধ্যায় কৌশলে ছাত্র ইব্রাহিম হোস্টেলের খুঁটি থেকে তালা খুলে শরীরে শিকল বাঁধা অবস্থায় পালিয়ে যায়। মাদ্রাসা থেকে তিন কিলোমিটার শরীরে শিকল নিয়ে বারোঘর নামক স্থানে পৌছে ইব্রাহিম। ওই স্থানের লোকজন শিশুটির শরীরে শিকল বাঁধা দেখে ধরে ফেলে। পরে পুলিশে খরব দেয়। পুলিশ গিয়ে ওই ছাত্রকে শরীরে শিকলে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে তালতলী থানায় নিয়ে আসে। ওই রাতেই শিক্ষক ফোরকানকে ওই মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই ছাত্রের নানা হারুন মিয়া বাদী হয়ে শিক্ষক ফোরকানকে আসামী করে তালতলী থানায় মামলা দায়ের করেন। সোমবার পুলিশ শিক্ষক ফোরকানকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরন করেছে। আমতলী সিনিয়ির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ সাকিব হোসেন শিক্ষক ফোরকান মিয়াকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ছাত্রের নানা হারুন মিয়া জানান, আমার নাতি ইব্রাহিমের মা বিদেশে থাকেন। আর ওর বাবা ঢাকায় দিন মজুরের কাজ করেন। এ সুবাধে নাতি ইব্রাহিম আমার বাড়ীতে থাকে। গত দুই বছর পূর্বে ইবাহিমকে বড় অংকুজানপাড়া কারিময়িা হাবিবিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে হেফজো বিভাগে ভর্তি করে দেই। ভর্তির পর থেকেই শিক্ষক ফোরকান আমার নাতিকে নির্যাতন করে আসছে। কিন্তু আমার নাতি এ নির্যাতনের কথা কখনো জানায়নি। শিক্ষকের নির্যাতন সইতে না পেরে কয়েকবার পালিয়ে এসেছে। বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে আসলে শুক্রবার আমি ইব্রাহিমকে মাদ্রাসায় দিয়ে আসি। এরপর শিক্ষক ফোরকার আমার নাতিকে শিকলে বেঁধে হোস্টেলের খুটিতে তালা দিয়ে বেঁধে রাখে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম বলেন, ছাত্র ইব্রাহিমকে মাদ্রাসা থেকে পালানোর অপরাধে শিক্ষক ফোরকান মিয়া শিকলে বেঁধে নির্যাতন করতো বলে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে।

তালতলী থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শিক্ষক ফোরকানকে গ্রেফতার করে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
বরগুনা বিভাগের সর্বশেষ
বরগুনা বিভাগের আলোচিত
ওপরে