১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বগুড়ায় বিপুল পরিমাণ প্রাচীন নকল ধাতব মুদ্রাসহ... স্বরূপকাঠিতে ত্রাণ বিতরণে গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী —... ঠাকুরগাঁওয়ে অ’সামাজিক কার্যকলাপ বন্ধের দাবিতে... মতলব উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শাহিদুল ইসলাম শ্রীপুরে স্কুল ছাত্রীর আ’ত্মহ’ত্যা

মির্জাপুরে জন্ম সনদ-কাবিন নামা জালিয়াতি বর ও কনের বাবার জ’রিমানা; বিয়ে পন্ড

  সমকালনিউজ২৪

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক,টাঙ্গাইল ::
জন্ম নিবন্ধন (জন্ম সনদ) ও কাবিন নামা জালিয়াতির অভিযোগে বর ও কনের পিতার লাখ টাকা জরিমানা হয়েছে। ফলে বিয়ে পন্ড হয়ে গেছে। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিয়ে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জন্ম সনদ ও কাবিন নামা জালিয়াতির অভিযোগ প্রমান পাওয়ায় এ জরিমানা করেছেন। আজ সোমবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দুই নং জামুর্কি ইউনিয়নের জামুর্কি গ্রামে অ’ভিযান চালিয়ে বর ও কনের পিতাকে এ জ’রিমানা করেছেন বলে জানা গেছে।

মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল হক জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন আজ সোমবার জামুর্কি গ্রামের জাকির হোসেনের বাড়িতে তার নাবালিকা কন্যা মিম আক্তার বর্নার বাল্য বিবাহ হচ্ছে। বিকেল তিনটার দিকে তিনি ঐ বাড়িতে অ’ভিযানে যান। বিয়ে বাড়িতে গিয়ে জলিল মিয়ার ছেলে বর মামুন মিয়া ও কনের পিতা জাকির হোসেন এবং মাতা খাদিজা বেগমকে আ’টক করে জন্ম সনদ, বিয়ের কাবিন নামা এবং মেয়ের পিএসসি পাশের সনদপত্র দেখতে যান। তারা মেয়ের পিএসসি পাশের কোন সনদপত্র দেখাতে পারেননি। পরে জন্ম সনদ এবং বিয়ের কাবিন নামা দেখান। জন্ম সনদে দুই নং জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল এবং সচিব উত্তম পোদ্দারের সিল ও স্বাক্ষর দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল এবং সচিব উত্তম পোদ্দারকে ডেকে এনে জন্ম সনদের সত্যতা যাচাই করেন। চেয়ারম্যান ও সচিব তাকে জানান এ স্বাক্ষর ও ছিল তাদরে নয় এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মিম আক্তার বর্না নামে কাউকে জন্ম সনদ দেওয়া হয়নি । বাজারের কম্পিউটারের কোন দোকান জালিয়াতি করে এই জন্ম সনদ বানানো হয়েছে। এই ভুয়া জন্ম সনদ দিয়ে তারা জামুর্কি রেজিষ্ট্রি অফিসের কাজী মুফতি আবু তাহেরের অফিসে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে কাবিন নামা করেছেন মেয়ের পিতা জাকির হোসেন ও বরের পরিবার।

এদিকে ঘটনার সত্যতা পেয়ে বর মামুন ও মেয়ের পিতা জাকির হোসেনসহ বর যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজনকে আ’টক করে উপজেলা ভুমি অফিসে নিয়ে আসেন। জালিয়াতির অ’ভিযোগে রাতে কনের পিতা জাকির হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা এবং বর মামুনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক মো. আমিনুর রহমান আকন্দ এবং অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বর-কনের পবিবার মুচেলিকা দেন মেয়ে সাবালক না হওয়া পর্যন্ত বাবার বাড়িতে থাকবেন। কোন অবস্থায় বিয়ে দিতে পারবেন না। ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বরেন, জন্ম সনদ ও কাবিন নামা জালিয়াতির প্রমান হওয়ায় বরকে ৫০ হাজার টাকা ও কনের পিতাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বরের জরিমানার টাকা মেয়েকে ফেরত দিয়ে পড়াশোনর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কনের পিতার জ’রিমানার টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। ভুয়া কাবিন নামা করার অ’পরাধে কাজী মুফতি আবু তাহেরের বি’রুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।

 

‘বিদ্রঃ সমকালনিউজ২৪.কম একটি স্বাধীন অনলাইন পত্রিকা। সমকালনিউজ২৪.কম এর সাথে দৈনিক সমকাল এর কোন সম্পর্ক নেই।’

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
টাঙ্গাইল বিভাগের সর্বশেষ
টাঙ্গাইল বিভাগের আলোচিত
ওপরে