১৪ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরগুনায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত... বরগুনায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জ॥... আমতলীতে সময় মেডিকেয়ার এন্ড হসপিস এর ক্লিনিক্যাল... ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে... সনাতন ধর্মালম্বিদের আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা

মীর কাসেম আলী’র ফাঁসির রায় বহাল

  সমকালনিউজ২৪

Mir-Kasem-Ali-1-735x440মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।  প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ মঙ্গলবার সকালে এ রায় ঘোষণা করেন। আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি এক নম্বর ক্রমিকে রাখা ছিল।

তবে এর আগে মীর কাসেমের আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন জানিয়েছিলেন, মীর কাসেম আলীর আপিল মামলার চূড়ান্ত রায় হচ্ছে না আজ।

এর আগে শুনানি শেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করা হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আসামিপক্ষে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং এস এম শাহজাহান শুনানিতে অংশ নেন। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ এ দণ্ড দেওয়া হয় তাকে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের এই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির বিরুদ্ধে মোট ১৪ অভিযোগের মধ্যে ১০টি প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালে।

এই আদালতে প্রমাণিত ১০ অভিযোগের মধ্যে একাদশ অভিযোগে সর্বসম্মতভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও দ্বাদশ অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয় মীর কাসেমকে। অন্য আট অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে তাকে দণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি চারটি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। কারাগার থেকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন মীর কাসেম। গত ৯ ফেব্রুয়ারি আপিলের শুনানি শুরু হয়।

মীর কাসেমের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ  :

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৪ অভিযোগে মীর কাসেমের বিচার হয়। তবে বিচারে প্রমাণিত হয় দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ ও চতুর্দশ; এই ১০টি অভিযোগ। এর মধ্যে একাদশ অভিযোগে সর্বসম্মতভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও দ্বাদশ অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয় মীর কাসেমকে। প্রমাণিত অন্য আট অভিযোগে মোট ৭২ বছরের দণ্ড পান তিনি। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, মীর কাসেমের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর চাকতাই থেকে অপহরণ করে চট্টগ্রামের ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় লুত্ফর রহমান ফারুককে। তৃতীয় অভিযোগ, ২২ বা ২৩ নভেম্বর মীর কাসেমের নেতৃত্বে বাসা থেকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয় ডবলমুরিং থানা এলাকার কদমতলীর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে। চতুর্থ অভিযোগ, ২৪ নভেম্বর মীর কাসেমের উপস্থিতিতে সাইফুদ্দিন খানকে বাসা থেকে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করে আল বদর বাহিনী। ষষ্ঠ অভিযোগ, ২৮ নভেম্বর মীর কাসেমের নির্দেশে হারুন-অর-রশিদকে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করে আল বদর সদস্যরা। সপ্তম অভিযোগ, মীর কাসেমের নেতৃত্বে আল বদর সদস্যরা ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে সানাউল্লাহ চৌধুরীসহ দুজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে ডালিম হোটেলে। নবম অভিযোগ, ২৯ নভেম্বর মীর কাসেমের নেতৃত্বে সৈয়দ মো. এমরানসহ ছয়জনকে অপহরণ ও নির্যাতন। দশম অভিযোগ, ২৯ নভেম্বর মীর কাসেমের নির্দেশে মো. জাকারিয়াসহ চারজনকে অপহরণ ও নির্যাতন করে আল বদর সদস্যরা। একাদশ অভিযোগ, একাত্তরের ঈদুল ফিতরের পর যে কোনো এক দিন মীর কাসেমের নেতৃত্বে জসিম উদ্দিনকে অপহণের পর নির্যাতন করে আল বদর সদস্যরা। নির্যাতনে জসিমের মৃত্যু হলে আরও পাঁচ অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশসহ তার মৃতদেহ ফেলে দেওয়া হয় কর্ণফুলী নদীতে। দ্বাদশ অভিযোগ, নভেম্বরের কোনো এক দিন মীর কাসেমের নেতৃত্বে আল বদর সদস্যরা অপহরণের পর ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ তিনজনকে। জাহাঙ্গীর বেঁচে গেলেও এতে নিহত হন দুজন। চতুর্দশ অভিযোগ, নভেম্বরের শেষ দিকে মীর কাসেমের নেতৃত্বে আল বদর সদস্যরা নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অপহরণ ও নির্যাতন করে আল বদর সদস্যরা। একাদশ ও দ্বাদশ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, নবম ও দশম অভিযোগে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয় আসামিকে। আর দ্বিতীয় অভিযোগে ২০ বছর এবং চতুর্দশ অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে