১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
পঞ্চগড়ে মাতৃত্বকালীন ভাতা উত্তোলনে ভোগান্তি,দেখার কেউ... দাগনভূঞায় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও পোনা... ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম নেটের বিভিন্ন... আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হাজার- হাজার সমর্থকদের... বরগুনায় জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত

মৃত্যুর পরে লাশ নিয়ে ১ম ও ২য় স্ত্রীর টানাটানি শালিশ শেষে পেল ২য় স্ত্রী

 মোঃ ইলিয়াস আলী,ঠাকুরগাঁও সমকাল নিউজ ২৪

মৃত্যুর পর স্বামীর লাশ স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন দাফন করবে এটাই নিয়ম। কিন্তু এখানে বিষয়টি উল্টো। ঠাকুরগাঁও শহরের মুন্সিপাড়া এলাকায় বাবু ইসলামের মরদেহ হিন্দু ধর্মানুযায়ী সৎকার করা হবে না ইসলাম ধর্ম মতে দাফন করা হবে এ নিয়ে সৃষ্টি হয় জটিলতা।

লাশ নিয়ে দুই ধর্মের স্ত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যের মধ্যে চলে টানাটানি। অবশেষে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে দিনভর দফায় দফায় বৈঠক শেষে লাশ পেল মুসলিম শরিয়তে বিবাহিত স্ত্রী আসমা খাতুন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও বিজ্ঞ নোটারী পাবলিকে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে স্ত্রী আসমা খাতুনের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয় বলে জানান ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু।

স্থানীয়রা জানান, ১০ বছর আগে দিনাজপুর থেকে ঠাকুরগাঁও এসে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে জগদীশ চন্দ্র রায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বাবু ইসলাম নাম ধারণ করেন। তিনি ইসলাম ধর্মানুযায়ী নামাজ কালাম আদায় করতেন।

এরপর তিনি ঠাকুরগাঁও শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক আলীর মেয়ে আসমা খাতুনকে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়ি এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।

বুধবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় পথে বাবু ইসলাম মারা যান।

এ খবর পেয়ে তার প্রথম স্ত্রী মিনা রাণী (৩৫) দিনাজপুর থেকে ঠাকুরগাঁও শহরের মুন্সিপাড়া এলাকায় চলে আসেন। তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী জগদীশ চন্দ্র রায় নাম পরিবর্তন করে বাবু ইসলাম হয়ে মুসলিম ধর্মের মেয়ে আসমা খাতুনকে বিয়ে করেছেন।

এরপর প্রথম স্ত্রী মিনা রাণী হিন্দু ধর্মানুযায়ী তার স্বামীর লাশ সৎকারের দাবী করেন। এতে আপত্তি জানান দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা।

পরে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু, মহিলা কাউন্সিলর দ্রৌপদী দেবী আগরওয়ালা, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেনসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উভয় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মরদেহ ইসলাম ধর্ম মোতাবেক দাফনের সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে প্রথম স্ত্রী মিনা রাণী তার স্বামীর মরদেহ দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা খাতুনের কাছে হস্তান্তর করেন।

পরে মাগরিবের নামাজ শেষে শহরের মুন্সিপাড়া জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে মুন্সিপাড়া পারিবারিক গোরস্থানে বাবু ইসলামের মরদেহ দাফন করা হয়।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে ও দুই পরিবারের সাথে আলোচনা করে দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয় এবং ইসলাম শরিয়ত মোতাবেক দাফন সম্পন্ন করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ঠাকুরগাঁও বিভাগের আলোচিত
ওপরে