৩রা জুন, ২০২০ ইং ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
করোনায় পুনরায় বাড়তে পারে সাধারণ ছুটি! বিয়ের এত বছর পরেও কেনো এই তারকরা নিঃসন্তান ! যেভাবে লোক ঠকানো হচ্ছে তাতে আমি সুস্থ হয়েও আবার অসুস্থ... বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বগুড়ায় মানববন্ধন বরগুনায় ভিজিএফ চাল আত্মসাতের অভিযোগে দুই ইউপি...

ম্যাজিস্ট্রেট থাকলে দাম এক, না থাকলে আরেক দাম

 চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সমকালনিউজ২৪

রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রাম নগরীর বাজারগুলোয় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দামে গরুর মাংস বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রশাসন বলছে, দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা নিয়মিত বাজার তদারকি করছেন। কিন্তু সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যতক্ষণ ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকেন ততক্ষণ বিক্রেতারা এক দামে মাংস বিক্রি করেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেলেই আবার নেওয়া হয় বাড়তি দাম। ক্রেতারাও একই অভিযোগ করেছেন।

গতকাল শুক্রবারও নগরীর কোনো কোনো বাজারে হাড়ছাড়া গরুর মাংস কেজিতে বিক্রি হয়েছে ৭২০ টাকা। হাড়সহ মাংস বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকার ওপরে।

দেশি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে হাড়সহ ৫৫০ টাকা আর হাড়ছাড়া ৬৫০ টাকা। চকবাজার এলাকার ক্রেতা রশিদুল ইসলাম বলেন, মাংস বিক্রেতারা খবর রাখেন, কখন ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজার তদারকিতে আসবেন। সে হিসেবে তারা দাম নির্ধারণ করেন। ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজার তদারকি শেষে চলে গেলে, আবার বাড়তি দাম নেওয়া হয়।

ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরাম বলেন, এক কেজি গরুর মাংসের উৎপাদন ব্যয় ৩৫০ টাকা। তাই বাজারে দাম ৪০০ টাকা থেকে ৪২০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। অথচ চট্টগ্রামে সেই মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭২০ টাকায়।

গতকাল নগরীর অক্সিজেন এলাকায় গরুর মাংসের দাম নির্ধারিত ছিল ৫৩০ টাকা। কিন্তু দোকানদাররা বিক্রি করছিলেন ৬০০ টাকায়। সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হাসানের নেতৃত্বে একটি বাজার তদারকি দল অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে এ অভিযোগের প্রমাণ পায়। পরে বেশি দামে গরুর মাংস বিক্রি করায় অক্সিজেন এলাকার তিনটি দোকানকে ৩ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হাসান বলেন, কৃষি বিপণন কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন বাজারের পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সেটি প্রতিদিন সকালেই প্রতিটি বাজার পরিচালনা কমিটির হাতে চলে যায়। সে হিসেবে শুক্রবার গরুর মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ৫৩০ টাকা। কিন্তু কিছু দোকান ৬০০ টাকায় মাংস বিক্রি করায় তাদের জরিমানা করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান বলেন, আমাদের দেখে কম মূল্যের তালিকা সাঁটাতে শুরু করে ব্যবসায়ীরা। তবে অভিযোগ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। বাজার তদারকি দল নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই।

এর আগে গত রবিবার রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসন একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে। তবে দৈনন্দিন চাহিদার অতিরিক্ত পণ্য না কিনতে ক্রেতাদের পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, এবার আমরা পত্রিকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ফোন নম্বরসহ নাম প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছি। যাতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ালে ক্রেতারা ফোন করে জানাতে পারেন। কোন ক্রেতা যদি ফোন করে জানায়, আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বশেষ
চট্টগ্রাম বিভাগের আলোচিত
ওপরে