১৪ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরগুনায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত... বরগুনায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জ॥... আমতলীতে সময় মেডিকেয়ার এন্ড হসপিস এর ক্লিনিক্যাল... ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে... সনাতন ধর্মালম্বিদের আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা

যে কারণে আত্মসমর্পণ করবেন ছয় শতাধিক চরমপন্থী

 অনলাইন ডেস্কঃ সমকালনিউজ২৪
যে কারণে আত্মসমর্পণ করবেন ছয় শতাধিক চরমপন্থী

নিষিদ্ধ ঘোষিত চারটি চরমপন্থী কমিউনিস্ট দল ও সংগঠনের ছয় শতাধিক নেতাকর্মী আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন। আগামী মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) পাবনা শহীদ অ্যাডভোকেট আমিনউদ্দিন স্টেডিয়ামে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করবেন তারা। জুমবাংলার সঙ্গে আলাপচারিতায় তারা জানিয়েছেন আত্মসমর্পণের কারণ।

আত্মসমর্পণ করতে যাওয়া নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা), পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (একতা গ্রুপ), নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি ও কাদামাটি গ্রুপের সদস্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করতে চান এসব চরমপন্থী। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, রাজশাহী, রংপুর, কুষ্টিয়া, নড়াইল, রাজবাড়ী, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর জেলায় সক্রিয় বিভিন্ন চরমপন্থি দলের সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণ করবেন। যারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই হত্যা, ডাকাতি, বিস্ফোরক ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। তারা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। আত্মসমর্পণ করলেও তাদের নিয়মিত মামলা চলবে।

পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি লাল পতাকার ৪৫ জন সদস্য ও ১৩টি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন নাম পরিচয় গোপন রাখতে চাওয়া রাজবাড়ীর এক চরমপন্থী নেতা। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের জলদস্যু এবং মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমপর্ণের ঘটনা থেকে তিনি ও তার রাজনৈতিক সঙ্গীরা উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

খুলনার পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির আরেক সদস্যের কণ্ঠে নেতাদের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেংকারী আর অন্ধকার পথে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ। তিনি বলেন, আমাদের ভুল পথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো, দশটা বছর বাবা-মা-সন্তান-স্ত্রীকে রেখে যে জীবন কাটিয়েছি, সে জীবন আসলে অর্থহীন।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক নামে পরিচিত আরেক চরমপন্থী নেতা জানালেন, আঞ্চলিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আত্মসমর্পণ করছেন তারা। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইস্তেহারে একটা পয়েন্ট ছিলো, আমাদের মতো যারা তাদেরকে সাধারণ জীবনে আসার আহ্বান জানানো হয়েছিলো। সেই সুযোগটা নিচ্ছি ভালো পথে আসার জন্য।

আশির দশক থেকে সিরাজগঞ্জ এলাকার চরমপন্থী তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত লাল পতাকার এক সংগঠক। তিনি বলেন, আমরা প্রায় ছয়শ’ জন আত্মসমর্পণ করছি, অবশিষ্ট থাকছে এক তৃতীয়াংশ। সরকারের যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, তার মাধ্যমে গরিবের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে -এমন বিশ্বাস থেকেই আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছি।

১৯৬৪ সালে মাও সেতুঙের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী চিন্তাধারার প্রতি সমর্থন জানিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বেরিয়ে গঠন করা হয় পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ‘দুই কুত্তার লড়াই’ (দুই সাম্রাজ্যবাদের দ্বন্দ্বের ফল) আখ্যা দেয়া আব্দুল হকের নেতৃত্বাধীন এই পার্টি আশি সাল পর্যন্ত নাম অপরিবর্তিত রাখে। এরপর পার্টি প্লেনামে নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)’ রাখা হয়। পরবর্তীতে মূল পার্টি ভেঙে ‘গণমুক্তি ফৌজ’ ও ‘নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি’ সৃষ্টি হয়।

স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলা প্রতিষ্ঠার স্লোগানে ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) থেকে জন্ম নেয় পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি। ১৯৬৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়ির অনুকরণে ‘গ্রামে চলো নীতি’ গ্রহণ করে তারা। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও ‘শ্রেণিশত্রু খতম’ অব্যাহত রাখে এই পার্টি। বর্তমানে এটিই বাংলাদেশের একমাত্র নকশালপন্থী পার্টি। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে ‘ক্রসফায়ারে’ কমরেড অধ্যক্ষ মোফাখখর চৌধুরী (৬২) নিহত হওয়ার আগেই মূল পার্টি ভেঙে পরবর্তীতে ‘লাল পতাকা’ ও ‘জনযুদ্ধ’ নামে দুই সশস্ত্র গ্রুপের সৃষ্টি হয়। মূল পার্টির হাতে গণসংগঠনগুলো থাকলেও এই দুই গ্রুপের সদস্যদের প্রধান কর্মকাণ্ড হয়ে দাঁড়ায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস।

পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) থেকে বেরিয়ে একাত্তরের রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে জন্ম নেয় পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি। পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির মতো স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলা প্রতিষ্ঠার স্লোগান দিলেও একাত্তরে দুইমুখী লড়াইয়ের (পাকিস্তান ও ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে) পরিবর্তে প্রথমে পাকিস্তানি বাহিনী ও দোসরদের প্রতিহত করার নীতি গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ‘অসমাপ্ত গণযুদ্ধের’ স্লোগান দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানায় তারা। বর্তমানে পার্টির উত্তরাধিকার হিসেবে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (সিসি)-কে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও একতা গ্রুপ, বলশেভিক পুনর্গঠন গ্রুপ নামে বেশ কয়েকটি বিভক্ত অংশ সক্রিয় রয়েছে।

পাবনা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত পাবনায় চরমপন্থি দলগুলোর অন্তর্কোন্দল ও পুলিশি অভিযানে মারা গেছে ১৯৭ জন।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে