১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
দাগনভূঞা প্রেসক্লাবের কার্যকরি কমিটি গঠিত সীমান্তে যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ ১৪০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার সীমানার বাহিরে, হারান পাল দুর্গাপুরে শিশুশ্রমেই চলছে ওয়ার্কসপ।

যে কৌশলে জুয়ার টাকা পাচার হচ্ছে বিদেশে, অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

 অনলাইন ডেস্কঃ সমকাল নিউজ ২৪

বাজি ধরার নামে জুয়া সারা দেশে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এখন এটা আর স্থানীয় পর্যায়ে বা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইনে আন্তর্জাতিক বেটিং সাইটগুলোয় বাংলাদেশি জুয়াড়িদের অংশগ্রহণ বেড়েই চলেছে। এর ফলে অনেক বাজিকর তো সর্বস্বান্ত হচ্ছেই, একইসঙ্গে দেশের টাকার একটি অংশও চলে যাচ্ছে বিদেশে।

 

আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বলছে, তাদের নজরদারি চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে অনলাইন বেটিংয়ের অভিযোগে আটক করা সম্ভব হয়নি। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে তারা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বড় বড় শপিংমলে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হয়।

 

১০ বছর ধরে বাজি খেলে আসছেন সাইমন (ছদ্মনাম)। আলাপকালে তিনি জানান, বাংলাদেশ ফুটবল খেলায় আন্তর্জাতিকভাবে তেমন একটা নাম করতে পারেনি। নাম হয়েছে ক্রিকেটে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেট আমাদের জনপ্রিয় খেলা। শুরুতে আমরা ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ, ব্রাজিল-আর্জন্টিনা ফুটবল ম্যাচ নিয়ে নিজেদের মধ্যে বাজি ধরতাম। দিনে দিনে বাংলাদেশ ক্রিকেটে উন্নতি করতে শুরু করলো, নানান দেশে শুরু হলো টি-২০ লীগ। খেলার সংখ্যার বাড়তে থাকলো, সেই সঙ্গে বাজি ধরাও বাড়তে থাকল। তিনি বলেন, একটা সময় বাজির টাকা লেনদেন নিয়ে মারামারি, লোক জানাজানিসহ নানা ঝামেলা শুরু হলো। ফলে নিরাপদ বাজি খেলার জন্য বাজিকররা আন্তর্জাতিক বেটিং সাইটগুলোর দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। এখন অনেকেই অনলাইনে বেটিং করেন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ি থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, অনলাইনে খেলা নিয়ে জুয়ার বিষয়ে থানায় তেমন কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। তাদের বিরুদ্ধে ওপেন পদক্ষেপ নেয়া মুশকিল। জুয়াটা হয় ঘরের ভেতরে। টেলিভিশনে ক্রিকেট খেলা দেখতে দেখতে, বলে বলে জুয়া বা বাজি ধরা হয়। এ তথ্য না পেলে তাদের আইনের আওতায় আনা মুশকিল। অনলাইন জুয়ার বিষয়ের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। এ জন্য পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন ওসি ওয়াজেদ আলী।

 

অনলাইনে বেটিং করেন এমন বাজিকরের সঙ্গে আলাপ করে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনলাইনে বেশকিছু বেটিং সাইট আছে, যারা ক্রিকেট, ফুটবলসহ অসংখ্য খেলায় বাজি ধরার ব্যবস্থা করে দেয়। এগুলো বেশিরভাগই ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা যেসব দেশে জুয়া বৈধ সেসব দেশভিত্তিক। সেসব সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। ডলারও জমা দিতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় পাসপোর্টের কপি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। বাংলাদেশিদের এই দেশে থেকে ওইসব সাইটে অ্যাকাউন্ট খোলা প্রায় অসম্ভব।

 

জানা গেছে, এজন্য পরিচিত বাংলাদেশি অথচ বিদেশে থাকেন তাদের নামে বাজিকররা অ্যাকাউন্ট খোলেন। আর সেই অ্যাকাউন্ট চালানো হয় বাংলাদেশ থেকে। বেটিং অ্যাকাউন্টের টাকা লেনদেন হয় বিদেশে থাকা ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে। কিন্তু বাংলাদেশে থাকা অ্যাকাউন্ট চালনাকারীর সঙ্গে লেনদেন হয় অন্য উপায়ে। হয় তিনি মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠান, অথবা বিদেশে থাকা ব্যক্তির বাংলাদেশি প্রতিনিধি টাকা আদান-প্রদান করেন।

 

আরও জানা গেছে, যাদের বিদেশে কোনো পরিচিতজন নেই তাদের জন্যও রয়েছে অন্য ব্যবস্থা। মাসিক ভাড়ায়ও পাওয়া যায় বেটিং অ্যাকাউন্ট। বাংলাদেশে এখন ভাড়ায় বেশি চলছে বেটিং অ্যাকাউন্ট। বিশেষ করে আইপিএল, বিপিএলের মতো টি-২০ লীগগুলো শুরু হলেই এই অ্যাকাউন্টগুলোর চাহিদা বাড়ে।

 

বেটিং সাইটগুলোয় যেকোনো খেলা শুরুর আগে বাজির দর নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কোন দলের পক্ষে বাজি ধরে জিতলে কত টাকা দেয়া হবে এবং হারলে কত টাকা দিতে হবে সেটা উল্লেখ করা থাকে।

 

শুধু তাই নয়, বাজি ধরার জন্যও রয়েছে পরামর্শ সাইট ও ফেসবুক পেইজ। এসব সাইট বা পেইজে যে কোনো টুর্নামেন্টের শুরুতে ফ্রিতে পরামর্শ দেয়া হয় এবং খেলা সম্পর্কিত নানা তথ্য দেয়া হয়। পরে টাকার বিনিময়ে পরামর্শ দেয়া হয়।

 

রাজধানীর বিভিন্নস্থানে গড়ে উঠেছে বেটিং সাইটের মতো ‘মোবাইল জুয়া’ চক্র। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা বাজি ধরতে চান প্রথমে তারা মোবাইলে চক্রের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বাজির লেনদেন হয় পরদিন, বিকাশ বা নগদে। তবে অবশ্যই বাজিকরকে বিশ্বস্ত হতে হয়। মানে টাকা যেন ঠিকভাবে লেনদেন হয়। জিতলে যেমন টাকা পাওয়া যায়, তেমনি হারলে যেন টাকা দেয়া হয় সেটা নিশ্চিত হতে হয়।

 

ডিএমপির একাধিক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তারা। তবে তারা বলেছেন, থানায় এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। এলে ব্যবস্থা নেয়া হয়। প্রত্যেকেই পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে খোঁজ নিতে বলেন। তবে পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের বক্তব্যও দায়সারা।

 

অনলাইনে বেটিংয়ের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে এডিসি নাজমুল জাগরণকে জানান, এ বিষয়ে আমরা কনসার্ন। আমাদের নলেজে যেসব বেটিং সাইট আসছে সেগুলো খুঁজে খুঁজে বন্ধ করার জন্য বিটিআরসিকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তারা বন্ধ করেছে। তবে একটা বন্ধ হলে আরেকটি আসে। কোন কোন সাইট এ পর্যন্ত বন্ধ করা হয়েছে তা জানাতে পারেনি তিনি।

 

এখন পর্যন্ত বেটিং করে এমন কাউকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে থেকে অনলাইনে বেটিং করে এমন কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু কারা বেটিং করছেন তা ট্রেস করা সম্ভব।

 

মতিঝিল জোনের এডিসি ইফতেখার আহমেদ বলেন, এই বিষয়ে স্থানীয় থানাগুলোয় অভিযোগ কম হয়। আমরা এ রকম রিপোর্ট পাইনি।

 

জানতে চাইলে বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জাগরণকে জানান, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোয় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাজিকরদের ধরে চালান করে দেয়া হচ্ছে। এ সপ্তাহেও ৯ জনকে জুয়া খেলার অভিযোগে আদালতে চালান করা হয়েছে। তবে অনলাইনে বেটিংয়ের বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
অর্থনীতি-ব্যবসা বিভাগের সর্বশেষ
অর্থনীতি-ব্যবসা বিভাগের আলোচিত
ওপরে