২১শে মে, ২০১৯ ইং ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
ফেনীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যসামগ্রী তৈরীদায়ে... বেতাগীতে বৈদ্যুতিক আগুনে বসতঘর পুরে ছাই যশোরের শার্শায় স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য... বগুড়ায় পরকিয়ার টানে ৯০ দিনের সন্তান রেখে এক মা উধাও! বরগুনায় অপহরণের দুই মাস পর তরুণীকে উদ্ধার!

যৌনপল্লি থেকে বিচারকের আসনে রূপান্তরকামী

 অনলাইন ডেস্ক। সমকাল নিউজ ২৪

মা ছিলেন যৌনকর্মী, বেড়ে উঠেছেন নিষিদ্ধ যৌনপল্লীতে। হঠাৎ খেয়াল করলেন, তিনি পুরুষ নন, দিন দিন নারী হয়ে উঠছেন। এভাবেই রূপান্তরকামী হয়ে জড়িয়েছেন অধিকার আদায়ের নানা আন্দোলনে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পরের দিন রূপান্তরকামী এই মানুষটি এবার আদালতের বিচারকের আসনে বসলেন।

গত ৯ মার্চ এমন অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে ভারতের হুগলি জেলার চার মহকুমায় শ্রীরামপুরে লোক আদালতে। এই বিচারকের নাম সিন্টু বাগুই (২৭)।

যৌনকর্মীর সন্তান‌ এবং রূপান্তরকামী হিসেবে সম্ভবত তিনি প্রথম এই দায়িত্ব পালনের গৌরব অর্জন করেছেন। সিন্টু বাগুই বলেন, ‘যৌনকর্মীর সন্তান এবং রূপান্তরকামী হিসেবে সম্ভবত আমিই প্রথম এই দায়িত্ব পালন করলাম। এভাবেই এগিয়ে যাব। সমাজের উপকারে আসব।’

খুব ভালোভাবেই জমে থাকা কিছু মামলার নিষ্পত্তি করেছিলেন সিন্টু। এমনটিই জানিয়েছেন দায়িত্বরত সচিব অনির্বাণ রায় ও আইনজীবী অংশুমান চক্রবর্তী।

শনিবার আদালতে কিছু লঘু অপরাধ এবং মামলার পূর্বাবস্থায় থাকা বিষয়ের নিষ্পত্তি করেন বিচারক সিন্টু। সচিব অনির্বাণ রায় জানান, ওই বেঞ্চে প্রায় আড়াইশর বেশি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে সেদিন। সিন্টু অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সিন্টুর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, একজন যৌনকর্মীর সন্তান এবং রূপান্তরকামী যে সমাজের মূলস্রোতেও ব্যাপক সাফল্য আনতে পারেন, সেটি করে দেখালেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের রূপান্তরকামীদের আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী সিন্টু। তিনি একজন সমাজকর্মী।

সম্প্রতি হুগলি জেলা আইনি পরিসেবা কর্তৃপক্ষের (ডালসা) পক্ষ থেকে সমাজকর্মী হিসেবে সিন্টুকে বিচারকের আসনে বসার প্রস্তাব দেয়া হয়।

বিচারকার্যে সিন্টুকে সহায়তাকারী আইনজীবী অংশুমান চক্রবর্তী বলেন, ‘বিচারকের আসনে বসে সিন্টুর মধ্যে কোনো আড়ষ্টতা দেখিনি। সুযোগ পেলে তিনি এই পেশায় ভালো করবেন বলে মনে করছি।’

বিচারকার্য শেষে সিন্টু তার মাকে স্মরণ করেন। সাত বছর আগে সিন্টুর মা মারা গেছেন। সিন্টু বলেন, ‘মা বেঁচে থাকলে আমার এমন সাফল্যে খুশি হতেন।’

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
আন্তর্জাতিক বিভাগের আলোচিত
ওপরে