২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরগুনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে... নিজ দায়িত্বে শহর ও গ্রামকে পরিষ্কার না রাখলে মোবাইল... কোটচাঁদপুরে হেলমেট ছাড়া মিলবে না বাইকের তেল উজিরপুরের নারী নি’র্যাতনকারী সেই ওসি ও কনস্টেবলের... বালিয়াডাঙ্গীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ০৭ দফা দাবিতে...

রংপুরের পল্লী নিবাসেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এরশাদ

 খন্দকার রাকিবুল ইসলাম,রংপুর, সমকালনিউজ২৪

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে লাখো মানুষের নজীরবিহীন বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পল্লী নিবাসের লিচুবাগানেই সমাহিত হলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

রওশন এরশাদ, জিএম কাদেরসহ পার্টির নীতি নির্ধারকদের ঢাকায় বনানী কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন। বিকেল ৫ টা ৪৩ মিনিটে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় লাখো জনতা তাকে সমাহিত করেন।

গত রোববার ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় এরশাদের মৃত্যু হয়। এরপর জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা এরশাদের কবর ঢাকার সামরিক কবরস্থানে দেওয়ার কথা জানান। তবে ওই দিন থেকেই রংপুরের জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা এরশাদের নিজ শহর রংপুরে দেওয়ার দাবি করতে থাকেন। রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান শুরু থেকেই এরশাদের দাফন রংপুরের করার বিষয়ে দাবি তুলতে থাকেন।

আজ দুপুর ১২টার পর রংপুর শহরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে চতুর্থ ও শেষ জানাজার জন্য এরশাদের মরদেহ আনা হয়। সেখানে লক্ষাধিক মানুষ জানাজা নামাযে শরিক হয়। জানাজার মধ্যেই রংপুরে এরশাদের দাফনের দাবিতে হট্টগোল শুরু হয়।

গত রোববার বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রথম জানাজা হয়। গতকাল সোমবার এরশাদের দ্বিতীয় জানাজা হয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। এরপর বাদ আসর বায়তুল মোকররম জাতীয় মসজিদে তৃতীয় দফায় জানাজা হয়। আজ রংপুরের জানাজা শেষে ঢাকায় এরশাদের মরদেহ এনে দাফনের কথা ছিল।

কিন্তু আজ জানাজার আগে বক্তৃতায় মেয়র মোস্তাফিজার রহমান রংপুরে এরশাদের দাফনের দাবি আবারও তোলেন। এরপর জি এম কাদের বক্তব্য শুরু করেন। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের মাঝেই দাফনের বিষয়টি উল্লেখ করে স্লোগান শুরু হয়। বেলা ২টা ২৫মিনিটে এরশাদের জানাজা শুরু হয়। জানাজার পর শত শত কর্মী এরশাদের মরদেহ বহনকারী গাড়িটি ঘিরে ধরেন। তাঁরা রংপুরে কবর দেওয়ার দাবি জানান। গাড়িটিতে ছিলেন মেয়র মোস্তাফিজার রহমান। ময়দানে মাইক থেকে তাঁর প্রতি আহ্বান জানানো হয়, মরদেহ যেন রংপুর থেকে ঢাকায় না যায়। এ পরিস্থিতিতে বেলা তিনটার দিকে এরশাদের মরদেহ শহরে তাঁর বাড়ি পল্লী নিবাসে নেওয়া হয়। এরপর সেখানেই দাফন করার ঘোষণা দেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, এরশাদকে রংপুরে দাফন করার ব্যাপারে ঢাকায় যাঁরা আছেন, তাঁদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাঁরা সম্মতি দিয়েছেন বলে আমি এ সিদ্ধান্তের কথা জানালাম।

আজ জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এরশাদের প্রতি রংপুরের গণমানুষের আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতাবোধে শ্রদ্ধা জানিয়ে এরশাদকে রংপুরেই দাফন করতে অনুমতি দিয়েছেন রওশন এরশাদ। এরশাদের কবরের পাশে রওশন এরশাদের জন্য কবরের জন্য জায়গা রাখতেও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

রওশন এরশাদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি রংপুরের গণমানুষের ভালোবাসা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাদের আবেগ ও অনুরাগেই রংপুরে এরশাদকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দাফন কার্য পরিচালনা করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে