১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
ঝালকাঠিতে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে হা’মলায় আহত... অ’পহরণের ৫ দিন পর ঠাকুরগাঁও থেকে তরুণীকে উ’দ্ধার বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট... র‌্যাবের অ’ভিযানে ২৫৬০ পিস ই’য়াবাসহ ব্যবসায়ী... দুর্গাপুরে হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতা

রক্তাক্ত আল নূর মসজিদ, নিহত বেড়ে ৪০

 আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সমকালনিউজ২৪
রক্তাক্ত আল নূর মসজিদ, নিহত বেড়ে ৪০

নিউজিল্যান্ডের আর নূর মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনায় ৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ সময় সেখানকার আরো একটি মসজিদে হামলা হয়েছিলো। তবে ওই হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলার পর মসজিদের ভিতর ‘রক্তের নদী’ বয়ে যাচ্ছে। এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে লাশ এবং নিহতদের পোশাক আর জুতো।

এদিকে এ ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের একজন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আর হামলার মুল নায়ক ২৮ বছর বয়সী এই যুবক। তার নাম ব্রেটন টারান্ট।

অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেয়া ওই ব্যক্তি এই নামেই নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট খুলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। তবে পুলিশের ধারণা, এটি তার আসল নাম নয়।

শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে কমপক্ষে দুই বন্দুকধারী ক্রিস্টচার্চ শহরের হেজলে পার্ক ডিস্ট্রিকের ডিন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত আল নূর মসজিদে ওই হামলা চালায়। হামলাকারীদের একজন নিউজিল্যান্ড এবং অন্যজনকে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম নিউজিল্যান্ড হ্যারাল্ড।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স জানায়, সামরিক সেনাদের ছদ্মবেশে দুই ব্যক্তি শুক্রবার মসজিদে ঢুকে পড়ে। এরপর তারা নিজেদের হাতে থাকা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে নামাজরত মুসল্লিদের লক্ষ্য করে এলাপাতাড়ি গুলি করতে শুরু করে। এসময় ওই মসজিদটিতে কমপক্ষে ২শ জন মুসল্লি জুমার নামাজ পড়ছিলেন।

হামলার সময় ধারণকৃত ওই ভিডিওতে দেখা হামলাকারী মসজিদের এক পাশে গাড়িটি রেখে নেমে আসছেন। এরপর মসজিদের নামাজরত মুসল্লিদের লক্ষ্য করে রাইফেল থেকে গুলি করতে শুরু করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, দীর্ঘ ১৭ মিনিট ধরে রাইফেল থেকে গুলি চালাতে থাকেন বন্দুকধারী।

ওই দুর্ধর্ষ খুনী লাইভে এসে হামলা চালান। তিনি হামলার সময় ধারণকৃত ভিডিওটি ‘মেনিফেস্টো’ শিরোনামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেন। এটিকে ‘রক্ত শীতল করা’ ভিডিও বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ। এখনও সেটি সে দেশের সামাজিক মাধ্যমগুলো ঝুলছে বলে জানা গেছে। তবে ভিডিও ফুটেজটি সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হামলা সম্পর্কে নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, ‘এই বন্দুক হামলার পর ক্রিস্টচার্চ মসজিদে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে পুলিশ। তবে এখনও ঝুঁকি কাটেনি।’

এর আগে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স জানায়, সামরিক সেনাদের ছদ্মবেশে দুই ব্যক্তি শুক্রবার মসজিদে ঢুকে পড়ে। এরপর তারা নিজেদের হাতে থাকা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে নামাজরত মুসল্লিদের লক্ষ্য করে এলাপাতাড়ি গুলি করতে শুরু করে। এসময় ওই মসজিদটিতে কমপক্ষে ২শ জন মুসল্লি জুমার নামাজ পড়ছিলেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছে। হতাহতদের অধিকাংশই মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লি। এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে আল নূর মসজিদে।

হামলার পর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে গোটা এলাকা। মসজিদের চারপাশে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ। এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে থাকারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে ওই শহরের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে আল নূর মসজিদে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানতে না পেরে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তাদের পরিবারের লোকজন।

তাদের শান্ত করার কোনো চেষ্টাই করছে না সরকার। উল্টো পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ মুসলিমদের কোনো মসজিদে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত নিউজিল্যান্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সূত্র: নিউজিল্যান্ড হ্যারাল্ড

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
আন্তর্জাতিক বিভাগের আলোচিত
ওপরে