২৫শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
প্রথমবারের মতো কিম-পুতিন বৈঠক এমপি হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপির জাহিদুর নওগাঁর আত্রাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবকের মৃত্যু খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় কিশোরের মরদেহ উদ্ধার ফেনী কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম হাজারী...

রাজশাহীতে চালের বাজার উর্ধমুখী, নিম্ন আয়ের মানুষ হতাশায়

  সমকাল নিউজ ২৪

নাজিম হাসান, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর জেলাজুড়ে আমনের ভরা মৌসুম শেষ না হতেই ক’দিন থেকেই চালের বাজারে অস্থিরতা চলছে। সংসদ নির্বাচনের পর থেকে রাজশাহীতে হঠাৎ করেই বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। আর চালের বাজার লাগামহীন হয়ে পড়ায় নিম্নআয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তাই আড়তগুলোতে পর্যাপ্ত চাল মজুদ থাকলেও কমেছে না চালের দাম।

এছাড়া নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকা এবং প্রতিটি দোকানে দাম নির্ধারণ করে তালিকা না দেওয়ায় ইচ্ছামত দাম হাকিয়ে নিচ্ছে খুচরা দোকানীরা। তাই স্বস্তিতে নেই নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ। প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৫৫-৫৮ টাকা, আটাশ চাল ৪৫ টাকা, জিরাশাল ৫৫ টাকা, বাসমতি ৭৫ টাকা, পায়জাম ৭০ টাকা, কাটারিভোগ ৭০ টাকা, স্বর্ণা ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, গুটিস্বর্ণা ৪০ টাকা, কালজিরা আতপ ৮০-৯০ টাকা, চিনিগুড়া আতপ ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, চালের দাম দ্রুত না কমলে বাজারে অন্য খাদ্যপণ্যেও অস্থিরতা বাড়বে।

এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সমাজের নিম্নআয়ের মানুষগুলো। আমনের ভরা মৌসুম চললেও চালের এ মুল্যবৃদ্ধির কোন সদুত্তর খুজে পাচ্ছেনা নিম্নআয়ের মানুষেররা।এই সময়ে চালের দাম বাড়াটা আমাদের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু এতে করে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের কিছুই করার নেই। দিনমজুর আব্দুল মানিক মিয়া বলেন, প্রতিদিন দিনমজুরি করে যা আয় হয় তা দিয়েই তাকে সংসার চালাতে হয়। তবে দিনমজুরির আয় না বাড়লেও গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহত ভাবে চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে। সারাদিন কাজ করলে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। দিনমজুরদের তিন বেলার বদলে দুই বেলা খেয়ে বাঁচতে হবে। অন্যথায় না খেয়ে থাকতে হবে সংসারের সবাইকে। রাজশাহীর বাগমরা,তানোর,গোদাগাড়ি,মোহনপুর,পবা,পুঠিয়া,চারঘাট,বাঘা,দুর্গাপুর এবং তাহেরপুর বাজারে পাইকারী চালের আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, চালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে আড়ত গুলোতে।

তবে চালের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল মালিকরা চালের দাম বাড়ানোর কারনে আমাদের বেশি দামে চাল কিনে বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে চালের সরবরাহও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে চালের দাম বৃদ্ধিতে আমাদের মতো পাইকারি ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই।এদিকে,প্রশাসনের কোন ধরনের বাজার মনিটরিং না থাকার কারনে ইচ্ছেমত দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্রেতারা বলছে খুচরা ব্যবসায়ীরা চাল বিক্রিতে অতি মুনাফা করছেন। মোকামে চালের দাম কম হলেও তারা দাম বেশি নিচ্ছেন। প্রশাসন বাজার পর্যবেক্ষণ করে অতি মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে চালের দাম কিছুটা আয়ত্বের মধ্যে আসবে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।

তবে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা এবং প্রতিটি দোকানে দাম নির্ধারণ করে তালিকা দেয়া হলে এত অনিয়ম থাকবেনা বলে দাবি একাধিক ক্রেতার। উল্লেখ্য,১৯৬৪ সালের অ্যাগ্রিকালচারাল প্রডিউস মার্কেটস্ রেগুলেশন অ্যাক্ট ও ১৯৮৫ সালের সংশোধিত বাজার নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৬ (১) ও ১৬ (২) ধারামতে কৃষিজাত ও ভোগ্যপণ্যের ক্রয়মূল্য, বিক্রয় মূল্য ও মজুদ পরিস্থিতির তদারকির ক্ষমতা রয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজার কর্মকর্তাদের। কিন্তু বাস্তবে কোথাও আইনটির প্রয়োগ হতে দেখা যায় না। তাছাড়া ১৯৫৩ সালের মজুদবিরোধী আইন ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনেরও প্রয়োগ নেই। সেজন্যে ক্রমাগতভাবে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে বাজারে চালের দাম।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
অর্থনীতি-ব্যবসা বিভাগের আলোচিত
ওপরে