২৩শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১০ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
একাধিক প্রেম করায় প্রেমিককে মেরে পুঁতে রাখে ফারজানা! ছাত্রের সঙ্গে ‘স্ক্যান্ডাল’, যা বললেন সেই... সেফুদার বিরুদ্ধে ভিয়েনার আদালতে মামলা শ্রীলঙ্কা হামলার ‘মাস্টার মাইন্ড’ মাওলানা জাহরান... বগুড়ায় মদসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

রাজশাহীতে বার সমিতির কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  সমকাল নিউজ ২৪

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজশাহী জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৬ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জনেরই কল্যাণ তহবিলের সদস্য বাতিল,সাবেক তিন সাধারণ সম্পাদকের অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ তিন বছরের জন্য বরখাস্ত এবং অ্যাসোসিয়েশনের আরো ছয়জনকে ছয় মাসের জন্য বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে।এদিকে,১৬ জন আইনজীবী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান,তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে কথিত আত্মসাৎ এর টাকা আদৌ আত্মসাৎ হয়নি। প্রকৃতপক্ষে আত্মসাৎ হিসেবে উল্লিখিত টাকা ছিলো ব্যাংক কর্তৃক টাকা পরিশোধের সময় উৎস কর ও অন্যান্য শুল্ক কর্তনের টাকা। এই সভা প্রহসনমূলক ও সংবিধান পরিপন্থি। আমরা এই সভার সব সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষ ও অভিজ্ঞ নিরীক্ষক দ্বারা হিসাব নিরীক্ষা করার দাবি জানান তারা। অপরদিকে,সোমবার দুপুরে সভার শুরুতে বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক অভিযুক্ত ১৬ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও তাদের প্রদত্ত জবাব পড়ে শোনান। পরে সাধারণ সভায় উপস্থিত আইনজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে রাজশাহী বার সমিতির পক্ষে সভাপতি অ্যাড. লোকমান আলীকে সমিতির গঠনতন্ত্রের ৩৭ ধারার বিধান মতে অভিযুক্ত ১৬ জনের শাস্তি ঘোষণা করেন। শাস্তিপ্রাপ্ত আইনজীবীরা হলেন,রাজশাহী বার সমিতির সাবেক সভাপতি ও কল্যাণ তহবিল স্ট্যান্ডিং কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. আবুল কাশেম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জমসেদ আলী-১, অ্যাড. মাইনুল আহসান (পান্না) ও অ্যাড. আফতাবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ তহবিল) অ্যাড. পারভেজ তৌফিক জাহেদী, অ্যাড. জানে আলম, অ্যাড. সানোয়ার কবির খান ঈশা ও অ্যাড. হাবিবুর রহমান, সাবেক সম্পাদক (হিসাব) অ্যাড. শামসুল হক, অ্যাড. মুন্সি আবুল কালাম আজাদ, অ্যাড. আব্দুর রাজ্জাক সরকার; সাবেক সম্পাদক (অডিট) অ্যাড. আব্দুল মতিন চৌধুরী রুমি, অ্যাড. মাহবুবুর রহমান রুমন ও অ্যাড. আদিব ইমাম ডালিম; সাবেক চেয়ারম্যান (কল্যাণ তহবিল স্ট্যান্ডিং কমিটির) অ্যাড. এরশাদ আলী ঈশা ও বার সমিতির সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হক। এদের প্রত্যেকেরই বিরুদ্ধে সমিতির গঠনতন্ত্রের ৩৭ ধারামতে তাদের কল্যাণ সমিতির সদস্যপদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এছাড়া সাবেক সাধারণ সম্পাদক জমসেদ আলী-১, মাইনুল হাসান পান্না ও আফতাবুর রহমানের বিরুদ্ধে রাজশাহী বার সমিতির সাধারণ সদস্য পদ হতে আজ মঙ্গলবার থেকে আগামি ৩ বছরের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। আর সাবেক সম্পাদক (হিসাব) অ্যাড. শামসুল হক, অ্যাড. মুন্সি আবুল কালাম আজাদ ও অ্যাড. আব্দুর রাজ্জাক সরকার এবং সাবেক সম্পাদক (অডিট) অ্যাড. আব্দুল মতিন চৌধুরী রুমি, অ্যাড. মাহবুবুর রহমান রুমন ও অ্যাড. আদিব ইমাম ডালিমকে রাজশাহী বার সমিতির সাধারণ সদস্য পদ হতে ৬ মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া অবশিষ্ট ৭ জনসহ রাজশাহী বারের ওই ১৬ জন সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তাদের কল্যাণ তহবিলের সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে এবং সেইসাথে তাদের নিয়মিত সদস্য পদ থেকে বাদ দিয়ে সহযোগী সদস্য করা হয়েছে। সমিতির বার্ষিক সভায় জানানো হয়, ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তারা বার সমিতির ও কল্যাণ তহবিলের নির্বাহী কর্মকর্তা পদে কর্মরত ছিলেন। এসময় তারা এক কোটি ২৮ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ টাকা টাকা আত্মসাৎ করেন। এসব আত্মসাৎকৃত টাকা অভিযুক্তরা ৩০ দিনের মধ্যে বার সমিতিতে ফেরত না দিলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আত্মসাৎকৃত টাকা বার সমিতিতে ফেরত দিলে তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কল্যাণ তহবিলের স্ট্যান্ডিং কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. এরশাদ আলী ঈশা বলেন, আওয়ামীলীগ এখন ক্ষমতায় আছে, তাই তারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর চাইতে আরো বড় ব্যাপার হলো-সামনে বার সমিতির নির্বাচন, আর এই নির্বাচনে যাতে আমরা অংশগ্রহণ করতে না পারি সেইজন্য আমাদের নেতৃস্থানীয় সিনিয়র আইনজীবীদের ফাঁসিয়ে তিন বছরের জন বরখাস্তসহ কল্যাণ তহবিলের সদস্য পদ বাতিল করার মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এটি একটি একতরফা সিদ্ধান্ত। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি। এ ব্যাপারে রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি লোকমান আলী বলেন, যেসব তথ্য সকলের সামনে উন্মুক্ত করা হয়েছে তার দ্বারা সাধারণ আইনজীবীদের কাছে অভিযুক্তদের মুখোশ উম্মুক্ত হয়েছে। আর যে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে তা তারই প্রতিফলন মাত্র। বারের সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাদের জন্য ফিরে আসার পথও উম্মুক্ত রাখা হয়েছে। তারা চাইলে বারের আত্মসাৎকৃত টাকা জমা দিয়ে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সমিতির এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শাস্তিপ্রাপ্ত আইনজীবীরা।#

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে