২৬শে জুন, ২০১৯ ইং ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
জামানত বাজেয়াপ্ত সাবেক চিফ হুইপসহ ৫ প্রার্থী! হজ ফ্লাইট শুরু ৪ জুলাই নৃত্যে সারাদেশে প্রথম বেতাগীর মুবিন! নাঙ্গলকোটে তথ্য আপা উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত! আমতলীতে দুদকের গণশুনানি, সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক...

রাজশাহীতে ভাইয়ের বদলে আটক হওয়া সজলকে মুক্তির আদেশ,ওসিকে তলব

  সমকাল নিউজ ২৪

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীতে বড় ভাইয়ের বদলে গ্রেপ্তার হওয়া ডাব বিক্রেতা সজল মিয়াকে (৩৪) দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামি না হয়েও কেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামি হিসেবে সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তার জবাব দিতে মহানগরীর শাহমখদুম থানার ওসি এসএম মাসুদ পারভেজকে শোকজ করেছেন আদালত। বুধবার (১২ জুন) বিকেলে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের (প্রথম) বিচার মো. মনসুর আলম এ আদেশ দেন। আদেশ অনুযায়ী ওসি মাসুদ পারভেজকে সাত দিনের মধ্যে আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আগে গত ৩০ এপ্রিল সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সজলের বাড়ি মহানগরীর ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়া মহল্লায়। তার বাবার নাম তোফাজ উদ্দিন। সজলের বড় ভাইয়ের নাম সেলিম ওরফে ফজল। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় ২০০৯ সালে ফজলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। রায় ঘোষণার আগে থেকেই তিনি পলাতক রয়েছে। কিন্তু ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ গত ৩০ এপ্রিল সজলকে গ্রেপ্তার করে ফজল হিসেবে তাকে কারাগারে পাঠান। রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোজাফফর হোসেন জানান,শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে ওসির বিরুদ্ধে মামলা হবে। আর সজল মিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহন কুমার সাহা বলছেন,বিনা অপরাধে প্রায় দেড় মাস জেল খাটানোর জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ে মানবাধিকার সংগঠনের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করা হবে। এর আগে শিশুপাচারের অভিযোগে রাজশাহী নগরীর শাহ মখদুম এলাকার সেলিম ওরফে ফজলের বিরুদ্ধে মামলা হয় ২০০১ সালের ২০ মে। এর ৫দিন পরই গ্রেফতার হয় ফজল। তবে বেশ কিছুদিন জেলহাজতে থাকার পর জামিনে বেরিয়েই লাপাত্তা সে। ফলে তার অনুপস্থিতিতেই চলে বিচারকাজ। ২০০৯সালের ২৮ আগস্ট ওই মামলার রায়ে ফজলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। মুক্তির আদেশের পর আদালত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে সজল মিয়া এই রায়ের প্রায় ১০বছর পর গত ৩০এপ্রিল ফজল দেখিয়ে ছোটভাই সজলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে জেল থেকে মুক্তি পেতে গত ২৬মে কারাগার থেকেই আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করে সজল।আবেদন আমলে নিয়ে উপযুক্ত প্রমাণ দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।এরপর আজ শুনানি শেষে আদালত রায় দেন। রায়ে আদালত বলেন, সজল মিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্মতারিখ ২৭ মে ১৯৮৪ ও পিতার নাম তোফাজ উদ্দিন রয়েছে। আর ২০০১ সালে দায়ের করা মামলার এজাহারে সেলিম ওরফে ফজল মিয়ার বয়স লেখা রয়েছে ২৭ বছর। ২০০১ সালে ফজলের বয়স ২৭ হলে বর্তমানে তার বয়স ৪৫ বছর। কিন্তু জন্মতারিখ অনুযায়ী সজলের বর্তমান বয়স ৩৫বছর। এছাড়া আদালত আরো উল্লেখ করেছেন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ফজলের শারীরিক বর্ণনার সঙ্গে সজলের শারীরিক বর্ণনার মিল নেই। সজলের ভাই ও বোনদের দেয়া এভিডেভিটের তথ্য মতেও আটক সজল ও দণ্ডপ্রাপ্ত ফজল তাদের সহোদর। কিন্তু একইব্যক্তি নয়। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত ফজল দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ বলেও তারা আদালতে জানিয়েছেন। আদালত সার্বিক তথ্যউপাত্ত পর্যালোচনা শেষে সজল মিয়া এই মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে দ্রুত মুক্তি দেয়া আদেশ দেন।#

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে