২৬শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
মিলার স্বামীকে খোলামেলা ছবি পাঠাতেন নওশীন! অবশেষে শপথ নিলেন আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফোরকান বরগুনায় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে মানববন্ধন মঠবাড়িয়ায় পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে... মধ্যরাতে বন্ধ হচ্ছে ২২ লাখ ৩০ হাজার সিম

রাজশাহীতে রেলওয়ে জায়গায় স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে রাস্তা অবরোধ

  সমকাল নিউজ ২৪

নাজিম হাসান,রাজশাহী সংবাদদাতা:
রাজশাহী মহানগরীর হড়গ্রাম টুলটুলিপাড়ার কোর্ট স্টেশন এলাকার রেলওয়ে জায়গায় ৯টি স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করেছে স্থানীয় উচ্ছেদকারীরা। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তারা রাজশাহী-চাঁপানবাবগঞ্জ মহাসড়কের কোর্ট স্টেশন এলাকায় রাস্তায় অবরোধ করে রাখেন। এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তায় ইট,কাঠের গুড়ি ফেলে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছেন,এক আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৮ জনের জমিগুলো তাদেরকে ইজারা দেয়া হয়েছে। এর মেয়াদ রয়েছে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। তাই সেগুলো এখন উচ্ছেদ করা সম্ভব হলো না। তবে এই ইজারার মেয়াদ শেষ হলে সেটির আর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে না।এদিকে, উচ্ছেদকারী স্থানীয় একাংশের দাবি, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রেললাইনের দুই ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে গত মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) থেকে। আজো একই অভিযান চলছে। এই সময়ে রেললাইনের দুই ধারে নির্মাণ করা সাধারণ মানুষের কয়েক শ’ বাড়ি-ঘর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাদের অধিকাংশই গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কিন্তু একই স্থানে অবস্থিত রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টুর আমরা নতুন প্রজন্মের কার্যায়লসহ আটটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। অথচ সাধারণ মানুষের সব স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই নিজের শেষ সম্বলটুকু হাড়ির চালগুলো নিতে পারেননি। এর ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। তারা ৯টি স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ গড়িমশি করে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসী। এসময় তারা রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের কোর্ট স্টেশন এলাকায় অবরোধ করেন। তবে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, সব অবৈধ স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হবে। কোনোটিই রাখা হবে না। তবে এক আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৮ জনের জমিগুলো তাদেরকে ইজারা দেয়া হয়েছে। এর মেয়াদ রয়েছে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। তাই সেগুলো এখন উচ্ছেদ করা সম্ভব হলো না। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, চারখুটা মোড় থেকে পশ্চিমে বহরমপুর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে কোর্ট স্টেশন এলাকার একটি মার্কেট ভাঙা হয়নি। তাদের দাবি, এই মার্কেটে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টুর একটি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত কার্যালয় রয়েছে। সে জন্য এই মার্কেটটি ভাঙা হয়নি। তারা বলেছেন, ভাঙলে সবকিছুই ভাঙতে হবে। সে জন্য তারা বিক্ষোভ করেছেন। এবিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ইউনুস আলী বলেন, বেদখল সরকারি জমি উদ্ধারের জন্য সরকারের তরফ থেকে কঠোর নির্দেশনা এসেছে। তাই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, রেলওয়ের জমিতে বস্তি এবং দোকানপাট গড়ে ওঠার কারণে নগরীর সৌন্দর্য্য যেমন নষ্ট হয়েছে তেমনি ট্রেনে কেটে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছিল। এখন উচ্ছেদ শেষে এ এলাকায় রেললাইনের পাশে নিরাপদ দূরত্বে ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান বলেন, প্রায় তিন দশক ধরে রেললাইনের ধারে এসব অবৈধ স্থাপনা ছিল। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ করতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। আমরা আগে থেকেই নোটিশ দিয়েছিলাম, মাইকিং করে মালামাল ও স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য দখলকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। এরপর অভিযান চালানো হয়েছে। দুই দিনে প্রায় আট শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।#

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে