২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরিশাল শেবাচিমে ময়লার স্তূপে মিললো ২২ অপরিণত শিশুর... স্বামীর লাশ ওয়ারড্রবে রেখে অফিস করলেন স্ত্রী! ঐক্যফ্রন্টকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবিতে মানববন্ধন বন্য হাতির আক্রমণে নিহত জাসদ নেতা সাইমুন কনক

রাজশাহী মেডিকেলে দালালদের খপ্পরে রোগীর স্বজনরেরা

  সমকাল নিউজ ২৪

নাজিম হাসান,রাজশাহী সংবাদদাতা:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল চত্বরে দালালদের খপ্পরে রোগীর স্বজনরেরা। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘিরে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এই চক্রের অপতৎপরতা ওপেন সিক্রেট হলেও তাদের দৌরাত্ম্য থামাতে কর্তৃপক্ষের কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালের বারান্দায়,রোগী ভর্তির কাউন্টারে কিংবা আউটডোরে সর্বত্রই দালালদের বিচরণ। এক শ্রেণির চিকিৎসক থেকে শুরু করে নার্স,ওয়ার্ড মাস্টারসহ প্রশাসনের সবার সাথেই রয়েছে তাদের ভালো সখ্যতা। মূলত বেশি মুনাফার লোভে রোগীদের ভুল তথ্য দিয়ে পরিচিত ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধের দোকানে নিয়ে গিয়ে ওষুধ কেনানোর কাজটিই মূলত তারা করে থাকে। আর এদের দৌরাত্ম্যে ভোগান্তির শিকার হতে হয় রোগীদের। অনেক সময় ভুল চিকিৎসায় জীবনহানির মত ঘটনাও ঘটে। এমনকি মৃত রোগীকে মাইক্রোবাসে করে বাইরে নেয়ারও ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটও রয়েছে তাদের। এতকিছুর পরও ওই দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এদিকে,রামেক হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বেসরকারি ক্লিনিক, চেম্বার, ডায়াগনস্টিক সেন্টার। রামেক হাসপাতালের আশপাশে গড়ে ওঠা এসব অসংখ্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘিরে রোগী ধরা দলাল চক্রের দৌরাত্ম্য চরমে। জানাগেছে,দালালদের বাড়ি হাসপাতাল পার্শ্ববর্তী এলাকায়। বিশেষ করে নগরীর হেতেম খাঁ, সিপাইপাড়া ও লক্ষ্মীপুর বাজার এলাকায়। এরা হাসপাতালের প্রশাসনের নাকের ডগায় হাসপাতালে ভালো চিকিৎসাসেবা নেই বলে কতিপয় চিকিৎসকের সহায়তায় রোগী বের করে নিয়ে গিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি করানোর কাজ করছে। পরীক্ষার-নিরীক্ষার জন্য চিকিৎসকদের পরিচিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হাসপাতালের রোগি নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করানোর কাজটিও করছে। আবার রোগীদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে গিয়ে পরিচিত দোকান থেকে নিম্নমানের ওষুধ বেশি দাম দিয়ে কিনে দেয়ার কাজটিও তারা করছে। নাটোর থেকে জরুরিভাবে রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসেন আব্দুস সাত্তার। তার ছেলে রুবেল দুর্বৃত্তের হামলায় মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। ওই হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেয়ার সময়ই এখানকার দালালচক্র জেনে যায়। রোগী রামেক হাসপাতালে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে দালালরা রোগী ওয়ার্ডে চলে যায়। আর একজনকে বলে দেয় ভর্তির কাগজ নিয়ে আসার জন্য। পরে দালালটি প্রেসক্রিপশন নিয়ে গিয়ে নিজের ঠিক করা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে নিয়ে চলে আসে। বিষয়টি খুবই দ্রুততার সাথে করে দালালরা। ফার্মেসির দোকান থেকে অতিরিক্ত টাকার মেমো করেই নিয়ে আসে। তখন স্বজনরা বাধ্য হয় টাকাটা দিতে। পরে ওই প্রেসক্রিপশন নিয়ে একটি ফার্মেসিকে দেখানো হলে তার অর্ধেক দামের কথা বলা হয়। পরে চেষ্টা করেও ফার্মেসি থেকে বাকি টাকা ফেরত পাননি তারা। এসব কাজে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের একটি অংশই প্রধানত সহায়তা করে থাকে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ লেখা হয়,আবার অতিরিক্ত দামও আদায় করা হয়। লক্ষ্মীপুরের এ রকম একটি ফার্মেসির দোকানদার জানন,এখন প্রতিযোগিতার যুগ। প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে দালাল নিয়োগ ছাড়া কাস্টমার পাওয়া কঠিন। এইজন্য দালালরা কমিশনও পান। তবে যা দাম তাই নেয়া হয়। হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন তৌফিক এলাহী। তার বেশ কয়েকটি টেস্ট দেয়া হয়েছে। তিনি হাসপাতালেই টেস্টগুলো করাতে চান। কিন্তু তার চিকিৎসক তাকে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে টেস্টগুলো করিয়ে আনতে বলেন। ফলে বাধ্য হয়েই ওই রোগী পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকেই টেস্টগুলো করিয়ে আনেন। এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির ফলে ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের সাথে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ও নার্সদের হাতাহাতির ঘটনা লেগেই আছে। মাঝে মাঝেই শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এমনকি তা হাতাহাতিতেও রূপ নেয়। কোনো রোগীর মৃত্যু হলে স্বজনদের বড় ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিশেষ করে হত্যা বা আত্মহত্যার ক্ষেত্রে মৃতের স্বজনদের হয়রানির শেষ থাকে না। মৃত রোগীকে নিজ গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতালের ভেতরে ড্রাইভারদের যে সিন্ডিকেট আছে তার বাইরে অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স কিংবা মাইক্রোবাসে মৃত ব্যক্তির মরদেহ নিতে দেয়া হয় না। স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ ভাড়া বেশি দিয়ে রোগিকে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যেতে হয়। এমনকি হাসপাতাল থেকে মৃতের ছাড়পত্র পেতেও গুণতে হয় মোটা অংকের টাক। এবিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, ৫৫০ শয্যা থেকে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১২০০ শয্যা করা হয়েছে।৩০টি ওয়ার্ড থেকে বেড়ে বর্তমানে হাসপাতালের ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৭টি। শয্যা ও ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানো হলেও সে অনুপাতে বাড়ানো হয়নি জনবল। তবে দালালদের বিষয়টি অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানান, তারা এসব রোগী ধরা দালারদের ধরতে তৎপর। তবে অনেক সময় প্রতারিতরা কোন তথ্য কিংবা অভিযোগ দেন না। তাই এসব দালাল ধরা পড়লেও দু’এক দিনের মধ্যে হাজত থেকে বেরিয়ে এসে আবারও দালালী শুরু করেন।#

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
রাজশাহী বিভাগ বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে