১লা জুন, ২০২০ ইং ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরগুনায় প্রধান মন্ত্রীর উপহার নগদ অর্থ ইমামদের হাতে... মানিকগঞ্জে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ২৪ জন সহ মোট আক্রান্ত... মতলবের কৃতি সন্তান পাপ্পু করোনায় আক্রান্ত রোগমুক্তি... চাঁদপুরে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে কর্মহীন ব্যক্তির ঘরে খাবার... গলায় ভর দিয়ে লিখেই এসএসসি পাশ করেছে শফিক

রামগড়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে মাদক ও অবৈধ চোরাচালান, অধরা মূল হোতারা

 এম. সাইফুল ইসলাম,খাগড়াছড়ি। সমকালনিউজ২৪

ঈদকে সামনে রেখে দেশে প্রতিদিন ভারত থেকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ শাড়ী, তৈরি পোশাক, মাদক ও অন্যান্য সামগ্রী আসছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড়ের চোরাকারবারীরাও সীমান্তপথ ব্যবহার করে দেদারছে এসব পণ্য রামগড়ে আনছেন এবং সুযোগ বুঝে মালামালগুলি আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে ফেনী-চট্রগ্রাম পাঁচার করছেন। আর বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এসব কাজে জড়িত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ও পুলিশের অভিযানে এসব পণ্য মাঝেমধ্যে আটক হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সম্প্রতি এসব পণ্য আনার পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

গত ২৮ মে মঙ্গলবার সকালে রামগড় পৌরসভার বল্টুরাম টিলায় ৪৩ বিজিবি’র নায়েক সুবেদার রুহুল আমীন ও রামগড় থানার এসআই সালেহ আহমেদ এর নেতৃত্বে যৌথদল উপজেলার বল্টুরাম এলাকার মো: তোতা মিয়ার দোকানে তল্লাশি করে ১৩ বস্তা ভারতীয় শাড়ী কাপড়, ১০ গাইট ভারতীয় আতশবাজী এবং ১ নং পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগ সভাপতি মো: দেলোয়ার হোসেনের বাড়ী থেকে ১ বোতল ভারতীয় অফিসার্স চয়েস ব্যান্ডের মদ, ১টি মদের বোতলের কভার, ২টি ইয়াবা সেবন করার রাং ও ১ টি খেলনা এসএমজি উদ্ধার করে। ২৫ মে ভারতীয় গরু এবং এর কিছুদিন আগে গর্জনতলী এলাকা থেকে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের ভেষজ অষুধ ও কাপড় উদ্ধার করে বিজিবি’র সদস্যরা। অবৈধ পণ্য আটক হলেও যথেষ্ট স্বাক্ষ্যপ্রমান থাকার পরেও এর সাথে জড়িতরা আইনের আওতায় আসছেনা। বরং তারা আরও উৎসাহ উদ্দীপনায় মাদকসহ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযুক্ত তোতামিয়ার দাবী দোকার ঘরটি কাউন্সিলরের ভাই আনোয়ার তার থেকে ভাড়া নিয়েছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী দোকানের মালামাল ভাড়াটিয়ার। অপর অভিযুক্ত কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা দেলোয়ারের নম্বরে একাদিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিজিবি সূত্রে জানা যায় চোরাকারবারিরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করায় বিজিবিকেও কৌশল পাল্টাতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সফল অভিযান চালানো হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, তবে গত ২৮ মে মঙ্গলবারের চালানো অভিযানে বিপুল পরিমান ভারতীয় অবৈধ মালামাল উদ্ধার ও প্রত্যক্ষ আসামী থাকলেও তাদের নামে এখনো পর্যন্ত থানায় কোন মামলা বা কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি বরং প্রকাশ্যেই দাম্ভিকতা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আসামীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

স্থানীয় কাউন্সিলরের বাড়ি হতে মদ ও খেলনা এসএমজি এবং তার ভাইয়ের গোড়াউন থেকে এসব মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় কেন এখনো পর্যন্ত প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি তা নিয়েও রয়েছে ব্যাপক প্রশ্ন। অসমর্থিত কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় জড়িত কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগ সভাপতি মো: দেলোয়ার হোসেনকে প্রশাসন তাৎক্ষনিক গ্রেফতার করলেও থানার গেটে পৌঁছার আগেই অদৃশ্য কোন ফোনকলে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

এছাড়া ১ নং পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগ সভাপতি মো: দেলোয়ার হোসেনের ভাই আনোয়ার হোসেন এলাকায় মাদক ও অবৈধ পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত হলেও অদৃশ্য কারণে সে প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদক ব্যবসায়ী ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানীরা যথেষ্ঠ প্রভাবশালী ও তাদের সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকায় স্থানীয় সাংবাদিকরাও তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে বাধাগ্রস্থ হচ্ছেন।

সম্প্রতি রামগড়ে বেড়ে যাওয়া মাদক ও ভারতীয় মালামাল পাচার জনমনে এক অজানা শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কিছু অসাধু কর্মকর্তা এসব চোরাকারবারীদের বর্ডারে মালামাল খালাস থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছা পর্যন্ত দিয়ে থাকে নিরাপত্তা। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের কোন কর্মকর্তাই দিতে পারেননি সদুত্তর। এমনকি মালামাল উদ্ধারকারী খোঁদ বিজিবি গত ৩ দিনেও শেষ করতে পারেনি মালামাল সিজ করা ও ঘটনার পূর্নাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করতে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মোঃ ফরহাদ জানান, মঙ্গলবারের অভিযানটি মূলত নেতৃত্ব দিয়েছে বিজিবি। আমার জানামতে তারা এখনো এবিষয়ে মামলা করেন নি। তবে মাদক ও চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
খাগড়াছড়ি বিভাগের সর্বশেষ
খাগড়াছড়ি বিভাগের আলোচিত
ওপরে