২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বগুড়ার অ’বৈধ স্থা’পনা উ’চ্ছেদ করলেন ইউএনও ভ্রা’ম্যমান আদালত অ’ভিযান চালিয়ে দু’টি... ছাত্র-ছাত্রীদের ভোটের মাধ্যমে সেরা শিক্ষক নির্বাচিত স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তী রানী’র হ’ত্যাকারীদের ফা’সির... ভূরুঙ্গামারীতে কিশোরীকে ধ’র্ষণ শেষে হ’ত্যার...

রিপ্রেজেন্টেটিভদের দৌরাত্ম্যে’বাগমারার ভবানীগঞ্জ সাব সেন্টারে সকাল এগারোটার আগেই ওষধ শেষ

  সমকাল নিউজ ২৪

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স,বাগমারা রাজশাহী থেকে:
বাগমারা উপজেলার হেডকোয়ার্টার ভবানীগঞ্জ মেডিকেল সাব সেন্টারে বেলা এগারোটার আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে ওষধ। দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগিরা ভ্যান ভাড়া করে এসেও ওষধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এছাড়া এই মেডিকেল সেন্টারটিতে বিভিন্ন ওষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের জ্বালাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারন রোগিরা। ডাক্তারদের জন্য বিভিন্ন লোভনীয় পুরস্কার আনায় এবং বিভিন্ন ওষধের ফ্রি সেম্পল প্রদান করায় ডাক্তারাও রোগিদের প্রতি মনোযোগ না দিয়ে ওষধ কোম্পানীর লোকদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা এগারোটার দিকে সরেজমিনে মেডিকেল সেন্টারটিতে গিয়ে রোগিদের এমন দূর্ভোগের বিষয়টি লক্ষ করা গেছে। দূর্ভোগের শিকার ১০/১২ জন রোগি ও তাদরে স্বজনরা জানান, এখানে অতি সকালে এসে তারা লাইন ধরে বসে থাকেন। মেডিকেল সেন্টার খোলার সাথে সাথে দু’একজন রোগি দেখার পর পর তাদের ওষধ দিয়ে বাকিদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। বলা হয় ওষধ শেষ হয়ে গেছে। তার পর থেকে দলে দলে রোগিরা গিয়ে শুধু ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চলে যান। তাদরেকে বাইরে থেকে ওষধ কেনা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। অভিযোগ রয়েছে এখানে নির্ধারিত সময়ে প্রতি দুই মাস তিন মাস অন্তর অন্তর যে ওষধের বরাদ্দ দেওয়া হয়। তা শুরুতেই গায়েব হয়ে যায়। তার পর থেকে এখানে শুধু রোগি আসে আর যায় কেউ ওষধ পায় না। রোগিদের অভিযোগ, উপজেলার একমাত্র মেডিকেল হাসপাতালটি উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ থেকে প্রায় ৪ কিঃমিঃ দূরে বাগমারা নামক গ্রামে হওয়ায় অধিকাংশ রোগিরা সাব সেন্টারের ওপর ভরসা করে থাকেন। দূরত্বের কারণেও অনেক রোগি বাগমারা যেতে চান না । ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চাঁনপাড়া মহল্লার আটো চালাক ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, এখানে সকাল বিকাল বলে কোন কথা নেই । যখনই আসি বলা হয় ওষধ শেষ। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা পৌরসভার অতি নিকটে থেকেও সামান্য অসুখ বিসুখে এখানে এসে কোন সেবা এমনকি কোন ওষধও পাইনা। তাহলে কি এখান থেকে ওষধ পাচার হয়ে যায়। প্রায় একই অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে একই গ্রামের আরেক অটো চালাক আব্দুস সামাদ ও যাত্রাগাছি গ্রামের জাহানারা বিবি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে শরীরে প্রচন্ড জ্বর ও গায়ে বাঁধা নিয়ে তারা এসেছিন এই মেডিকেল সেন্টারে। সকাল ১০টার আগে আসলেও তাদের বলা হয়েছে ওষধ শেষ। বাইর থেকে ওষধ নেওয়ার জন্য তাদেরকে একটা চিরকুট ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা প্রায় বারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে এই মেডিকেল সেন্টারটিতে প্রায় অর্ধশতাধিক রোগিদের এমন দূর্ভোগের দৃশ্য চোখে পড়ে। এছাড়া এই মেডিকেল সেন্টারটিতে রয়েছে বিভিন্ন ওষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের ব্যাপক চাপ। সাধারন রোগিদের অভিযোগ, এসব ওষধ কোম্পানীর প্রতিনধিরা আসলে ডাক্তাররা রোগিদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে ওইসব প্রতিনিধিদের নিয়ে ঘন্টাব্যাপি খোস গল্পে মেতে ওঠেন। ফলে রোগিরা আর ডাক্তারের সাক্ষাত পায় না । অভিযোগ রয়েছে, এসব মেডিকেল প্রতিনিধিরা ডাক্তারদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষনীয় পুরস্কার ও ওষধের ফ্রি সেম্পল বিতরণ করায় ডাক্তাররা তাদেরকেই বেশি প্রধান্য দিয়ে থাকেন। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ভবানীগঞ্জ মেডিকেল সাব সেন্টারের উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাঃ লোকমান আলী বলেন, এখানে ওধষের প্রাপ্যতা অনুযায়ী রোগিদের ব্যাপক চাপ থাকায় সবাইকে ওষধ দেওয়া সম্ভব হয়না । তবে আমরা সবাইকে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে রোগি দেখার সময় মেডিকেল প্রতিনিধিদের সময় দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা করা উচিত নয়। এত রোগিরা সঠিক মানের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে তাদের আরো যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা মেডিকেলের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ারুল কবীর বলেন, আমরা নিদৃষ্ট সময় মেয়াদের ভিত্তিতে ওষধের বরাদ্দ পেয়ে থাকি। সেই হিসাবে প্রতিদিরে জন্য একটি নিদৃষ্ট পরিমান ওষধ বিতরণ করা হয়। তার বেশি রোগি হলে আমাদের করার কিছুই থাকে না। তবে ভবানীগঞ্জ সাব সেন্টারটি উপজেলা হেডকোয়ার্টার ও একটি জনবহুল স্থান হওয়ায় এখানে ওষধের বরাদ্দ বেশি দেওয়া হলে আরো অধিক সংখ্যক রোগিকে পরামর্শসহ ওষধ দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। এছাড়া রোগি দেখার সময়ে মেডিকেল প্রতিনিধিদের সাক্ষাত বিষয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কোঠোর নির্দেশনা রয়েছে কোন অবসস্থাতেই রোগি দেখার সময়ে কোন ওষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিকে রুমে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে আমরা প্রতিটি মিটিংয়ে সকল ডাক্তারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিছু দিন চলার পর ওই নির্দেশনা কোন ডাক্তার আর মানেন না । তবে বিষয়টি আরো কঠোর ভাবে মনিটরিং করা হবে বলে তিনি জানান।#
ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড়ের রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ
বাগামারা প্রতিনিধি: উপজেলার হেডকোয়ার্টার ভবানীগঞ্জ সদরের ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড়ের সারÍাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করেছে। এ দিকে রাস্তাটি সংস্কারে উদ্যোগ গ্রহন করায় ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও ভবানীগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার প্রায় সাত হাজারের অধিক শিক্ষার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। রাস্তাটি সংস্কারের উদ্দেশ্যে গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের উপসহকারি প্রকৌশলীরা রাস্তাটি পরিমাপ করেন। শিক্ষাথীর্, স্থানীয় লোকজন ও উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড় থেকে কাচারীকোয়ালীপাড়া ইউনিয়নের মোহনপুর পর্যন্ত রাস্তাটির দূরত্ব প্রায় ৪ কিঃমিঃ। এর মধ্যে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার মধ্যে দুই কিঃমিঃ রয়েছে। উভয় সীমানার ৪ কিঃমিঃ রাস্তাটি দীর্ঘ দশ বছর অতিক্রান্ত হলেও কোন সংস্কার না হওয়ায় নানান খানাখন্দে রাস্তাটি জরাজীর্ন হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিপাতেই রাস্তাটি দিয়ে চলাচল দূরহ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড় থেকে ভবানীগঞ্জ স্লুইস গেট পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা একবারে নাজেহাল। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয় ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ভবানীগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার প্রায় সাত হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০/৬০ জন শিক্ষার্থীরা জানান, এ টুকু রাস্তা পার হয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে আসা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বৃষ্টি নামলে এবং কলেজ মোড়ে ভ্যান ও অটোর কারণে তীব্র জ্যামের সৃষ্টি হয়। তখন তাদের কোন উপায় থাকে না । সেখানে অনেক সময় তাদের আটকা থাকতে হয়। তখন পরীক্ষার সময় হলে তাদের দুশ্বিন্তার সীমা থাকে না । ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ হাতেম আলী জানান, আগামী এপ্রিল মাস থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শরু হবে। আমরা পরীক্ষা এবং ছাত্রছাত্রীদের দূর্ভোগের বিষয়টি উপাজলা আইন শৃঙ্খলার সভায় তুলে ধরেছি। ইউএনও জাকিউল ইসলাম রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ন হওয়ায় যত দ্রুত সম্ভব এই কাজটি করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন জানান, ভবানীগঞ্জ কলেজে মোড় থেকে মোহনপুর পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার করতে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হবে। আমরা এই কাজের একটি এষ্টিমেট তৈরি করে পাঠিয়েছি। এটি আনুমোদন হয়ে আসলেই যথা নিয়মে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
রাজশাহী বিভাগ বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে