৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং ২৩শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
কোটচাঁদপুরে করোনা প্রতিরোধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের... করোনা ভাইরাস রোধকল্পে নির্দেশনা না মানায় ৫৩ জনকে... রাঙ্গাবালীর মানচিত্রে মৌডুবী নামে যুক্ত হলো একটি নতুন... বরগুনায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও হোম কোয়ারেন্টাইন না... অবশেষে বিয়ের আগেই মৃ’ত সন্তান প্রসব, দুলাভাই আটক

শিকলে বন্দি দিন কাটছে মানসিক প্রতিবন্ধি মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিমা’র

  সমকালনিউজ২৪

আরিফুল ইসলাম সুজন, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) থেকেঃ

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল বুরুজের পাড় গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী মানসিক প্রতিবন্ধি ফাহিমার গেল ৩ মাস ধরে শিকল বন্ধি অবস্থায় রয়েছে। কাঁচকোল বুরুজের পার গ্রামের ঈমাম মৃত: নুরুজ্জামান এর মেয়ে। অভাবের সংসারে ৮কন্যাসহ ১০জনের পরিবার। এরমধ্যে ফাহিমা ছিল ৫ম নম্বর কন্যা। ফাহিমা সাধারণ মানুষেরই মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন ছিল তার। মেধাবি শিক্ষার্থী হিসেবে বেশ পরিচিত ছিল ফাহিমার। সে কাঁচকল খামার ছকিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৯৬সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করে। আকষ্মিকভাবে বাবা নুরুজ্জামান পার‌্যালাইসিস আক্রান্ত হয়ে পড়ে। একজনের উপার্জনক্ষম সংসারে নেমে আসে অভাব। সংসার চালাতে ফাহিমা পাড়ি জমান চট্রগ্রামে। সেখানে একটি গার্মেন্টসে চাকুরি নেয় ফাহিমা। চাকুরিরত অবস্থায় এইচএসসিতে ভর্তি হয় ফাহিমা। এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অসাধু পন্থা অবলম্বন করায় তাকে বহিঃস্কার করা হয়। তখন থেকেই ভেঙ্গে পরেন ফাহিমা। পুনরায় চাকুরিতে চলে গিয়ে এর কয়েক মাসের মাথায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে থাকে ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের পাশেই খড়ের বেড়া বেষ্টিত ভিতরে ছোট্ট একটা টিনের চালায় বসবাস ফাহিমার। বাড়ীর ভিতরে খুটির সাথে লোহার তালা বন্দি শিকলে বাঁধা ফাহিমা। পায়ের সঙ্গে লাগানো লোহার শিকলই সারাদিন কাটছে ফাহিমার। শিকলের দাগে পায়ে ক্ষত পড়তে শুরু করেছে। দিন-রাতে সবসময় শিকল বন্দি থাকে ফাহিমা। বাকি বোনদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফাহিমার দিন কাটছে ৬৫ বছর বৃদ্ধ মায়ের সাথে। এই বৃদ্ধ মায়েই তার দেখা শোনা করেন।

ফাহিমার মা রাবেয়া বেগম জানান,জায়গা জমি সবই ছিল। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে সব শেষ হয়ে গেছে। ফাহিমার বাবা মসজিদের ঈমামতি করেই সংসার চালাতেন। সে অসুস্থ হবার ২০১৫সালে মারা যান। পরীক্ষায় বহিস্কার হওয়াসহ পারিবারিক সমস্যার কথা ভেবে ভেবে মেয়েটি এখন মানসিক প্রতিবন্ধি। সবসময় কথা বলতেই থাকে। নিজেই নিজের হাত-পা কামড়ায়, শরীর থেকে কাপড় চোপড় খুলে ফেলে। সুযোগ পেলেই বাসা থেকে পালিয়ে যায়। কয়েকদিন আগেও সে বাসা থেকে পালিয়ে গেছিলো। অনেক কষ্টে খোঁজাখুঁজির পর তাকে পাওয়া যায়। তাই কয়েক মাস ধরে তাকে শিকলে বন্ধি করে রেখেছি। অর্থের অভাব থাকলেও অনেক চেষ্টা করছেন চিকিৎসার । স্থানীয় মানসিক চিকিৎসক আমজাদ হোসেনের নিকট প্রায় ১ বছর চিকিৎসা করা হয়েছে। পরে টাকা না থাকায় পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠান। সেখানেও টাকার অভাবে তাকে রাখেতে পারেননি। আবার তাকে ফেরত নিয়ে আসা হয়। এখন অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা সম্পুর্ন বন্ধ।

ফাহিমার ছোট বোন ফেরদৌসী বেগম বলেন,ফাহিমা আপা খুব মেধাবি ছিলেন। সব বুঝতেন তিনি। সংসার ভাল না চলার কারণে এসএসসি পাশ করে চট্টগ্রামে যান গার্মেন্টসে চাকুরি করতে। আমাদের বোনদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ফাহিমা আপা একটু আবেগ প্রবণ ছিল বেশি। সংসারে অভাব,পরীক্ষায় এক্সফেল হওয়া এবং বাবা’র মৃত্যু সবকিছু মেনে নিতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। অভাবে কারণে সঠিক চিকিৎসা করাতে না পেরে দিনদিন ফাহিমা আপা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বোনদেরও সংসারে নেই স্বচ্ছলতা। বাকি বোনদের সহযোগিতা আর মায়ের বয়স্ক ভাতা এবং ফাহিমার প্রতিবন্ধি ভাতা দিয়েই চলছে সংসার।

রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন,বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি খোঁজখবর নিয়ে পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন এই জনপ্রতিনিধি।

পরে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ, ডব্লিউ, এম রায়হান শাহ বৃহঃস্পতিবার ফাহিমাকে দেখতে যান এবং তাকে সাময়িক ভাবে শিকল বন্দি থেকে মুক্তি দেন এবং তার উন্নত চিকিৎসা করানোর জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর আশ্বাস দেন।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
কুড়িগ্রাম বিভাগের সর্বশেষ
কুড়িগ্রাম বিভাগের আলোচিত
ওপরে