২৬শে জুন, ২০১৯ ইং ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
মনোহরগঞ্জে বসত বাড়িতে সশস্ত্র হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট বরগুনায় নয়ন বন্ডের দায়ের কোপে রিফাতের মৃত্যু! বগুড়ায় ছিনতাই আক্রমনে আহত ৪ দা দিয়ে কুপিয়ে যাচ্ছিল দুই সন্ত্রাসী, যার ভিডিও... বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউপির উন্মুক্ত বাজেট...

শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে ঝাঁড়ু মিছিল,সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মানববন্ধন

 সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট সমকাল নিউজ ২৪

বাগেরহাটের শরণখোলার আমড়াগাছিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে ছাত্র/ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, ঝাঁড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করেছে।

এসময় অভিভাবকসহ শত শত সচেতন মানুষ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহফুজুর রহমান প্রিন্সের বহিস্কার দাবী করেন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশ ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটি সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচী তুলে নেয়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাইয়েদুর রহমানের ছেলে ওই বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মাহফুজুর রহমান প্রিন্স গত সোমবার দুপুরে এক কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ে। একই গ্রামের রাসেল খানের বাড়ি থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে ধরে গণধোলাই দেয়।

খবর পেয়ে শরণখোলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক প্রিন্সকে জনতার রোষানল থেকে উদ্ধার করে কলেজ ছাত্রীসহ তাকে থানায় নিয়ে আসে। এঘটনায় মেয়ে পক্ষের কোনো অভিযোগ না থাকায় পরে প্রিন্সকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

কিন্তু, এঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ চরম ক্ষুব্ধ হয়। তাদের দাবী চরিত্রহীন কোনো ব্যক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারেনা। একারণে ঘটনার পরের দিন সকাল থেকে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সবাই। ওই শিক্ষকের বহিষ্কারসহ সুষ্ঠু বিচারের দাবী জানায় তারা। অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে এর আগে ওই শিক্ষককে আরো দু-দুইবার বহিষ্কার করা হয়েছিলো বলে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন।

ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার, হাবিবা আক্তর, অর্পিতা রাণী, সোলায়ান হোসেন, সপ্তম শ্রেণির মুন আক্তার, সাদিয়া আক্তার, সাব্বির ফরাজীসহ বিক্ষোভকারী ছাত্র/ছাত্রীরা জানায়, তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজুর রহমান প্রিন্স একজন চরিত্রহীন লোক। তার কাছে কেউ নিরাপদ নয়। তার মতো শিক্ষক থাকলে বিদ্যালযের পরিবেশ নষ্ট হবে। তার এমন কর্মাকান্ডের বিচার ও স্থায়ী বহিষ্কারে দাবী জানায় শিক্ষার্থীরা।

এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ ঝাঁড়ু হাতে নিয়ে আমড়াগাছিয়া বাজারের সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করে ওই শিক্ষকের বহিষ্কার দাবী করে বিক্ষোভ করতে থাকে।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক সুরাইয়া পারভিন, রুহুল আমীন মাসুদ, সীমা বেগম, নজরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, শিক্ষক প্রিন্সের স্ত্রী-সন্তান থাকতেও এভাবে একের পর এক অঘটন ঘটিয়ে পার পেয়ে যাওয়া সে আরো বে-পরোয়া হয়ে উঠেছে। ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকদের চিন্তায় থাকতে হয়। তার মতো চরিত্রহীন শিক্ষক এই বিদ্যালয়ে থাকলে আমাদের মেয়েদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে যাবো। আমরা তার বিচার দাবী করি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সরোয়ার হোসেন খান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এব্যাপারে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. সহিদ হোসেন বাবুল বলেন, মাহফুজুর রহমান প্রিন্সকে একই অভিযোগে এর আগে আরো দ্ইুবার বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু, পরবর্তীতে অভিযোগকারীরা তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করায় সে আবার পুনর্বহাল হয়। তার বিরুদ্ধে শক্ত কোনো অভিযোগকারী না পাওয়ায় সে বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে। এবার তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমার সরকার বলেন, আন্দোলকারীদের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে তার কর্মসূচী প্রত্যার করে। সোমবার দুপুরে শিক্ষককে মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। কিন্তু কেউ অভিযোগ না করায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ শতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।

তবে, অভিযুক্ত শিক্ষক মাহফুজুর রহমান প্রিন্স জানান, ওই কলেজ ছাত্রী তার বিবাহিত স্ত্রী। কিছুদিন আগে তারা রেজিস্ট্রি করে নয়, কালিমা পড়ে বিয়ে করেছেন। তিনি তার এই দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন। এসময় তার শত্রুপক্ষ তার ওপর অহেতুক হামলা চালায়।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
Uncategorized বিভাগের সর্বশেষ
ওপরে