১৪ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরগুনায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত... বরগুনায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জ॥... আমতলীতে সময় মেডিকেয়ার এন্ড হসপিস এর ক্লিনিক্যাল... ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে... সনাতন ধর্মালম্বিদের আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা

শুধু বাস ভাড়ার টাকা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম: চঞ্চল চৌধুরী

 অনলাইন ডেস্ক সমকালনিউজ২৪

সাধারণ মানুষের মতোই আমার বেড়ে ওঠা। তবে মিডিয়ায় আসার পথটা আমার মসৃণ ছিল না। সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের উদয়পুর হাইস্কুলে পড়াশোনা করতাম। বাবা রাধাগোবিন্দ চৌধুরী ছিলেন স্কুলের শিক্ষক। তিনি সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই বলা যায়, সাংস্কৃতিক আবহের ভেতর দিয়ে আমার বেড়ে ওঠা।

তবে গান-বাজনা আর অভিনয়ের মন্ত্রটা পেয়েছি বড় বোনের দেবর অপূর্ব কান্তি সাহার কাছে। মা-বাবার ইচ্ছা ছিল, আমি প্রকৌশলী হবো। কিন্তু কলেজে পড়া অবস্থায় স্বপ্ন দেখি ভবিষ্যতে হয় শিল্পী হবো, না হয় ছবি আঁকব বা অভিনয় করব।

এরপর ঢাকায় চলে আসি। শুধু বাস ভাড়া নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম। আমরা আট ভাইবোন। চার ভাইবোন তখনও পড়ালেখা করি। চারজনের পড়াশোনার খরচ বাবার পক্ষে চালানো সম্ভব ছিল না। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক, বাবা তেমন একটা বেতন পেতেন না। নিজের খরচের টাকাটা নিজেই জোগাড় করতে টিউশনি করতাম। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করতে হয়েছে। পরে ১৯৯৩-৯৪ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই। এরপর হুট করেই আরণ্যক নাট্যদলে যোগ দিই। সেখান থেকে অভিনয়ের যাত্রা শুরু। ‘সংক্রান্তি’র মাধ্যমে প্রথমবার মঞ্চে অভিনয় করি।

টানা ১০ বছর মঞ্চে কাজ করি। এরপর মামুনুর রশীদ রচিত ‘সুন্দরী’ নাটকে সাংবাদিক চরিত্রে করা হয় প্রথম টিভি নাটকে অভিনয়। তারপর টুকটাক বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করতে থাকি। পাসিং ক্যারেক্টার। দূর দিয়ে হেঁটে যাওয়া। চেহারাও ঠিকভাবে দেখা যেত না। এরই মাঝে ২০০৫ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘মায়ের জন্য মোবাইল’ বিজ্ঞাপনটি যেন জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই বিজ্ঞাপনই যে আমাকে টেলিভিশন জগতে পেশাদার অভিনেতার দিকে ঠেলে দেবে তা ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি। পরে গিয়াস উদ্দিন সেলিম, সালাউদ্দিন লাভলুসহ নামিদামি পরিচালকের নাটকে কাজ করে পরিচিতি বাড়তে থাকে। তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘রূপকথার গল্প’-এর মাধ্যমে প্রথম সিনেমায় অভিনয় করি। এরপর একে একে ‘মনপুরা’, ‘টেলিভিশন’, ‘মনের মানুষ’, ‘আয়নাবাজি’, ‘দেবী’ আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

তবে ফারুকীর পরিচালনায় ওই বিজ্ঞাপনটির কথা আমার কখনোই ভোলা সম্ভব নয়। তখনও আমাকে এত মানুষ চিনত না। পাবলিক বাসেই চলাচল করতাম। একদিন বাসের পাশের সিটের এক লোক টলমল চোখ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে আমি স্বাভাবিকভাবে অবাক হয়ে গেলাম। আমি লোকটিকে জিজ্ঞেস করলাম, এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? লোকটি আমাকে বললেন, ‘ভাই, আপনি যে বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন তা আমি দেখেছি। সেটি দেখার পর আমিও মায়ের জন্য একটি মোবাইল ফোন কিনেছি। এই কথা বলার সঙ্গে লোকটি ঝরঝর করে কাঁদতে লাগলেন।’ সেদিনের ঘটনা সত্যিই কোনোদিন ভোলা সম্ভব নয়।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে