১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
সাংবাদিক জয়নাল এর মৃত্যুতে মিলাদ ও দোয়া  অনুষ্ঠিত বাজারে চাহিদার তুলনায় গরু বেশী শেষ সময়ে পশুর দাম কম দুর্গাপুরে ১০০ বল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্ভোধন শাহরাস্থিতে এবারও শ্রেষ্ঠ ভূমি কর্মকর্তার সম্মাননা... ছাতকে ভূমিহীন-গৃহহীন ৬৮ পরিবার পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর...

সংস্কারের অভাবে ধ্বংস হচ্ছে ইংলিশ টিলা ঘটতে পারে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা

 মীর আমান মিয়া লুমান,ছাতক প্রতিনিধিঃ সমকালনিউজ২৪

সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার পৌর শহরের বাগবাড়ী এলাকায় ঐতিহাসিক নিদর্শন ইংলিশ টিলার অবস্থান। জর্জ ইংলিশ নামের এক ইংরেজকে সমাহিত করা হয় এখানে। তার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য তার স্ত্রী হ্যানরি এই টিলার উপর ২৫ ফুট উঁচু ও সাড়ে চার ফুট চওড়া স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন। স্থাপনাটির রয়েছে অনেক ইতিকথা। এই টিলার চারপাশে বসবাস করে ৫০টিরও বেশি পরিবার। এদের ঘরবাড়ির ওপর এখন মারাত্মক বিপদ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে সৌধটি। সংস্কার না করায় ধ্বংস হচ্ছে ইংলিশ টিলা। মৃদুমাত্রার ভূমিকম্প ও ঝড়-তুফানে এটি ভেঙে পড়তে পারে। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

জানাযায়, শিল্পনগরী ছাতকে অনেক ব্রিটিশ ব্যবসায়ী আসতেন। তাদের মধ্যে এমন একজন ব্রিটিশ নাগরিক জর্জ ইংলিশ। তিনি ব্যবসায়িক উন্নতির কথা চিন্তা করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আহবানে স্বপরিবারে ছাতকে এসেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন নববিবাহিতা স্ত্রী হ্যানরী। এই অঞ্চলে তথা বাংলাদেশে প্রথম চুনাপাথরের সূচনা ব্যবসায়ী জর্জ-ইংলিশ। তার প্রচেষ্টায় ছাতকে চুনশিল্প বিকাশিত হয়। ব্রিটিশরা নিজেদের ব্যবসায়িক প্রয়োজনে রেল-কলকারখানাসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণ করায় ছাতক শিল্পশহরের মর্যাদা পায় কলোনি আমলে। জর্জ এখানে প্রায় ৫৬ বছর সুনামের সঙ্গে চুনাপাথর ব্যবসা করেন। স্থানীয়রা তাকে “সাহেব” বলে ডাকতেন। ১৮৫০ সালে এই সাহেব তার স্ত্রী হ্যানরী ও সন্তানকে রেখে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৬ বছর। স্বামীকে সমাহিত করে তার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য অনেকটা বর্গাকৃতির ২৫ ফুট উঁচু ও সাড়ে চার ফুট চওড়া সৌধটি নির্মাণ করেন হ্যানরী। সৌধটির গায়ে মার্বেল পাথরে খোদাই করা ইংরেজি হরফে এই দম্পতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লিপিবদ্ধ রয়েছে। স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে শেষ বয়সে হ্যানরীও চলে যান ব্রিটেনে। তিনি আর কখনো ফিরে আসেননি এই দেশে। পরবর্তীতে টিলাটি ‘ইংলিশ টিলা ও সৌধটি ‘সাহেব মিনার’ হিসেবে খ্যাতি পায়। এরপর থেকেই ইংলিশ টিলা ও সাহেব মিনারের গল্প ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। পরবর্তীতে পর্যটনে রূপ নেয় টিলাটি। ব্রিটিশরা শাসন গুটিয়ে নিয়ে চলে গেলে সরকারের মালিকানায় চলে যায় ইংলিশ টিলা। এরপরই শুরু হয় অবহেলা আর অনাদর। নির্মাণের প্রায় ১৭০ বছর অতিবাহিত হলেও খাঁটি নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও উন্নত ব্যবস্থাপনায় নির্মাণের কারণে এখনো অনেকটা অক্ষত আছে ‘সাহেব মিনার’। দেখাশেনার অভাবে হারিয়ে গেছে টিলার সৌন্দর্য্য। চারপাশে গড়ে উঠেছে প্রায় ৫০টি পরিবারের কাচা-পাকা ঘর। টিলার মাটি কেটে কেটে তৈরী করা হয়েছে আশেপাশের ঘরবাড়ি ও রাস্তা। মাটি কেটে অবৈধ বসতি স্থাপনা ও মাটি কেটে বিক্রির কারণে মাথার ওপর এখন বিপদ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে সৌধটি। সাহেব মিনারের গায়ে এখন বৃক্ষ গজিয়ে উঠেছে, চারদিকে ফাটল ধরেছে, ভেঙে পড়েছে কিছু অংশও। যেকোনো সময় পুরোটি ধসে পড়তে পারে। ঘটতে পারে মানুষের প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সংস্কার না করায় ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে ইংলিশ টিলা। তারপরও এর টিলাটি দেখতে এখনো দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন পর্যটকরা।

পাকিস্তান আমলে ১৯৬৮ সালে পৌর শহরের বাগবাড়ি গ্রামের আলহাজ্ব মৌলভী ফজল উদ্দিনের ছেলে হাজী আবুল মহসিন তৎকালীন সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ০৪/৬৩-৬৪ নং বন্দোবস্তনামা বলে সাহেব মিনারের ভূমি ইংলিশ টিলাটি ৩০বছর মেয়াদে ভূমিতে দালান ও বাগান করবেন ও বিভিন্ন শর্ত মেনেই বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু আদৌ তিনি এখানে কোন দালান বা বাগান করেননি। ১৯৮৭ সাল থেকে বন্দোবস্তের শর্ত লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে টিলার মাটি বিক্রি শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে চতুরতার সঙ্গে দ্বিতীয় মেয়াদে ১২ বছরের জন্য আবারও বন্দোবস্ত নবায়ন করা হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ সালের টিলা থেকে মাটি কাটতে গিয়ে নারায়ন তালুকদার নামক এক শ্রমিক মারা যান। এই অবস্থায় বাগবাড়ি গ্রামের হাজী মনির উদ্দিন ইংলিশ টিলার ভূমি রক্ষায় ১৯৮৭ সালে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে ইজারাদার ইজারা শর্ত ভঙ্গ করায় সরকার টিলার বন্দোবস্ত বাতিল করে সরকার নিয়ন্ত্রণ নেয় টিলার। উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে মামলা চলছে বলে জানাযায়।

এ ব্যপারে হাজী মনির উদ্দিন বলেন, হাইকোর্টের রায়ের ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত শেষ নথী সুনামগঞ্জে আসেনি। দ্রুত মামলা শেষ করার অনুরোধ জানান তিনি।

এ ব্যপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসলাম উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করতে একাধিকবার কল করলে, মোবাইলে রিং হচ্ছে কিন্তু কল রিসিভ করেন নি।

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নুরের জামান চৌধুরী বলেন, টিলা পরিদর্শেনের জন্য একটি টিম তৈরী করে পাঠানো হবে। পরিদর্শন টিম যেভাবে সংস্কার করার কথা বলবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
সুনামগঞ্জ বিভাগের সর্বশেষ
সুনামগঞ্জ বিভাগের আলোচিত
ওপরে