১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং ২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বগুড়ায় বিপুল পরিমাণ প্রাচীন নকল ধাতব মুদ্রাসহ... স্বরূপকাঠিতে ত্রাণ বিতরণে গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী —... ঠাকুরগাঁওয়ে অ’সামাজিক কার্যকলাপ বন্ধের দাবিতে... মতলব উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শাহিদুল ইসলাম শ্রীপুরে স্কুল ছাত্রীর আ’ত্মহ’ত্যা

সজিব খুনের ২০ দিন পর কবর থেকে লা’শ উত্তোলন; খু’নিদের ফাঁ’সির দাবীতে মানববন্ধন

  সমকালনিউজ২৪

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, টাঙ্গাইল –

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপনের দাবীতে কিশোর সজিবকে ঠান্ডা মাথায় খু’ন করেছে তার বন্ধুরা। ২০ দিন পর সজিবের লা’শ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ঘটনার পর খু’নিদের ফাঁ’সির দাবীতে আজ বুধবার বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসি লা’শ নিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

পুলিশ সুত্র জানায়, প্রতিশোধ নিতেই জোসের সঙ্গে ঘুমের ঐষধ মিশিয়ে সজিবকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয় খুনিরা। ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হওয়া কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য ও খু’নিরা চাঞ্চল্যকর সজিব হ’ত্যার ঘটনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ননা দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে। পুর্ব শক্রুতার জের এবং প্রতিশোধ নিতেই অপরনের পর সজিবকে নির্মম ভাবে খু’ন করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে লা’শ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে হ’ত্যার মুল পরিকল্পনাকারী আসামী আল আমিন টাঙ্গাইলের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মি. সুমন কর্মকারের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

অ’পহরনের পর ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপন চাওয়া ছিল তাদের সাজানো নাটক। কিশোর সজিবকে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপনের দাবীতে অ’পহরন এবং নির্মম ভাবে খু’নের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবীতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসি। সজিবের অসহায় পরিবার ও খু’নিদের ফাঁ’সির দাবী জানিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলার ৫ নং বানাইল ইউনিয়নের জীবন মিয়ার ছেলে সজিব মিয়া (১৭)। সজিবের পিতা জীবন মিয়া দীর্ঘ দিন দুবাই থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। সজিবের পিতা জীবন মিয়া, মা পারভীন বেগম, দাদী জবেদা বেগম এবং ইউপি সদস্য আবুল কাশেম জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য ও অ’পহরনকারী চক্রের সদস্যরা মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে সজিবকে অ’পহরন করে।

অ’পহরনের পর থেকেই মোবাইলে ১৫ লাখ টাকা মুৃক্তিপন দাবী করে তারা। মুক্তিপনের টাকা না দিলে সজিবকে হ’ত্যা করা হবে বলে হু’মকি দেয় অ’পহরনকারী দলের সদস্যরা। ছেলেকে জীবিত ফিরে পেতে হলে ১৫ লাখ টাকাই দিতে হবে বলে তারা সাফ জানিয়ে দেয়। সজিবের পিতা জীবন মিয়া গত ২৭ সেপ্টেম্বর মির্জাপুর থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেন। অ’ভিযোগ পাওয়ার পর মির্জাপুর থানা পুলিশ সজিবকে উ’দ্ধারের জন্য মাঠে নামেন।

টাঙ্গাইলের ডিবি পুলিশ (দক্ষিন) এবং মির্জাপুর থানা পুলিশের চৌকুস একটি দল মোবাইলের সুত্র ধরে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য ও অ’পহনের মুলহোতা দেওড়া গ্রামের আলামিন (৩২) কে প্রথমে মির্জাপুর নতুন বাস স্টেশন এলাকা থেকে গ্রে’ফতার করে। আলামিনকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অ’ভিযান চালিয়ে অ’পহরন ও খু’নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত পানিশাইল গ্রামের ছোবাহান মিয়ার ছেলে শামীম (২২), ভুষুন্ডি গ্রামের আবু সায়েদ মিয়ার ছেলে সাজ্জাত (২২), আবু হোসেনের ছেলে জুয়েল (২৪) এবং ফাজু মিয়ার ছেলে মোস্তাজ(২৮) কে গ্রে’ফতার করে।

মুল পরিকল্পনাকারী আল আমিন পুলিশের কাছে ও টাঙ্গাইলের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মি. সুমন কর্মকারের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। প্রতিশোধ ও হ’ত্যার উদ্যেশ্যেই সজিবকে অ’পহরন করা হয়েছিল। মু’ক্তিপনের ১৫ লাখ টাকা দাবী ছিল তাদের একটি সাজানো নাটক। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সজিবকে অ’পহরনের পর খু’ন করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে লা’শ লাউহাটি এলাকায় নিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

আসামীদের স্বীকারোক্তি নিয়ে পুলিশ লা’শ উ’দ্ধারের জন্য অ’ভিযানে যান। মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে নদীতে ভাসমান অবস্থায় একটি লা’শ উ’দ্ধার করে আনজুমান মফিদুলের সহযোগিতায় বেওয়ারিশ হিসেবে দা’ফন করে। আলামত হিসেবে প্যান্ট, শার্টসহ অন্যান্য জামাকাপড় থানায় ছিল। পুলিশ সজিবের বাবা-মা ও আত্বীয় স্বজনকে নিয়ে জামাকাপড় দেখিয়ে লা’শ সনাক্ত করেন।

সজিবের পরিবার মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের মাধ্যমে ম্যাজিষ্ট্রেট এর নিকট সজিবের লা’শ চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ বুধবার লা’শ উত্তোলন করে গ্রামে নিয়ে আসে। এ সময় সজিবের ক্ষত-বিক্ষত লা’শ দেখে স্বজন ও গ্রামবাসী কান্নায় ভেঙ্গে পরে। জোহরের নামাজের পুর্বে পাইকপাড়া স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে বিক্ষেুব্দ গ্রামবাসী খুনিদের ফাঁ’সির দাবীতে লা’শ নিয়ে মানব বন্ধন করে।

গত ৩ অক্টোবর সজিবের পিতা বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মা’মলা নং-৬। সজিবের পরিবার অ’ভিযোগ করেন, মা’মলায় যাদের আসামী করা হয়েছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদের পরিবর্তনের চেষ্টা করছে পুলিশ। সজিবের ছবি বুকে নিয়ে অসহায় মা পারভীন,বাবা জীবন মিয়া ও বৃদ্ধা দাদী জবেদা বেগম বার বার মুর্চা যাচ্ছে আর বলছে তোমরা আমাদের একমাত্র কলিজার টুকরা বুকের মানিক সজিবকে ফিরিয়ে এনে দাও। তাদের বুকফাটা কান্নায় চার পাশের বাতাস যেন ভারি হয়ে আসছে।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, সজিব খু’নের মুল রহস্য উদঘাটন হয়েছে। পুর্ব শক্রুতার জের ধরে ও খু’নের উদ্যেশ্যেই সজিবকে অ’পহরন করা হয়েছিল। ১৫ লাখ টাকা মু’ক্তিপন চাওয়া ছিল তাদের সাজানো একটি নাটক। সজিবকে যারা অ’পহরন করেছিল তারা সবাই সজিবের ঘনিষ্ট বন্ধু।

গ্রে’ফতারকৃত আসামীরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্ধি দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ত’দন্ত চলছে।

 

 

‘বিদ্রঃ সমকালনিউজ২৪.কম একটি স্বাধীন অনলাইন পত্রিকা। সমকালনিউজ২৪.কম এর সাথে দৈনিক সমকাল এর কোন সম্পর্ক নেই।’

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
টাঙ্গাইল বিভাগের সর্বশেষ
টাঙ্গাইল বিভাগের আলোচিত
ওপরে