২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং ৮ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

samakalnew24
samakalnew24
শিরোনাম:
বরিশাল শেবাচিমে ময়লার স্তূপে মিললো ২২ অপরিণত শিশুর... স্বামীর লাশ ওয়ারড্রবে রেখে অফিস করলেন স্ত্রী! ঐক্যফ্রন্টকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবিতে মানববন্ধন বন্য হাতির আক্রমণে নিহত জাসদ নেতা সাইমুন কনক

সত্যতা মিলেছে ধর্ষণের , সেই দুই পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার।

 অনলাইন ডেস্ক। সমকাল নিউজ ২৪

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপপুলিশ পরিদর্শক মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ডাকবাংলোতে আটকে রেখে এক তরুণীকে জোর করে ইয়াবা সেবন করিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশের তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী সোমবার রাতে অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাটুরিয়া থানাতেই মামলা দায়ের করেছেন।

এরপর রাতেই অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার পর রাতে ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়।

রোববার জেলা পুলিশ সুপারের কাছে নির্যাতনের শিকার ওই তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান ও ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হামিদুর রহমান সিদ্দীকী সোমবার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেন।

মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান জানান, সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় নিয়ে সোমবার তদন্ত করা হয়। তদন্ত কমিটির কাছে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী ঘটনার বর্ণনা দেন। ওই তরুণী পুলিশ সুপারের কাছে যে অভিযোগ করেছেন দিনভর প্রাথমিক তদন্তে তার সত্যতা পাওয়া গেছে।

এছাড়া তিনি সেকেন্দার হোসেন ও মাজহারুল ইসলামকে আসামি করে ওই তরুণীর মামলা করার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, মামলার পরই অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে রাখা হয়েছে। তাদের আজ মঙ্গলবার আদালতে তোলা হবে।

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক লুৎফর রহমান জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়।

ডাক্তারি পরীক্ষার সময় তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গাইনী কনসালটেন্ট নাসিমা আক্তার, দন্ত সার্জেন্ট ডাক্তার রফিকুল ইসলাম, রেডিওলজিস্ট ডাক্তার হেলাল উদ্দিন ভূইয়া। এই মেডিকেল বোর্ড দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান জানান, সোমবার রাতেই ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এরপর সে বাড়ি চলে যায়।

প্রসঙ্গত, উপপুলিশ পরিদর্শক সেকেন্দার হোসেন আশুলিয়া থানায় কর্মরত থাকার সময় এক নারীর কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে জমি কেনেন। কথা ছিল, জমি বিক্রির লাভ তাকে দেয়া হবে। সেই হিসাবে ওই নারী সেকেন্দার হোসেনের কাছে প্রায় তিন লাখ টাকা পান। কিন্তু টাকা না দিয়ে তিনি ঘুরাতে থাকেন। এরই মধ্যে পুলিশের এই উপপরিদর্শক সাটুরিয়া থানায় বদলি হয়ে আসেন।

গত বুধবার বিকালে এসআই সেকেন্দারের খোঁজে প্রতিবেশি এক ভাগ্নিকে নিয়ে সাটুরিয়া থানায় আসেন ওই নারী। সেকেন্দার ওই নারীকে টাকা দেবে বলে তাদের সাটুরিয়া ডাকবাংলোতে নিয়ে যায়। এরপর সন্ধ্যায় সাটুরিয়া থানার এএসআই মাজহারুল ইসলামকেও ডাকবাংলোতে নিয়ে যায় সেকেন্দার হোসেন।

সেখানে ডাকবাংলোর একটি কক্ষে টাকা পাওনাদার নারীকে আটকিয়ে রাখে তারা। আর অন্য কক্ষে ওই নারীর সাথে আসা তরুণীকে জোর করে ইয়াবা সেবন করায় পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা। এরপর ওই তরুণীকে দুই দিন ধরে সেখানে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করে।

Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ইমেইল থেকে
ওপরে